নারায়ণগঞ্জের সাত অপহরণ ও খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেন কলকাতায় অবস্থান করছে। ঘটনার তিনদিন পর সে ভারতে পালিয়ে গেছে।
র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই সব রহস্য উন্মোচিত হবে। তাছাড়া নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোববার কর্নেল জিয়াউল আহসান যুগান্তরের সাথে এক সাক্ষাৎকারে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বিষয়ে এসব কথা বলেন।
'নারায়ণগঞ্জের ৭ অপহরণের পর র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে র‌্যাব সদর কি তৎপরতা শুরু করেছিল। ৭ অপহৃতকে উদ্ধারে র‌্যাবের পদক্ষেপ কি ছিল?' এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাবের অতিরিক্ত এই ডিজি বলেন, 'অভিযোগ আসার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা চ্যানেলেও খোঁজ নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোথাও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি যে তাদের র‌্যাব তুলে নিয়েছে। এমনকি এখন পর্যন্ত এমন একজন সাক্ষীও পাওয়া যায়নি যিনি সাতজনকে অপহরণের সময় র‌্যাবকে সরাসরি দেখেছেন। সবাই শুধু অভিযোগ করছেন'।
'শোনা যাচ্ছে ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন নূর হোসেনকেও র‌্যাব গুম করে রেখেছে। যাতে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে না আসে। এর ভিত্তি আছে কি?' এমন প্রশ্নের জবাবে ক. জিয়া বলেন, 'না, আপনাকে নিশ্চিত করছি নূর হোসেন র‌্যাব হেফাজতে নেই। সে ভারতে পালিয়ে গেছে'।
'৭ অপহরণ ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা কি র‌্যাব করছে। এ বিষয়ে আপনাদের অগ্রগতি কতটুকু?' এমন প্রশ্নের জবাবে জিয়াউল আহসান বলেন, 'অবশ্যই। র‌্যাব আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে। আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পেয়েছি। নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান যে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন তিনিও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারণ মাত্র ৬ মাস আগেও শহীদ চেয়ারমানের বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন নজরুল'।
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা থেকে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
[b]ঢাকা,  ১২ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]