[b]কায়রো:[/b] মিশরে সেনা সমর্থিত সরকারের তৈরি করা সংবিধানের উপর মঙ্গল ও বুধবার গণভোট হবে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের পর সে দেশে এটি দ্বিতীয় দফা গণভোট। আর মিশরের জনগণ এ সময়ের মধ্যে ছয়বার নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
মিশরের সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকার খসড়া সংবিধানটির পক্ষে জনমত গঠনের জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছে। রাজধানী কায়রোর সড়কগুলো ছেয়ে গেছে ‘হ্যা’ ভোটের পোস্টারে। ল্যাম্পপোস্ট,বিলবোর্ড আর ভবনগুলোতে কেবল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পোস্টারই চোখে পড়ছে। 'না' ভোটের পক্ষে তেমন কোনো প্রচারণা নেই বললেই চলে।
সরকারি এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল এবং রেডিওগেুলোতেও হ্যা ভোটের সমর্থনে নানা অনুষ্ঠান আর ডকুমেন্টারি প্রচারিত হচ্ছে ।
মঙ্গলবার ও বুধবার দু’দিন ধরে এ গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মিশরের পাঁচ কোটি ২০ লাখ ভোটার এতে ভোট দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গণভোটের আগে মিশরের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট আদলি মনসুর রোববার এক টেলিভিশন ভাষনে বলেন,নতুন সংবিধানের মাধ্যমে মিশরে একটি আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রে উন্নীত হবে এবং দেশে যে নতুন নেতা আসবেন তার হাতে থাকবে পূর্ণ ক্ষমতা। তবে ক্ষমতা বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন সে ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত বলেননি।
মিশরের সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি নতুন এ সংবিধানের প্রতি সমর্থন জানাতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জেনারেল সিসি জনগণকে ‘জোরালোভাবে’ এবারের গণভোটে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এ নির্বাচনকে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে সেনা সমর্থিত কথিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন। খসড়া এ সংবিধানে মিশরে ধর্মীয় দল গঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান অনুমোদন করার পর মিশরে প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
গণভোটের পর নতুন সংবিধানটি চূড়ান্ত করা হবে। পরে নতুন এ সংবিধানের আওতায় আগামী এপ্রিল মাসে দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে সেনা প্রধান সিসির অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।  
গত ৩ জুলাই সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জেনারেল সিসি মিশরের সংবিধান স্থগিত করেন এবং সংসদ ভেঙে দেন।