[b]ঢাকা: [/b]জানাজা শেষে ফুলেল শ্রদ্ধায় শিক্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে চির বিদায় নিলের সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, যার সম্মানে দুপুরের পর কর্মবিরতি পালন করছে উচ্চ আদালত।
সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট গার্ডেনে জানাজা পড়ানো হয়, যেখানে পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন হাবিবুর রহমানের শ্যালক উইং কমান্ডার অব. আলী হায়দার চৌধুরী।
তিনি বলেন, বিচারপতি হাবিবুব রহমান এই সুপ্রিম কোর্টে বিচারক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার প্রতি কারো কোন দাবি থাকলে তিনি যেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
তিনি বলেন, আগামীকাল (মঙ্গলবার) বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে। ওই মসজিদে সর্বশেষ জানাজার পর বনারী গোরস্তানে দাফন করা হবে।
জানাজার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার একেএম শামসুল ইসলাম বলেন, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বিতীয় সেশনে হাই কোর্টের কোন বিচারপতি এজলাসে বসবেন না।
সুপ্রিম কোর্টের গার্ডেন প্রাঙ্গনে বেলা দেড়টায় জানাজা অনু্ষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন, আপিল বিভাগের বিচারপতি এসকে সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি মোহাম্মদ আনোয়ার উল হক, বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান, এম তাফাজ্জাল ইসলামও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এম এ মতিন, আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, অ্যাডভোকেট এএফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল, এজে মোহাম্মদ আলী, বাসেত মজুমদার, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়াও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন, মির্জা হোসেইন হায়দার, এম ইনায়েতুর রহিমসহ হাই কোর্টের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম চেয়ারম্যান মো. নিজামুল হক, যুদ্ধাপরাধের ট্রাইব্যুনাল-২ চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসান, ট্রাইব্যুনালের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. শাহিনুর ইসলামও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার পর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যাালয়, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সহকারি সমিতি, খুলনা বিভাগী আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন।
জানাজার সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ছোট বেলা থেকেই ওনাকে আমি চিনি। আমার পিতার সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিলো। তিনি আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। তার মৃত্যুতে আমি শুধু একজন অভিভাবকই হারাইনি। দেশ একজন জ্ঞানী ও গুনীকে হারিয়েছে।
তিনি বলেন, তিনি যা করেছেন, তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আমরা যা হারিয়েছি, তা পূরণ হওয়ার নয়।
সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি অসাসম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার মানুষ ছিলেন। আমার সঙ্গে তার অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমি শোকাহত। আমি দোয়া করি তাকে যেন বেহেস্ত নসিব করেন।
“বিচারক হিসাবে আপিল বিভাগে থাকাকালে তার প্রজ্ঞা ও চিন্তার যে দিক নির্দেশনা পেয়েছি, তা অতুলনীয়। তার পরিবারবর্গে যেন এই শোক কাটিয়ে উঠতে পারেন।”
ড. কামাল হোসেন বলেন, তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। শিক্ষক, আইনজীবী, প্রধান বিচারপতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন।
“সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী মামলায় তিনি ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন। এই রায় না দিলে এই হাই কোর্ট শেষ হয়ে যেত। তিনি অন্যায়কে কখনো মাথা পেতে নেননি। ন্যায়ের উপর সব সময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তার কাছ থেকে জাতি নির্দেশনা পেতো। তিনি তার কর্মে চির স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।”