[b]দামেস্ক:[/b] শান্তি আলোচনা যোগ না দিলে সিরিয়ার ন্যাশনাল কোয়ালিশনের ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য সমর্থন প্রত্যাহার করে নেবে বলে দেশ দুটি সতর্ক করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির বিরোধী দলের একজন নেতা । জানুয়ারি মাসের ২২ তারিখে জেনেভায় এই আলোচনা শুরু হবার কথা রয়েছে।
দেশটিতে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আগামী সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে জেনেভা-টু নামে একটি শান্তি আলোচনা শুরু হবার কথা রয়েছে।
আলোচনা শুরুর প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য কোয়ালিশনের ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর অব্যাহত চাপের বিষয়টি-ই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শান্তি আলোচনাকে সফল করার উদ্দেশ্যে সোমবার প্যারিসে বৈঠক করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভাদ জারিফ বলেছেন, সিরিয়ার যুদ্ধ বন্ধে তার দেশ সহযোগিতা করতে চায়, এবং সে লক্ষ্যে জেনেভায় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি প্রস্তুত।
জারিফ বলছেন যে, যারা মনে করে সামরিক পন্থায় সিরিয়া সমস্যার সমাধান হবে তারা ভুল করছেন।
একমাত্র আলোচনার মধ্য দিয়েই এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, এবং একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়েই হতে পারে এর চূড়ান্ত সমাধান।
শান্তি আলোচনায় কোয়ালিশন যোগ না দিলে সিরিয়ার সংঘাতময় পরিস্থিতি বন্ধে পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্যোগ কার্যত ভেস্তে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে দেশটির উদারপন্থী বিরোধীদের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার এখনো যোগাযোগ রেখে চলছে।
এদিকে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, সিরিয়ায় মানবিক সাহায্য সংস্থা প্রবেশের অনুমতি দেয়া হতে পারে।
দেশটিতে সরকার এবং বিদ্রোহী দলগুলোর মধ্যকার সংঘাতে আটকে পড়া মানুষদের জন্য মানবিক সাহায্য গ্রহণে সিরিয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি।
দামাস্কাসে কমিটির মুখপাত্র সাইমন শর্ন বলছেন যে সেখানকার দুর্গত মানুষেরা খাদ্য এবং চিকিৎসা সাহায্যের জন্য আবেদন জানিয়ে আসছে, আর রেডক্রস কমিটি জানে সেখানকার মানুষের এই মূহুর্তে কি প্রয়োজন।
কিন্তু বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও সেখানে মানবিক সাহায্য নিয়ে আসা কোন দলকে ঢুকতে অনুমতি দিচ্ছে না দেশটির সরকার।
দেশটিতে চলা সংঘর্ষে গত প্রায় তিন বছরে অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সূত্র: বিবিসি





