প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে চট্টগ্রাম। কোথাও গলাপানি, আবার কোথাও বুকপানিতে বন্দি হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ। টানা বর্ষণে বিপদসীমার উপরে বইছে কর্ণফুলী, হালদা ও শঙ্খ নদীর পানি। পানিতে তলিয়ে গেছে শত শত ঘরবাড়ি।
সড়ক ডুবে, কালভার্ট ভেঙে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে। খাতুনগঞ্জ, আসাদগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন বাজারে পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে কোটি কোটি টাকার পণ্য। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় চট্টগ্রামের কোটি মানুষের মধ্যে ভয় আর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি রের্কড করা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্ক সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201405/1399868153.jpg[/img]
এ কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। রোববার দুপুরে চটগ্রাম আবহওয়া দফতর এ সতর্কবার্তা জারি করে।
প্রবল বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি ওঠা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের বিমান চলাচলের গতি থমকে গেছে। এলোমেলো হয়ে গেছে বিমানের শিডিউল। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরের জাহাজ থেকে মালামাল খালাস বন্ধ রয়েছে। বন্দরের অভ্যন্তরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠা-নামার কাজ চললেও প্রবল বর্ষণের কারণে পণ্য সরবরাহও থমকে গেছে।
মহানগরী পানিতে ডুবে থাকায় বহুমুখী দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই; নেই গ্যাস সরবরাহও। এ অবস্থায় ওয়াসার পাইপলাইনে ঢুকে পড়েছে নোংরা পানি। সব মিলিয়ে দুর্যোগ আর দুর্ভোগের নগরীতে পরিণত হয়েছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন আড়াইশ' জনবল দিয়ে নগরীর জলাবদ্ধতা মোকাবিলা করছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে পানির নিচে। কোথাও গলাপানি আবার কোথাও কোমরপানিতে ডুবে আছে এসব এলাকা। বিশেষ করে নগরীর বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, জালালাবাদ, কাপাসগোলা, ডিসি রোড, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, পাহাড়তলি, কালামিয়া বাজার, মুরাদপুর, শুলকবহর, রামপুরা, হালিশহরসহ প্রায় গোটা নগরীই পানিতে ভাসছে। এসব এলাকার বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি। কোমরপানি হয়ে গেছে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটেও।
নগরীর খাতুনগঞ্জ, টেরিবাজার, আসাদগঞ্জ, চাকতাই, রিয়াজউদ্দিন বাজার, ষোলোশহর শপিং কমপ্লেঙ্সহ বেশকিছু মার্কেটের দোকান ও গুদাম সয়লাব হয়ে গেছে বৃষ্টির পানিতে। টানা বর্ষণে রক্ষা করা যাচ্ছে না কোনো মালামাল। এ অবস্থায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। দেশের অন্যতম প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র চাকতাই ও খাতুনগঞ্জের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পানিতে ভিজে গেছে এসব ব্যবসা কেন্দ্রের অনেক দোকান ও গুদামের মালামাল।
নগরীর অনেক নিচু এলাকার সড়কের পাশে অবস্থিত দোকানপাটেও পানি ঢুকে বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানির পাশাপাশি চাকতাই খাল থেকে উপচে পড়া জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্র চাকতাই-খাতুনগঞ্জে।
টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বহুমুখী দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী। রোববার সকাল থেকে নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ। পিডিবির বিভিন্ন স্টেশনে পানি ঢুকে পড়ায় বিপদ এড়াতে মূলত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।
টানা বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দিনভর বিভিন্ন এলাকায় ছোটাছুটি করেন সিটি মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। সকাল থেকে আড়াইশ' জনবল বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে নেমে পড়েন। মেয়র জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে নগরীর চাকতাই খাল, মিয়াখান নগর, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
[b]ঢাকা, ১২ মে (টাইমিনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]