মধ্যরাতে কিংবা দিনে-দুপুরে সাদা পোশাক ধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয় না দিয়েই সাধারণ জনগণকে গ্রেফতার করছে যা সম্পূর্ণভাবে বিচার বহির্ভূত। সাদা ভ্যানে এসে সাদা পোশাকধারীরা যে কাউকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে এবং পরবর্তীতে অপহৃতদের লাশ মিলছে পরিত্যক্ত অবস্থায়। পরবর্তীতের অপহরণের দায় স্বীকার করছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাহলে এরা কারা? এমন প্রশ্ন এবং একই সাথে শংকা এখন সারা দেশের মানুষের মনে।
টাইমনিউজবিডিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কাথা বলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী ব্যারিষ্টার সারা হোসেন এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন।
যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না অনেক ক্ষেত্রেই। এদিকে, সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায় অস্বীকারের ঘটনাও ঘটছে হর-হামেশা।
যদিও রাজধানীতে অপহরণ ঠেকাতে অ্যান্টি কিডন্যাপিং স্কোয়াড গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এখন প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার জন্য স্কোয়াড গঠণ করা হয়েছে, কিন্তু সারা দেশের মানুষের কি হবে?
এই অবস্থা থেকে পরিত্রানের জন্য দরকার আইনের যথাযথ প্রয়োগ। আমাদের দেশের বিদ্যমান আইন দ্বারা এর প্রতিকার সম্ভব। মনে রাখতে হবে আইনের উর্ধ্বে কেউ নন। সরকার এরইমধ্যে নারায়ণঞ্জে প্রশাসনিক রদবদল করেছে।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন আরও বলেন,  গুম ও হত্যার ব্যাপারে বিচার বিভাগীয় নিরপেক্ষ তদন্ত হতে পারত। সরকার স্থানীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে পারত। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারত।
ফৌজদারী কার্যবিধি মোতাবেক কাউকে আটক করাকালীন তার পরিবারের সদস্যদের  গ্রেফতারের কারণ জানাতে হবে। কাউকে গ্রেফতার করার আগে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের পরিচয় দিতে হবে। পরিচয় না দিয়ে কাউকে গ্রেফতার করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনী।
সারা হোসেন বলেন, মধ্যরাতে সাদা পোশাকধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে গ্রেফতার না করে সকালেও গ্রেফতার করা যেতে পারে। আদালতে নেয়ার আগে গ্রেফতারকৃতের ডাক্তারী পরীক্ষা করার ব্যাপারে আইন রয়েছে। আইনজীবীর সাথে তাকে কথা বলতে দিতে হবে। বর্তমান সময়ে কোন কিছুই মানা হচ্ছে না। কে বা কারা সাদা পোশাকে লোক জনকে তুলে নিয়ে গুম ও হত্যা করছে তার দায় কেউ নিচ্ছে না।
গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১০ মে থেকে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, পিকআপসহ সব ধরনের হালকা যানবাহনে কালো, রঙিন, মার্কারি ও অস্বচ্ছ গ্লাস ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান স্থগিত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ জন অপহরণ পরবর্তী ৬ জনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধারের ঘটনার পর সাদা পোশাকে অভিযান স্থগিতের কথা জানানো হয়।
অন্য এক সাক্ষাৎকারে টাইমনিউজবিডিকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব জানান, যদি এই হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা না হয় তাহলে এই স্বৈরাচারী সরকারকে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
খন্দকার মাহবুব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশ্যে বলেন, সাদা পোশাকে আর যেন কোনো গ্রেফতার না হয়। সাদা পোশাকে যদি কেউ গ্রেফতার করে জনগণ তাদের উচিৎ শিক্ষা দেবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্বহীন সরকার। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি। এই অবৈধ সরকারের দায়িত্ব শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করে বলে এত হত্যাকাণ্ডের পরও সরকার নীরব।
খন্দকার মাহবুব বলেন, নারায়ণগঞ্জে অ্যাডভোকেট চন্দন কুমার সরকারসহ ৭ জন হত্যাকাণ্ডে এসপি, ডিসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। র‌্যাবকে কেনো প্রত্যাহার করা হয়নি? আমরা র‌্যাবকেও প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী না। তাই সাবধান হোন। শেষ রক্ষা হবে না। আর কালো কোট যখন রাস্তায় নামবে তখন কোনো অবৈধ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
ঢাকা: কেএ, ৫ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// কেবি//এসআর