[b]চাঁদপুর:[/b] জেলায় চুলার আগুনে দগ্ধকে পেট্রোল বোমায় দগ্ধ বলে প্রচার করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা পেতে এমনটা প্রচার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ণ ইউনিটে চাঁদপুরের মতলবের বাচ্চু প্রধানের মৃত্যু হলে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী জানায়, গত ৬ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে চাঁদপুরের বাচ্চু প্রধান তার বাড়ির রান্নাঘরের গ্যাসের চুলায় আগুন পোহাচ্ছিলেন। এসময় তার শরীরে আগুন লেগে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।
সাথে সাথে তাকে মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর পরই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। রাতেই তাকে ঢাকা নিয়ে আসা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা নেয়ার সময় আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন পরামর্শ দেয়, তিনি হরতালে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের ফলে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বলে প্রচার করতে। তাহলে ভালো চিকিৎসা মিলবে। এছাড়া মিলতে পারে সরকারি সহায্যও।
সে অনুযায়ী তার নিকটজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির সময় চিকিৎসকদের জানায়, তিনি হরতাল সমর্থকদের নিক্ষিপ্ত পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়েছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ণ ইউনিটে তাকে সে হিসেবেই ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে সে মারা যান।
তার মৃত্যুর পর জাতীয় বিভিন্ন সম্প্রচার মাধ্যমে বাচ্চু প্রধান পেট্রোল বোমার আঘাতে দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে প্রচার করলে চাঁদপুরের পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক খোঁজ খবর নেয় শুরু করে।
পুলিশ সুপার আমির জাফরের নির্দেশে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঢাকা মেডিক্যালে যান এবং ওই থানার তদন্ত বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান মতলবের ঢাঁকিরগাঁও গ্রামে নিহতের বাড়িতে গেলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসে।
নিহত বাচ্চু প্রধানের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঢাঁকিরগাঁও গ্রামে। তিনি পেশায় একজন কৃষক। গত ২০ বছর ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন।