দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ ১৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেননি। এ পর্যন্ত ৩৯২ জন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।
ইসি সূত্র জানায়, নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের ব্যয়ের হিসাব জমা সংক্রান্ত তথ্যে দেখা গেছে, সোমবার পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাতায় ৩৯২ জনের ব্যয়ের হিসাবের অনুলিপি তালিকাভুক্ত আছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশ সদস্য ও সংসদ সদস্য নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিলেও এখনও ১৫ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, ৪০ জন সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির ১৫ জন, ওয়াকার্সপার্টির ৮ ও জাসদের ৯ জনসহ স্বতন্ত্র ৬৩ প্রার্থী এখনও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দেননি।
এছাড়া নির্ধারিত সময়ের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিলেও তা নিয়ম অনুযায়ী হয়নি এমন প্রার্থীদেরও একটি তালিকা করা হয়েছে। এ তালিকায় তাদের মধ্যে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও-২ আসন থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী ইয়াসিন আলী, লালমনিরহাট-১ আসন থেকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত প্রার্থী ছাদেকুল ইসলাম, বরিশাল-৪ আসন থেকে জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত শেখ মো. জয়নাল আবেদীন ও কুমিল্লা-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সফিকুর রহমান ।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২-এর ৪৪-সি অনুচ্ছেদের (১) বিধান অনুসারে নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে প্রার্থী বা প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে নির্ধারিত ফরমে এফিডেভিটসহ সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করতে হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা ম্যানুয়ালের নবম অধ্যায়ের ১১ দফায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, নির্বাচনে বিজয়ী/পরাজিত সব প্রার্থীর জন্যই নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল বাধ্যতামূলক। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদেরকেও এ হিসাব দাখিল করতে হবে। এমনকী কোন প্রার্থীর নির্বাচনে কোন ব্যয় না হলেও তা নির্ধারিত ফরমে উল্লেখ করে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। আর এ বিধান যারা লঙ্ঘন করবেন তারা দুই থেকে ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দন্ডিত হবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্নিাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, আইন অনুযায়ী সকল প্রার্থীকে নির্বাচন হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যেসব প্রার্থীরা নির্বাচনী ব্যয়ের বিবরণী জমা দেননি, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী মামলা করতে রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দশম সংসদ নির্বাচনে ১২টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আর ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন এবং ৫ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হয় ১৪৭ আসনে। মোট প্রতিদ্বন্দ্বী (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ১৫৩ জনসহ) ছিলেন ৫৪২ জন। ১৪৭ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ১২০ জন, স্বতন্ত্র ১০৪, জাতীয় পার্টির ৬৬, জেপির ২৭, বিএনএফের ২২, জাসদের ২১ ও ওয়ার্কার্স পার্টির ১৬ জন। এ ছাড়া ন্যাপের ৬ জন, তরীকত ফেডারেশনের ৩, খেলাফত মজলিসের ২, গণতন্ত্রী পার্টির ১, গণফ্রন্টের ১ ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
কমিশন মোট চার দফায় জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করে। এর মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি ২৯০টি আসনে বিজয়ীদের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়। এর পর ১৮ জানুয়ারি সাতটি এবং ২৩ জানুয়ারি একটি আসনের বিজয়ীর নামের গেজেট প্রকাশ করে কমিশন।
ঢাকা, এএম, ২৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি
শ্রেণীহীন
নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দেননি এরশাদসহ ১৫০ প্রার্থী
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ৫৪২ জন প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদসহ ১৫০ জন প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেননি।





