অতীত স্মরণে থাকার জন্য মাঝে মাঝে কিছুটা লোডশেডিং হওয়া ভাল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহি চৌধুরী বলেছেন,‘এটাও আল্লাহর এক ধরণের রহমত। তিনি বলেন, লোডশেডিং না হলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ উত্পাদনে যে উন্নতি হয়েছে,সেটা মানুষ ভুলে যাবে।’
মঙ্গলবার ‘চায়না হুয়াদিয়ান হংকং কোম্পানি লিমিটেড’র সঙ্গে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সমঝোতা স্মারকে সই শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী এসব কথা বলেন। কক্সবাজারের মহেশখালীতে যৌথভাবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণে এ চুক্তি হয়।
তৌফিক-ই-এলাহি বলেন,লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি থেকে এবার পুরোপুরি মুক্তি মিলছে না। লোডশেডিংয়ে জনগণকে একটু ধৈর্য ধরারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রীর এ জ্বালানি উপদেষ্টা।
বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও লোডশেডিং হচ্ছে কেন? জানতে চাইলে তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, অনেক মেশিনই পুরনো। পুরনো মেশিনের কারণে ২০ শতাংশ তথা প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট কম উৎপাদন হয়। এছাড়া তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। সব মিলিয়ে ৭ হাজার মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এরপরেও আমরা লোডশেডিং কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছি।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তাদের দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন,সেখানে কর্মরত কর্মকর্তারা সৎ। তারা সততার সঙ্গেই কাজ করছে। দুদক স্বাধীন,তাই তারা যে কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পারে।
এর আগে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মহেশখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে চায়না হুয়াডিয়ান হংকং কোম্পানি লিমিডেটের সঙ্গে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সমঝোতা সই হয়। মহেশখালী দ্বীপের পশ্চিমে ৬টি মৌজার বিপরীতে ৫৫০ একর জায়গা জুড়ে এ বিদুৎকেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের মেয়াদকাল ধরা হয়েছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। উভয় দেশ ৩০ শতাংশ অর্থের যোগান দেবে। বাকি ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
[b]ঢাকা, ২৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]