রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক)হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলায় ১০ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টায় হাসপাতালের ১৩ নং ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ১৩ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় ইন্টার্নি চিকিৎসকরা ওই রোগীর স্বজনদের মারপিট করার জন্য ১৩ নং ওয়ার্ডের সামনে জড়ো হতে থাকে।
এ খবর শুনে সংঘাত থামাতে ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গেটে তালা দেয় পুলিশ। এর পরও ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তালা ভেঙে ওয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশ করে রোগীর স্বজনদের উপর পাল্টা হামলা চালায়।
এ ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে চ্যানেল-২৪ এর সাংবাদিক আবরার শাইর ও ক্যামেরাম্যান আবু রায়হান ঘটনাস্থলে গেলে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ইন্টার্নি চিকিৎসকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তারা ক্যামেরা ভাংচুর করে আবু রায়হানকে ছেড়ে দিলেও আবরার শাইরকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
খবর পেয়ে পুলিশের সহযোগিতায় আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আবরার শাইরকে উদ্ধারে ওই ওয়ার্ডে যায়। এসময় আবারও ইন্টার্নি চিকিৎসকরা সাংবাদিকদের ওপরে হামলা চালায়। এসময় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান রাশেলসহ আরও ৯ জন আহত হন। হামলাকারীরা সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভাঙচুর চালায়।
আহত চ্যানেল-২৪ এর ক্যামেরাম্যান আবু রায়হান ও যমুনার ক্যামেরাম্যান রাসেলকে নগরীর লক্ষ্মীপুরস্থ ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ গিয়ে ১৩ নং ওয়ার্ডের কাছে অবরুদ্ধ আব্রার শাইরকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
ঘটনার পর সাংবাদিকরা রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে এসে অবস্থান নেন। এসময় রামেক হাসপাতালে আসেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোসাদ্দেক হোসন বুলবুল, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন আয়েনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এস.আই মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ নিয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিনের কক্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনার পর থেকে চিকিৎসকরা অঘোষিত কর্মবিরতি পালন করছেন বলেও জানান তিনি।
[b]ঢাকা, ২১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]