পটুয়াখালীর লোহালীয়া নদীতে দোতলা লঞ্চের ধাক্কায় একটি একতলা লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ৮ ঘন্টা পরেও উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার কাজে আসতে রওনা দেওয়া জাহাজ রুস্তম নিজেই বিপদে পড়েছে এমন দাবি কর্তৃপক্ষের।
ঘটনার পর ঘন্টা স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালিয়ে শিশু ও মহিলাসহ কমপক্ষে ৩৫ যাত্রী উদ্ধার করলেও নিঁখোজ রয়েছে বেশ কিছু যাত্রী এমন ধারনা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া এলাকাবাসীর।
সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা ডুবে যাওয়া লঞ্চটির উদ্ধার কাজ নিয়ে বলছেন ভিন্ন ভিন্ন কথা। ঘটনাস্থলে নেই তারা কেউই। তাদের কথা একটাই রুস্তম পৌছলেই উদ্ধার কাজ শুরু হবে। কর্তৃপক্ষের এমন মন্তব্যে প্রবাগান্ডায় হতাশ এলাকাবাসীর মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা মনে করছেন তাহলে কি স্থানীয় উদ্ধার কর্মীদের আশঙ্কাই সঠিক ছিলো যে, ডুবন্ত লঞ্চটির প্রথম শ্রেনীতে যাত্রী আটকে আছে। এ জন্যই হয়তো রুস্তম আসছেনা অথবা আসার খবরের গুজব ছড়াচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
রাত ২টার দিকে সর্বশেষ পাওয়া খবরে পটুয়াখালী লঞ্চ মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ রয়েছেন ঘটনাস্থলে, কিন্তু ডুবন্ত লঞ্চের পাহারায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন দপ্তরের কর্মকর্তারা সেখানে নেই। এ খবর নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী পুলিশের টাউন দারোগা (টি এস আই) মো. দেলোয়ার হোসেন।
উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তুম ঘটনাস্থলের উদ্যেশ্যে রওনা হয়েছে এমন খবর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানালেও রুস্তম এখনও তার অবস্থানে জেলার দশমিনার বাশবাড়িয়ার চরে নোঙ্গর করে আছে।
পটুয়াখালীর নদী-বন্দরের উপ-পরিচালক মো. বদরুল আলম রাত সোয়া ১২টার দিকে বলেন, উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম ঘটনাস্থলের উদ্যেশ্যে রওনা হলেও ঘন কুয়াশার জন্য চলতে পারছেনা। আসলেই উদ্ধার কাজ শুরু করা হবে।
কুয়াশায় আটকে আছে পটুয়াখালী বন্দর কর্মকর্তার এমন বক্তব্যকে অস্বীকার করে মাস্টার বলেন, কুয়াশার কারনে নয়। নদীতে ভর জোয়ার চলছে, রুস্তম চরে আটকে যাওয়ার ভয়ে আমরা নোঙ্গর করে আছি।
এদিকে পটুয়াখালীর জেলা প্রসাশক অমিতাভ সরকার রাত ১১টার দিকে জানান বি আই ডব্লিউ টি এ’র উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম বরিশাল থেকে রওনা হয়েছে ।তবে ভিন্ন কথা জানালেন রুস্তমের কমান্ডিং কর্মকর্তা মো. আশ্রাফ হোসেন।
নৌ-সংরক্ষন ও পরিচালন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক রুস্তমের এই কমান্ডিং কর্মকর্তা রাত সাড়ে ১২টার দিকে বলেন, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার তেতুলিয়া নদীর বাশবাড়িয়ার চর নামক স্থান থেকে রওনা হলেও জাহাজটি এখন এগোচ্ছে না।
জাহাজ রুস্তমের সাহায্যকারী অগ্রগতি টাগ বোর্ডের মাষ্টার গোলাম ইউনুর আহমেদ আরো বলেন, কুয়াশার কারনে আমাদের জাহাজ নোঙ্গর করিনি। নদীতে ভর জোয়ার চলছে, এই মূহুর্তে যদি আমরা জাহাজ রুস্তম নিয়ে যাত্রা করি তাহলে বিপদের সম্ভাবনা আছে। কারন, নদীর বিভিন্ন স্থানে চর জেগে আছে। জোয়ারের জন্য চর গুলি দেখা যায় না। তাই জাহাজটি চলতি অবস্থায় হঠাৎ পানি কমে গিয়ে চরে আটকে যায় তাহলে রুস্তমকে নিয়েই বিপদে পড়তে হবে। একটু ফর্সা হলেই আমরা ঘটনাস্থল পটুয়াখালীর উদ্যেশ্যে রওনা হবো। তবে ঘটনাস্থলে পৌছতে কারখানা ও ঝিলনা নদী পার হতেও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কারন নদীতে পলি পড়ে ঝিগঝাক হয়ে গেছে। ওই সব নদী পথ পাড় হতে আবারও জোয়ারের দরকার আছে এবং অপেক্ষা করতে হতে পারে। তাই কখন নাগাদ পৌছতে পারবে রুস্তমকে নিয়ে সে ব্যাপারে সন্দিহান তিনি।
পটুয়াখালী বন্দর কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে নিজে রয়েছেন দাবি করেন এবং বরিশাল থেকে কর্মকর্তা আসছেন তারাও ঘটনাস্থলে আছেন এমন কথা বললেও বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহীদুল্লাহ মিয়া রাত সাড়ে ১টার দিকে মোবাইল ফোনে বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনার অবস্থান পরিদর্শন করতে পটূয়াখালীতে রাত ৯টায় ঘটনাস্থলে এসে পৌছেছেন। রাত সাড়ে ৯টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা শহরের একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন তিনি।
উল্লেখ্য সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নৌ-বন্দর কর্মকর্তা বদরুল আলম জানান, যাত্রী নিয়ে এমভি সাথিল-১ একতলা লঞ্চটি রাঙ্গাবালী থেকে পটুয়াখালীতে আসতে একটু দেরী করে। ওই লঞ্চে থাকা ঢাকার উদ্দ্যেশে পাঠানো মাছের শতাধিক প্যাডি, ককশিট ও ডোল ঢাকাগামী দোতলা এম ভি আচল-৫ লঞ্চে তোলার জন্য ঘাটে ভীড়ে যাত্রী না নামিয়েই আচলকে লক্ষ করে চালাতে থাকে। এক পর্যায়ে আচল লঞ্চের কাছাকাছি পৌছলে সাথিলের গ্রাফি ফেলে দোতলা লঞ্চের সাথে বাঁধতে চায়। এসময় গ্রাফির মোটা কাছি আচলের পাখায় জড়িয়ে গিয়ে পেচিয়ে সাথিল পানিতে ডুবে যায়। তবে সাথিল লঞ্চে অল্প কিছু যাত্রী ছিল বলেন কর্মকর্তা।
[b]পটুয়াখালী,২৮জানুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
উদ্ধার করতে এসে, উদ্ধারকারী জাহাজ নিজেই বিপদে
পটুয়াখালীর লোহালীয়া নদীতে দোতলা লঞ্চের ধাক্কায় একটি একতলা লঞ্চ ডুবে যাওয়ার ৮ ঘন্টা পরেও উদ্ধার কাজ শুরু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। উদ্ধার কাজে আসতে রওনা দেওয়া জাহাজ রুস্তম নিজেই বিপদে পড়েছে এমন দাবি কর্তৃপক্ষের। ঘটনার পর ঘন্টা স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালিয়ে শিশু ও মহিলাসহ কমপক্ষে ৩৫ যাত্রী উদ্ধার করলেও নিঁখোজ রয়েছে বেশ কিছু যাত্রী এমন ধারনা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া এলাকাবাসীর





