রোববার গভীর রাত থেকে সোমবার বিকাল পর্যন্ত বারিধারার ৭ নম্বর রোডে ৪৪৮ নম্বর বাড়ি থেকে তারা গ্রেপ্তার হন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন।
পরে ওই বাড়িতেই সন্ধ্যায় র‌্যাব- ১ এর উপ-পরিচালক আসিফ কুদ্দুস সাংবাদিকদের জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৩৮টি গুলি, বিদেশি মদ ও ফেনসিডিলের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের জসীম উদদীন হল শাখার সহ-সভাপতি ও উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আল ইমরান, একই বিভাগের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগের শিক্ষার্থী মোনতাসের রহমান।
অন্যরা হলেন- রিসাদ প্রকাশ, আতিকুর রহমান, নিহার রঞ্জন দাস, তুহিন হোসেন, শাখাওয়াত হোসেন, আনোয়ার হোসেন, আলামিন হোসেন, আইয়ুব আলী ও মঈনুল ইসলাম।
র‌্যাব কর্মকর্তা আসিফ বলেন, ওই বাড়িতে ‘সামান্থা বায়িং হাউজ’ নামে ব্যবসার আড়ালে একটি প্রতারকচক্র নানাভাবে মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতো, মানুষকে মারধর করতো।
সামান্থা বায়িং হাউজের মহাব্যবস্থাপক ওয়াজিউল্লাহ মিলন তপু এই প্রতারকচক্রের ‘মূল হোতা’ বলে জানান তিনি।
“এছাড়া আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল এবং খালি স্ট্যাম্পে সই করিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করতো তারা।”
এই র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, ওই বাড়িতেই দলনেতা তপু নিয়মিত আসা-যাওয়া করলেও অভিযানের সময় তাকে পাওয়া যায়নি।
“আটকরা বায়িং হাউজ ব্যবসার কথা বললেও বৈধ কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।”
তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন এস এম অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুদ্দিন মিলন।
তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “গত ১২ মার্চ সামান্থা বায়িং হাউসে সাড়ে ১৬ লাখ টাকার গার্মেন্টস স্যাম্পল (মেয়েদের ফ্রক ও প্যান্ট) দেয়ার কাজ পাই। এপ্রিলের ১ তারিখে আমাদের স্যাম্পল বুঝে নিয়ে টাকা দেয়ার কথা ছিল।
“সন্ধ্যার পর স্যাম্পল বুঝিয়ে দিতে তাদের অফিসে গেলে আমরা তাদের মাল নষ্ট করে ফেলেছি বলে আমাদের হুমকি দেয়।”
সাইফুদ্দিন অভিযোগ করেন, আটকরা তাকে ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে গার্মেন্টসের মালিকানা বুঝিয়ে দিতে বলে।
পরে তিনি ক্যান্টনমেন্ট এবং ভাটারা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং র‌্যাবের কাছে অভিযোগ করেন।
এই ব্যক্তিদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছে এমন অনেকে তাদের কাছে অভিযোগ দিচ্ছে বলেও জানান র‌্যাব কর্মকর্তা কুদ্দুস।
আটক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আল ইমরান নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদদীন হলের ছাত্রলীগের সহ সভাপতি দাবি করে সাংবাদিকদের বলেন, “বায়িং ব্যবসা শিখতে কয়েক মাস ধরে এখানে কাজ করছি। তবে বেতন নিচ্ছিলাম না।”
র‌্যাব কর্মকর্তা আসিফ কুদ্দুস সাংবাদিকদের বলেন, “উনি গণমাধ্যমকে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এখানে আটকরা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না।”
তবে জসীম উদদীন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান রনি জানান, “আল ইমরান হলের সহ-সভাপতি।”
আটকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এই র্যা্ব কর্মকর্তা।
[b]ঢাকা, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]