‘ভিতরগড় দূর্গনগরী’ বাংলাদেশে এ যাবত প্রাপ্ত প্রাচীন দূর্গনগরী গুলির মধ্যে সর্ব বৃহৎ। ভিতরগড় দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার জায়গা জুড়ে অবস্থিত।
প্রাচীন এই দূর্গনগরীর মাটির নিচে লুকিয়ে আছে নানা ইতিহাস। মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে দুর্লভ সব প্রাচীন স্থাপনা। ভিতরগড়ের মাটি খনন করে আরও দু’টি প্রাচীন মন্দির সাদৃশ্য স্থাপনার সন্ধান পেয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)এর গষেকরা।
ধারণা করা হচ্ছে নতুনভাবে সন্ধানপ্রাপ্ত এই দুটি স্থাপনা অষ্টম শতকে প্রাচীন ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র অনুসরণ করে নির্মিত। ৫ বছর আগে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস এর অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুসনে জাহান নিজ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের নিয়ে এই দূর্গনগরীতে গবেষণা ও খনন কাজ শুরু করেন।
প্রথম পর্যায়ে কয়েক দফা খননে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু প্রত্নতাত্তিক নিদর্শনসহ ৬ টি প্রাচীন স্থাপনা। খননের পর ওই স্থাপনাগুলি আবার প্রত্নতাত্তিক কায়দায় মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। সম্প্রতি গত ২৪ নভেম্বর নতুন করে শুরু হয় ভিতরগড় প্রত্নতত্তস্থলের খনন কাজ। প্রায় ২ মাসের খননে নতুন করে (২৮ জানুয়ারী পর্যন্ত চলমান) বেরিয়ে আসে মন্দির সাদৃশ্য প্রাচীন দু’টি স্থাপনা। ভিতরগড় মহারাজা দিঘীর দ্বিতীয় আবেষ্টনীর দেয়ালের বাইরে ২৫ বর্গমিটার এলাকায় একটি এবং আবেষ্টনী দেওয়ালের ভিতরে ১৫ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে আরও একটি প্রাচীন মন্দির সাদৃশ্য স্থাপনা বের হয়েছে। নতুন করে বের হওয়া এই স্থাপনা দু’টি দেখতে ভিতরগড় এলাকায় ভিড় করছেন অসংখ্যা দর্শনার্থী।
প্রত্নতাত্তিক বিষয়ে বাংলাদেশের প্রথম পিএইচডি ডিগ্রীধারী নারী ড. শাহনাজ হুসনে জাহান বলেন, আমরা ভিতরগড় প্রত্নতাত্তিক সমীক্ষা গবেষনা ও খনন শুরু করেছি ২০০৮ সালে, এই দূর্গনগরীর ৪টি আবেষ্টনী দেওয়ালদ্বারা পরিবেষ্টিত, এর ভিতর থেকে আমরা ৮টি স্থাপনার সন্ধান পেয়েছি যার মধ্যে ৪টি ধর্মীয় স্থাপনা, বাকীগুলো নিয়ে গবেষনা চলছে। তিনি বলেন, এই দূর্গনগরী কে বা কারা নির্মাণ করেছেন, কারা এই প্রাচীন সভ্যতায় প্রাচীন জনপদে বসবাস করেছেন তা এই পর্যন্ত সঠিক ইতিহাস উৎঘাটন করা সম্ভব হয় নি। তবে স্থানীয় জনশ্র“তি মতে কোন এক পৃথুরাজা এখানে বসবাস করেছিলেন এবং তিনিই এখানে রাজত্ব করেছিলেন। ভিতরগড় দূর্গ নগরীর আদি ঐতিহ্য উৎঘাটনের পাশাপাশি ভিতরগড়কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাবেন তিনি।
ভিতরগড় দূর্গনগরীর খনন কার্যে প্রথম অবস্থায় স্থানীয় জনগণের আপত্তি থাকলেও বর্তমানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রেজাউল করিম বলেন, নতুন এই মন্দিরটি আমাদের জমিতেই বের হয়েছে। এখানে খনন করবেন বলে ম্যাডাম (ড. শাহনাজ হুসনে জাহান) যখন আমার বাবার কাছে অনুমতি চান তখন আমরা অনুমতির পাশাপাশি তাকে সহযোগিতা করছি।
ভিতরগড় দূর্গনগরীর বাইরের আবেষ্টনীর উত্তরাংশ, উত্তর-পশ্চিমাংশ এবং উত্তর-পূর্বাংশ বর্তমানে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত হওয়ায় ধারণা করা হয় যে, ৬ষ্ঠ শতকের শেষে কিংবা সপ্তম শতকের শুরুতে ভিতরগড় একটি স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং প্রাচীন বাণিজ্য সড়ক ও নদীপথের উপর অবস্থিত হওয়ায় ভিতরগড় এলাকার অধিবাসীরা সম্ভবত নেপাল, ভূটান, সিকিম, আসাম, কুচবিহার, তিব্বত, চীন, বিহার, এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ বাংলার সাথে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছিল।
ভিতরগড় দূর্গনগরী শুধু প্রাচীন স্থাপত্যেই সীমাবদ্ধ নয় এর অভ্যন্তরে রয়েছে প্রাচীন ১০টি দিঘী ও দু’টি নদী। তন্মধ্যে ৫৩ একর জমির উপর অবস্থিত ঐতিহাসিক মহারাজা দিঘী। যার রয়েছে ইট বাধানো ১০টি ঘাট এবং ঘাটের উভয় পার্শ্বে ইট ও মাটি দিয়ে নির্মিত সু-উচ্চ পাড় যা নৈসর্গিক দৃশ্যের এক অসাধারন নিদর্শন।
ভিতরগড় প্রত্নতত্তস্থলকে হেরিটেজ সাইট হিসেবে সরকারের প্রতি ঘোষনার দাবি জানিয়ে ড. শাহনাজ হুসনে জাহান বলেন, অপার সম্ভাবনাময় এই ভিতরগড় দূর্গনগরী শুধু বাংলাদেশ নয় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ইতিহাস নির্মাণে প্রয়োজনীয় ঐতিহাসিক উৎস সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করে। পর্যটন শিল্পের জন্য ভিতরগড় প্রত্নতত্তস্থল হতে পারে বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত নিদর্শনের এক বিশাল ভান্ডার।
[b]পঞ্চগড়,এলআর,৩০জানুয়ারি,(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
ভিতরগড় দূর্গনগরী মাটি খুঁড়লেই বেরিয়ে আসছে ইতিহাস
‘ভিতরগড় দূর্গনগরী’ বাংলাদেশে এ যাবত প্রাপ্ত প্রাচীন দূর্গনগরী গুলির মধ্যে সর্ব বৃহৎ। ভিতরগড় দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সদর উপজেলার





