[b]ঢাকা:[/b] সারা দেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিএনপি জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার যৌথবাহিনী বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের অবরোধ চলাকালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
সাতীক্ষীরা : বিএনপি ও জামায়াতের ছয়কর্মীকে আটক করেছে যৌথবাহিনী।
আটককৃতরা হলেন, তালা উপজেলার মহান্দি গ্রামের জামায়াতকর্মী মীর আইয়ুব আলী, দেবহাটা উপজেলার সখিপুরের জামায়াতকর্মী সাইফুল ইসলাম, তৈলকুপি গ্রামের বিএনপি কর্মী লাকি গাজী ও খলিশখালির বিএনপি কর্মী নুর আলী মোড়ল, কলারোয়া উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের বিএনপি কর্মী আজগর দফাদার ও শ্যামনগর উপজেলার পার্শ্বেমারি গ্রামের বিএনপি কর্মী লিটন তরফদার।
জেলা পুলিশের তথ্যকর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে গাছ কাটা, ভাঙচুরসহ নাশকতার অভিযোগ রয়েছে।
লালমনিরহাট ও হাতিবান্ধা : মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা সদরের আলোরুপা মোড়ে বিএনপির মিছিলে ধাওয়া করে সুজিদ, ইসমাঈল হোসেন ও আবু সাঈদ নামে তিন বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার হাতিবান্ধা উপজেলা শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমকে হাতিবান্ধা থানা পুলিশ আটক করেছে। হাতিবান্ধার টংভাঙ্গা গ্রামের কাউন্সিলপাড়ার মোহাম্মদ আলী ওরফে বাচ্চা শেখের ছেলে জাহাঙ্গীর রাজশাহী সিটি কলেজের অনার্স শ্রেণীর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। হাতিবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাপস সরকার জানান, একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তাকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
চাঁদপুর : চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায় গত দুই দিনের সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে তিনটি মামলা করেছে। হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, এসআই মনির হোসেন ও এসআই নিজাম উদ্দিন বাদি হয়ে এ তিন মামলায় জামায়াত-বিএনপির নামধারী তিন শতাধিক নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গত সোমবার রাত থেকে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে হাজীগঞ্জ পৌর বিএনপি নেতা মনির হোসেন খানসহ এ পর্যন্ত হাজীগঞ্জ ও চাঁদপুর সদর থেকে ৩২ জনকে আটক করেছে।
খুলনা : জেলার ৯ থানায় বিশেষ অভিযানে আরো ৩১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুলনার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) আব্দুল কাদের বেগ বলেন, বটিয়াঘাটা থানায় পাঁচজন, ডুমুরিয়া থানায় চারজন, তেরখাদা থানায় দুইজন, দাকোপ থানায় দুইজন, দিঘলিয়া থানায় একজন, পাইকগাছা থানায় দুইজন, কয়রা থানায় ৯ জন, রূপসা থানায় চারজন ও ফুলতলা থানায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন মামলা ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে ডিএসবি সূত্র জানায়।
যশোর : গত মঙ্গলবার রাতে যশোরে বিএনপি ও ছাত্রশিবিরের ১১ নেতাকর্মীসহ ২৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অফিস সূত্র এ কথা জানিয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৯জন বিএনপির ও দুইজন ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় আরো ১৫ জনকে পুলিশ আটক করেছে।
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) : কমলনগরে ছাত্রশিবিরের দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে উপজেলার চরফলকন এলাকা থেকে শিবিরকর্মী মিজানুর রহমান (২২) ও মো: মিলনকে (১৮) আটক করে। কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হুমায়ুন কবীর জানান, ওই দুই শিবিরকর্মী হরতালে নাশকতার অভিযোগে থানায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি।
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) : দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় পুলিশ জামায়াত নেতা আব্দুল হাকিমকে (৪০) আটক করেছে। উল্লেখ্য গত ১০ অক্টোবর দর্শনায় শিবিরের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শিবিরকর্মী রফিকুল ইসলাম নিহত হন। পুলিশ বাদি হয়ে দামুড়হুদা থানায় ২৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে ৬৩৯ জনের নামে মামলা করে। তিনি এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
নোয়াখালী : গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত বিশেষ অভিযান চালিয়ে নোয়াখালীতে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ৯ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশ কন্ট্রোল থেকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে গত চার দিনে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৬ জনে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ১৮ দলের ১০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, নাশকতার অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।
সিলেট : জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৯ জনকে সিলেট মহানগর এলাকা এবং বাকি ২৮ জনকে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো: আয়ুব জানান, আটকদের মধ্যে দুইজন শিবিরকর্মী বলে জানান মহানগর পুলিশের ওই কর্মকর্তা। এ দিকে সিলেট জেলার সহকারী পুলিশ সুপার রওশনুজ্জামান সিদ্দিকী জানান, জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান চালিয়ে ২৮ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিভিন্ন নাশকতা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) : বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শরিফুল ইসলামকে বুধবার বেলা ৪টায় মড়লহাট থেকে পুলিশ আটক করেছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম বুধবার দুপুরে মড়লহাটে আত্মীয় বাড়িতে গেলে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীরা ওই বাড়িটি ঘেরাও করে তাকে টেনেহেঁচড়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার এসআই আব্দুস সবুর সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছেন, শরীফুলের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জামায়াতের জেলা ও উপজেলা নেতারা তীব্র নিন্দা জানিয়ে শরিফুল ইসলামের অবিলম্বে মুক্তির দাবি করেন।
ফেনী : বিএনপি-জামায়াতকর্মী মনে করে মঙ্গলবার রাতে ফেনী শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আরো পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদেরকে পুলিশের দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে গতকাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, পশ্চিম ছাগলনাইয়ার হাবিলদার রেহান উদ্দিনের ছেলে মো: একরামুল হক একরাম , চৌদ্দগ্রামের চিওড়ার আলী আহম্মদের ছেলে আবদুল মতিন , পাঁচগাছিয়ার উত্তর কাশিমপুর গ্রামের আবদুল মজিদের ছেলে আলাউদ্দিন, পাঠানবাড়ির আবদুস সাত্তারের ছেলে মো: শরিফুল ইসলাম , কালিদহ ইউনিয়নের মাইজবাড়িয়া গ্রামের মো: ইব্রাহীমের ছেলে শরিফুল ইসলাম ।
কুমিল্লা : কুমিল্লায় বিএনপি ও জামায়াতের ছয় নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে যৌথবাহিনী। মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বিএনপির তিন ও জামায়াতের তিনজন নেতাকর্মী রয়েছেন। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যৌথবাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছে বলে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন জানান।
শ্রেণীহীন
যৌথবাহিনীর অভিযানে সারাদেশে আটক শতাধিক
ঢাকা: সারা দেশে যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিএনপি জামায়াতসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার যৌথবাহিনী বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের অবরোধ চলাকালে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।





