‘জেন, জেন, ইওর হাউজ ইজ নাইস! বাট মাদারস্ অ্যান্ড চিল্ড্রেন পেইড দ্য প্রাইস।’ এর অর্থ হলো জেন জেন তোমার বাড়িটি সুন্দর! কিন্তু তার মূল্য দিয়েছে মা ও শিশুরা। এই জেনকে নিয়ে একটি প্লাকার্ডের কোলাজ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশাল লেবার রাইটস ফোরাম। তাতে লেখা: ‘চিল্ড্রেন প্লেস, তোমরা আমাদের এতিম বানিয়েছ। এখনই আমাদের পাওনা দাও।’ এই জেনের পুরো নাম জেন এলফার্স। আমেরিকার নিউ জার্সির বার্গেন কাউন্টির এলেনদেল শহরে তার বাড়ি। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ধনাঢ্য মহিলার তালিকায় তার নাম আছে। জেন সম্প্রতি রানা প্লাজার ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ঘটা করে একটি ক্ষতিপূরণ তহবিলের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে তা পরিমাণে খুবই সামান্য। টাকার পরিমাণে সাড়ে চার লাখ ডলার।
৯৯ পিকেটস নামে একটি লেবার অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ হঠাৎ একটি গানের দল নিয়ে জেনের বাড়িতে হাজির। তাদের কণ্ঠে গান। গানে গানে প্রতিবাদ। রানা প্লাজায় হতাহতদের ভুক্তভোগী শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর। জেন নিউ জার্সির সিককাসভিত্তিক শিশু পোশাকের বিশ্ববিখ্যাত ব্রান্ড চিল্ড্রেন’স প্লেসের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও। গত বছর চিল্ড্রেন প্লেস নিট মুনাফা করেছে ৫৩ মিলিয়ন ডলার। গত ১২ই এপ্রিল ওই বিক্ষোভকারীরা জেনের বাড়ির সামনে গিয়ে বলেছে, ‘তোমার ওই মুনাফায় রক্তের দাগ লেগে আছে। সেই রক্ত রানা প্লাজার গার্মেন্টস কর্মীদের।’
গত ২৬শে মে নিউ জার্সিভিত্তিক একটি ব্লগে ৭০টি মার্কিন শ্রমিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের মোর্চা নিউ জার্সি ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্ট কাউন্সিলের সভাপতি জন পাজাক এক নিবন্ধে প্রশ্ন তোলেন, যে সহায়তা তাদের দেয়া দরকার তার তুলনায় এ অনুদানের অঙ্কটা কতটা গ্রহণযোগ্য?
জন পাজাক লিখেছেন, চিল্ড্রেন প্লেস রানা প্লাজার দুঃখী পরিবারগুলোকে তাই দিয়েছে, মিজ জেন এলফার দেড় সপ্তাহে যে পরিমাণ আয় করেন। এর মাধ্যমে তারা আসলে প্রচারণাগত ফায়দাই তুলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতি তাদের অনুদান হচ্ছে মাথাপিছু ২০০ ডলারের কম। অন্য কথায় রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় নিহত আহত ও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য যে পরিমাণ সাহায্যের দরকার বলে অনুমান করা হয়েছিল, সেটার তুলনায় এ অর্থ ৬ শতাংশেরও কম। তাদের এ নীতির প্রতিবাদে ভোক্তা, ছাত্র, ইউনিয়ন পরিবেশবাদী গ্রুপ এবং নিউ জার্সির উদ্বিগ্ন বাসিন্দা এবং গোটা আমেরিকা জুড়ে চিল্ড্রেন প্লেসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, পিটিশন দায়ের এবং অন্যবিধ ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে।
পাজাক আরও লিখেছেন, এলফার্স কখনও সেসব মা-বাবা-কন্যা-পুত্র-বোন ও ভাইদের ফিরিয়ে দিতে পারবেন না, যারা রানা প্লাজায় এমন এক পরিবেশে তাদেরই জন্য পোশাক তৈরি করছিলেন, তাদের জন্য নিরাপত্তা রক্ষাকবচ সৃষ্টি করতে এলফার্স ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়া উচিত।
দি চিল্ড্রেন প্লেসের ট্রেড মার্ক হচ্ছে নাজদাক। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানির গত বছর রাজস্ব ছিল ১.৮ বিলিয়ন ডলার। নেট আয় ৬৩ মিলিয়ন ডলার। মোট সম্পদ ৯২৩ মিলিয়ন ডলার। ২২শে মে এপির রিপোর্ট বলেছে, আমেরিকায় ১১০০ বেশি রিটেইল স্টোর রয়েছে এই কোম্পানির।
গত ২৬শে মার্চ এ কোম্পানি ঘোষণা করে যে, তারা রানা প্লাজায় ‘উল্লেখযোগ্য অনুদান’ দিয়েছে। এ অর্থ তারা ব্রাক-ইউএসএ বাংলাদেশ হিউম্যানিটেরিয়ান ফান্ডে দিয়েছে। এটা হলো ২.২ মিলিয়ন ডলার। তারা আরও ঘোষণা দেয় যে, চিল্ড্রেন প্লেস উত্তর আমেরিকার শীর্ষ স্থানীয় অ্যাপারেল রিটেইলারদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, যার সঙ্গে সাবেক মার্কিন সিনেটর জর্জ মিশেল এবং অলিম্পিয়া স্নো রেয়েছে। তারা অ্যালায়েন্স ফর বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স সেফটি গঠন করতে চাইছেন। ৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে তারা ইতিমধ্যে সই করেছে। এটা হবে স্বচ্ছ, ফল অর্জন ধর্মী, পরিমাপ এবং যাচাইযোগ্য। এ কোম্পানি অন্য ২০টি দেশের সঙ্গে যুক্ত না হওয়ার কোন কারণ ব্যাখ্যা করেননি। বরং ওই অ্যালায়েন্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কৃতিত্ব দাবি করছে।
পাজাক এরপর বিবরণ দেন, রানা প্লাজায় ওই কোম্পানির পোশাক তৈরি হচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর প্রথমে তারা এর দায়দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেছিল। পরে ২০১৩ সালের ১লা মে তারা প্রকাশ্যে অঙ্গীকার করে, যথাসময়ে সাভারের ভাগ্যাহতদের জন্য আর্থিক সাহায্য ও সেবা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু এক বছর পরেও কোম্পানি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ এ কোম্পানি এবং তার সিইও জেন এলফার্স বিশ্ববাসীর সামনে সুন্দর সুন্দর বাণী দিয়ে চলেছেন।
চিল্ড্রেন প্লেসের ওয়েবসাইটে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, তাদের কোম্পানি এমন পোশাক সরবরাহকারীদের ব্যবহার করে না, যারা তাদের কারখানার কাজের পরিবেশ ও কর্মীদের নিরাপত্তা সুরক্ষা দিতে অসমর্থ থাকে। এদিকে বিশ্বের কুড়িটির বেশি দেশের ১৫০টি পোশাক ব্রান্ড ও রিটেইলার গ্রুপ গত বছর বাংলাদেশের দেড় হাজার গার্মেন্ট কারখানার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে অগ্নিকাণ্ড ও দালান সংক্রান্ত একটি অ্যাকর্ড ঘোষণা করে। অথচ তখন তাতে অংশ নিতে তারা অস্বীকৃতি জানায়। এ চুক্তি বাস্তবায়ন হলে চিল্ড্রেনস প্লেসের মতো যেসব কোম্পানি রানা প্লাজায় কাজ করেছিল, তাদের কারখানা স্বাধীন সেফটি ইন্সপেকশনের আওতায় আসবে। আর পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কারখানায় যত ধরনের সমস্যা চিহ্নিত হবে, সেগুলো মালিক পক্ষকে শোধরাতে হবে। প্রতিটি কারখানায় শ্রমিকদের নেতৃত্বে সেফটি কমিটি থাকবে। শ্রমিকদের সেফটি অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রমিক ইউনিয়নগুলো শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেবে, সচেতন করবে। অথচ চিল্ড্রেন প্লেসের সঙ্গে থাকতে রাজি নয়। তারা বরং ওয়াল-মার্ট এবং অন্যান্য আউট সোর্সিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সুর মিলিয়ে একটি পৃথক সেফটি উদ্যোগ নিয়েছে। এটা হবে একান্তভাবেই কর্পোরেট নিয়ন্ত্রিত। সেখানে শ্রমিকের কোন অংশগ্রহণ থাকবে না। এর কোন নখদন্তও থাকবে না।
[b]ঢাকা, ৩০ মে(টাইমনিউজবিডি.কম)//এনএস[/b]
শ্রেণীহীন
জেনের ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ, ক্ষতিপূরণ তহবিলে ৪ লাখ ডলার
‘জেন, জেন, ইওর হাউজ ইজ নাইস! বাট মাদারস্ অ্যান্ড চিল্ড্রেন পেইড দ্য প্রাইস।’ এর অর্থ হলো জেন জেন তোমার বাড়িটি সুন্দর! কিন্তু তার মূল্য দিয়েছে মা ও শিশুরা। এই জেনকে নিয়ে একটি প্লাকার্ডের কোলাজ প্রকাশ করেছে





