গাইবান্ধায় আবার বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ভয়াবহ মাদক ট্রাজেডির আশঙ্কা করেছেন সচেতন মহল।সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করায় তারা এই আশঙ্কা করেন।
জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে বাংলা নববর্ষ রাতে জেলায় বিষাক্ত মাদকদ্রব্য সেবন করে ৮১জন মারা যায় এবং অসুস্থ হয় প্রায় ৩০০জন। দেশে  স্মরণকালের এই ভয়াবহ মাদ্রক ট্রাজেডির ঘটনায়  জেলাব্যাপী শুরু হয় মাদকবিরোধী অভিযান।
স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা মাদকমুক্ত ঘোষণা করা হয়।প্রশাসনের তৎপরতার কারণে বেশ কয়েক বছর গোপনে মাদকদ্রব্য বেচাকেনা হলেও বর্তমানে প্রকাশ্যে বেচাকেনা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে ৪টি সীমান্ত রুট দিয়ে এ উপজেলায় মাদকদ্রব্য আসছে। রুট গুলো হল-দিনাজপুর থেকে ঘোড়াঘাট হয়ে গোবিন্দগঞ্জ, ঘোড়াঘাট থেকে পলাশবাড়ী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ, হিলি আটাপাড়া থেকে পানিতলা ফুলপুকুরিয়া হয়ে গোবিন্দগঞ্জ ও পাঁচবিবি থেকে কামদিয়া হয়ে গোবিন্দগঞ্জ পলাশবাড়ী দিয়ে ঢোলভাঙ্গা ও গাইবান্ধা শহরের প্রবেশ করে । সেখান থেকে আবার শহরের শুনশুঙ্গীর মোড়,ডেপিটকম্পানির পাড়া রেল স্টেশন, মাস্টারপাড়া , কলেজ পাড়া, ও বালাশী ঘাটে প্রবেশ করে।
তারা আরো জানান, মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতীয় চোরাইকারীদের মতো বিভিন্ন স্থানে গুপ্ত গুদামে মাদকদ্রব্যর পাহাড় গড়ে থাকে।আবার অনেক সময় পলিথিনের বড় বস্তা ভরে গর্ত করে মাটির নিচে পুতে রাখে। জেলার চাহিদা মেটানোর পর পাচার করে রাজধানী বিভিন্ন স্থানে এছাড়াও উপজেলার কাটাখালী বালুয়া বাজারে দক্ষিণ পার্শ্বে সাপগাছি হাতিয়াদহ, উত্তর ও দক্ষিণ বাসষ্ট্যান্ড, মতিঝিল, পুরাতন গোবিন্দগঞ্জ, কলেজ মোড় বটতলী, চাষকপাড়া ও কাইয়াগঞ্জসহ প্রায় অর্ধশত চিহ্নিত স্থানে গড়ে উঠেছে দেশী মদ তৈরির কারখানা।
এক শ্রেণীর গ্রাম্য পুলিশ এ ব্যবসার সাথে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।এ প্রসঙ্গে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ইন্সপেক্টর মুক্তার আহম্মেদ বলেন, গ্রাম্য পুলিশরা থানার অধীনে চাকরী করায় তারা নির্বিঘ্নে এ ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন। তারপরও নববর্ষ উপলক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে।
[b]গাইবান্ধা, এসই, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ
[/b]