[b]ঢাকা:[/b] দরপতনের মধ্য দিয়ে আরও একটি বছর পার করল দেশের দুই পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হওয়া ভয়াবহ দরপতনের বৃত্ত থেকে ২০১৩ সালেও বের হতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। সরকারের শেষ বছরে পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। আগের দুই বছর অর্থাৎ ২০১১-১২ সালের মতো অব্যাহত দরপতনে বিদায়ী বছরেও পুঁজি হারিয়ে বাজার থেকে ছিটকে পড়েছেন কয়েক লাখ পুরনো বিনিয়োগকারী। যদিও ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে নতুন করে অনেকে বিনিয়োগ করায় বছর শেষে মোট বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে।
এদিকে টানা দরপতনের মাঝে এখনও যেসব পুরনো বিনিয়োগকারী টিকে রয়েছেন তাদের অধিকাংশের পুঁজি তলানিতে ঠেকেছে। অন্যদিকে মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করার কারণে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি ঋণাত্মক হয়ে গেছে। ফলে এসব বিনিয়োগকারীর মূলধন ফিরে পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এতে করে এসব বিনিয়োগকারীর যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তেমনি মার্জিন ঋণ দেওয়ার কারণে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস বড় ধরনের লোকসানের মধ্যে রয়েছে। ফলে দরপতনের প্রতিবাদে বিদায়ী বছরেও আগের দুই বছরের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
এদিকে ২০১৩ সালে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আগের মতো ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। ২০১৩ সালেও মন্দা বাজারে কয়েকটি দুর্বল মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে বাজার থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও বিএসইসি এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তাতে করে কারসাজিকারকদেরে উৎকোচের বিনিময়ে তাদেরকে অনিয়মের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বয়ং নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিরুদ্ধে। বিশেষ করে বছর জুড়ে আলোচিত সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বিএসইসি তদন্ত করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করলেও চিহ্নিত প্রতিষ্ঠান তিনটিকে মাত্র ২২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০১৩ সালে মন্দা সময়েও বিএসইসি ১০টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দেয়। অনুমোদন পাওয়া এসব কোম্পানি আইপিওর টাকা দিয়ে কোম্পানির ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যয় করেছে, যা নিয়ে বির্তক দেখা দেয়। এছাড়া অনুমোদন দেওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ারে প্রিমিয়াম নির্ধারণ নিয়েও বিএসইসির ভূমিকায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে পুঁজিবাজারে ধস নামার পর বিভিন্ন সময়ে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, বিএসইসি, আইসিবি, ব্যাংক মালিকদের সংগঠন-বিএবি, ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন-এবিবি, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ (বিএপিএলসি), বাংলাদেশ বীমা অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগের ঘোষণা দিলেও ২০১৩ সালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে এই আগের দুই বছরের মতো ২০১৩ সালেও লোকসানের কবল থেকে বের হতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা। বরং প্রতিশ্রুতির কারণে বাজার স্থিতিশীল হবে এই আশায় অপেক্ষায় থাকা বিনিয়োগকারীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে বিপর্যয়ের মাঝেও ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানি রাইট এবং নতুন কোম্পানি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৭৫৩ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। ২০১৩ সালে বিএসইসি ৮টি কোম্পানিকে রাইট শেয়ারের মাধ্যমে এবং ১০টি কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে।
অন্যদিকে ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে সূচকের বড় ধরনের উঠানামা করলেও বছর শেষে তা প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারির পর দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স নামে নতুন সূচক চালু করা হয়। ওইদিন ডিএসইর সাধারণ সূচক ছিল ৪ হাজার ১৭১ পয়েন্ট, তখন ৪ হাজার ৫৫ পয়েন্ট দিয়ে শুরু হয় ডিএসই ব্রড ইনডেক্স। গত এক বছরে বাজার ভালো হবে বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন হয়নি। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডিএসইর ব্রড ইনডেক্স গত এক বছরে মাত্র ১৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২০০ পয়েন্টে উন্নীত হয়। একই সঙ্গে গত এক বছরে ডিএসইর বাজার মূলধন ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ লাখ ৬১ হাজার ৯২৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। এছাড়া চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারের বহুল আলোচিত স্টক এক্সচেঞ্জের মালিকানা থেকে ব্যবস্থাপনা পৃথককরণ (ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন) কর্মসূচি (স্কিম) চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]
শ্রেণীহীন
তিন বছরেও অস্থিরতা কাটেনি পুঁজিবাজারে
ঢাকা: দরপতনের মধ্য দিয়ে আরও একটি বছর পার করল দেশের দুই পুঁজিবাজার। ২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হওয়া ভয়াবহ দরপতনের বৃত্ত থেকে ২০১৩ সালেও বের হতে পারেননি বিনিয়োগকারীরা।





