বাংলাদেশের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো আইনি কারণে ৩৮তম কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশী বইয়ের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কলকাতার পাঠকদের কাছে বাংলা একাডেমি, ইসলামী ফাউন্ডেশনের বই প্রয়োজনীয় সংখ্যায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না মেলায়।
২৯ জানুয়ারি থেকে মেলা শুরু হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রয়োজনীয় বহু বই বিক্রি হয়ে গেছে। কলকাতা বইমেলার আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্শ গিল্ড এ বছরই পদ্মশ্রী পাওয়া প্রাবন্ধিক ড. অধ্যাপক আনিসুজ্জামানকে আনুষ্ঠনিক সংবর্ধনা দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৯ তারিখ মেলা শেষ হওয়ার আগেই আনিসুজ্জামনকে কলকাতায় আসার আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে।
কলকাতা বইমেলায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে তৈরি হয়েছে কার্জন হলের আদলে বাংলাদেশী প্যাভিলিয়ন।
বাংলা একাডেমি, নজরুল ইন্সটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ৩১টি প্রকাশনা সংস্থা মেলায় তাদের স্টলে প্রকাশিত বই নিয়ে বসেছে।
মেলার ষষ্ঠ দিনেও উপচে পড়ছে বাংলাদেশী প্যাভিলিয়নে কলকাতার বই প্রেমীদের ভিড়। প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদ, ইমদাদুল হক মিলন ছাড়াও সেলিনা হোসেন, নির্মলেন্দু গুণ, অসীম সাহার বই বিক্রি হচ্ছে প্রচুর। এর সঙ্গে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন বইয়ে চাহিদা দেখা যাচ্ছে মেলায়।
বাংলাদেশের রান্না, ভ্রমণ এবং ঐতিহ্য-কৃষ্টি সংশ্লিষ্ট বইয়ের চাহিদাও ব্যাপক। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা অভিধান এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশতি পবিত্র ধর্মগ্রন্থের বাংলা অনুবাদের বই পাঠকরা কিনেছেন লাইন ধরে।
কিন্তু রোববার থেকেই বাংলা অভিধান নেই বাংলা একাডেমির স্টলে। তেমনই ইসলামী ফাউন্ডেশনেরও বহু বাংলায় অনুদিত বই বিক্রি শেষ হয়ে গেছে।
বাংলা একাডেমির বিক্রয় সহকারী নজরুল ইসলাম বাবলু জানালেন, তিনশ’ শিরোনামের বই আনা হয়েছিল। প্রতিটি ৩ কপি করে।
কলকাতায় জেহার বাংলা একাডেমির বইয়ের চাহিদা তাতে প্রতিটি কমপেক্ষ ৫০ কপি করে আনা প্রয়োজন ছিল। তবে এটাও ঠিক এতগুলো বই আনা সম্ভব নয়। কেননা এ সময়েই ঢাকায় একুশে বইমেলা চলছে। স্থানীয় পাঠকদেরও বই দিতে হচ্ছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক নুরুল ইসলাম মানিক জানান, পাঁচশ’ শিরোনামের বই নিয়ে কলকাতা বই মেলায় এলেও এখনই অর্ধেকের কম বই আছে। অর্থ্যাৎ মেলার মাত্র ৫ দিনেই প্রায় গুরুত্বপূর্ণ বইগুলো শেষ। বাকি ৭ দিন বসেই কাটাতে হবে।
কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসের প্রেস সচিব কাজি মোস্তাক জহিরের ভাষায়, বাংলাদেশের বইয়ের প্রতি কলকাতার মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। প্রতি বছরই বই আনার সংখ্যাও আস্তে আস্তে বাড়ছে। কিন্তু সরকারকে তো নিয়ম-নীতির মধ্যেই চলতে হয়। ফলে সরকারি বিধি মেনেই বই নিয়ে আসা হয় মেলায়।
কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশের লেখক সাহিত্যিকদের সম্মাননা দেয়ার কথা ভাবছে মেলার আয়োজক পশ্চিমবঙ্গ বুক সেলার্শ অ্যান্ড পাবলিশর্স গিল্ড কর্মকর্তারা।
গিল্ডের সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় জানান, এই বছরই আমরা পদ্মশ্রী পাওয়া ড. আনিসুজ্জামানকে সংবর্ধনা দিতে চাইছি। তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বইমেলা চলাকালীন এই আয়োজন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন ত্রিদিব বাবু।
শুধু তাই নয়, গিল্ড সম্পাদক আরও জানান, ৩৯তম কলকাতা বইমেলা থেকেই বাংলাদেশের প্রখ্যাত লেখকদের জীবনব্যাপী সম্মাননা দেয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে আলোচনা চলছে।
আগামীকাল বুধবার ৫ ফেব্রুয়ারি কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশ দিবস পালিত হবে। এই দিবস উপলক্ষে মেলায় সভ্যতার জন্য গ্রন্থ নাকি গ্রন্থের জন্য সভ্যতা শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নেবেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী অভিনেতা আসাদুজ্জামন নূর, সংস্কৃতি সচিব রঞ্জিত কুমার বিশ্বাস এবং শিক্ষা সচিব কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন লেখক-সাহিত্যিক।
বাংলাদেশের মন্ত্রীর সৌজন্যে মঙ্গলবার কলকাতা উপদূতাবাসের নৈশভোজের আয়োজন করেছেন উপদূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম।
[b]কলকাতা, ৪ ফেব্রুয়ারি (টাইমনিউজবিডি.কম)//ইএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশী বইয়ের সঙ্কট
বাংলাদেশের রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো আইনি কারণে ৩৮তম কলকাতা বইমেলায় বাংলাদেশী বইয়ের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। কলকাতার পাঠকদের কাছে বাংলা





