[b]ঢাকা:[/b] প্রধান বিরোধী জোটের বর্জন এবং ভোটার উপস্থিতির গরীবী হালের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ব্রিটেনের পার্লামেন্ট হাউস অব কমেন্সে বিতর্ক হয়েছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বির্তকে দ্রুত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আরেকটি নির্বাচনের জন্য সর্ব সম্মতিক্রমে বিল পাশ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা এই বিতর্ক করেছেন। ফ্রান্সের স্টার্সবার্গে অবস্থিত পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ পার্লামেন্টে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ বিতর্ক হয়। বিতর্কে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উঠে আসে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900020.jpg[/img]
জানা যায়, বাংলাদেশের অনুষ্ঠিত হওয়া ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশটির প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলসহ আরো কয়েকটি দলের অংশগ্রহণ ছাড়াই যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তা নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা হতাশা ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে ওই পার্লামেন্টের বেশ কয়েকজন সদস্য আলোচনার জন্য অনুরোধ করায় এ বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানানো হয়। এছাড়া অতি দ্রুত আরেকটি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য বিলও উঠবে। বেলজিয়াম বিএনপির ঐকান্তিক চেষ্টায় এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এ পার্লামেন্ট। এছাড়া নির্বাচনের সময় সহিংসতায় নারী, শিশুসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার নিন্দা জানায় তারা। এসব ঘটনায় অনেক মানুষ হতাহত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনাও জানায় ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900170.jpg[/img]
এদিকে, বাংলাদেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর তাগিদ দিয়েছে ব্রিটেনের পার্লামেন্ট হাউস অব কমেন্স। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের আশঙ্কা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়া এবং মত প্রকাশের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত না থাকা বাংলাদেশকে আরো অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত করবে।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বিতর্কে এসব কথা বলা হয়। বিতর্কে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন, নতুন সরকার এবং সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিষয়গুলো উঠে আসে।
বাংলাদেশ বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের চেয়ারম্যান এ্যান মেইন এর উপস্থাপনায় বিতর্কে অংশ নেন, বৃটিশ এমপি রেহমান চিশতি, জনাথন অ্যাসওর্থ, জেরেমি করবিন, মার্ক ফিল্ড এবং নিক ডি বয়িস।
এ্যান মেইন তার বক্তব্যে বলেন, আমি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রের জন্য একসাথে বসে কাজ করার আহবান জানাই। নির্বাচনের আগে সিনিয়র মন্ত্রী সাঈদা ব্যারোনাস ওয়ার্সি দেশটি সফরে যান এবং শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে সমঝোতার জন্য সংলাপের তাগিদ দেন। কিন্তু এ উদ্যেগ ফলপ্রসূ হয়নি।
রেহমান চিশতি এমপি বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারের ওপর বিশ্বাসের অভাব থেকেই কয়েক বছর যাবত তত্ত্ববধায়ক পদ্ধতিতে নির্বাচন হচ্ছে। একই পদ্ধতি চালু আছে পাকিস্তানেও।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দুই নেত্রীর উচিত নিজেদের মধ্যে মত-পার্থক্য দূর করা। এসব ভুলে দেশ ও জনগণের স্বার্থকেই তাদের সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিত। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য তাদের কাজ করতে হবে।
বিতর্কে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন সম্পর্কে বলা হয়, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলেও তাতে সব দলের অংশ গ্রহণ হয়নি। ভোটে অংশ নিতে পারেনি সব ভোটাররা। বিরোধীদল বিহীন নির্বাচনে ৩০ শতাংশ ভোট পড়ে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900231.jpg[/img]
বিতর্কে বলা হয়, ২০০৬ সালের পর ২০১৩ সালে এসেও কার্যত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। দেশটির গণতন্ত্রের উন্নয়নে যুক্তরাজ্য সরকার যে সহায়তা দিচ্ছে তার ফলাফল খুবই দুঃখজনক।
বাংলাদেশের জনগণের তত্ত্বাবধায়কেই আস্থা উল্লেখ করে বিতর্কে বলা হয়, নিরপেক্ষ তত্ত্ববধায়ক সরকারেই দেশটির অধিকাংশ জনগণ বিশ্বাস করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের সব নির্বাচনেই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ, তাদের প্রাণহানি ঘটে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900341.jpg[/img]
সেখানে গত বছরের রানা প্লাজা ট্রাজেডি থেকে শুরু করে নির্বাচনের পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরর উপর হামলার বিষয়েও উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় বিরোধীদের প্রধান জোটসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বর্জনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে।
নির্বাচনের দিনে বেলা ১২ থেকে ১ টা পর্যন্ত অর্থাৎ ভোট গ্রহণের অর্ধেকেরও বেশি সময় পর্যন্ত অধিকাংশ কেন্দ্রে ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভোট পড়ে। এমনকি বেশ কিছু কেন্দ্রে কোন ভোট না পড়ারও নজীর সৃষ্টি হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই বিকেলে ভোটের হিসাব দ্রুত পাল্টে যায়। ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি সকালের মতোই সামান্য থাকলেও ফলাফলে দেখানো হয় ভিন্ন চিত্র।
এমনকী শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে বলা হয় প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে, যদিও দেশ বিদেশী একাধিক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সংস্থার দাবি সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ শতাংশ ভোট পড়েছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900509.jpg[/img]
এদিকে, গত বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দাবি করেন বিতর্কিত নির্বাচনে ৫ শতাংশের মতো ভোট পড়েছে।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900566.jpg[/img]
এছাড়া নির্বাচনের দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জাল ভোট দেয়ার বেশ কিছু ঘটনা হাতে নাতে ধরা পড়ে সাংবাদিকদের কাছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বেশ কিছু জাল ভোটের সচিত্র প্রতিবেদনও প্রকাশ ও প্রচারিত হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389900606.jpg[/img]
এমনই পটভূমিতে প্রধান বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি ওঠে বিতর্কিত ১০ম সংসদ নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একাদশ নির্বাচনের ব্যবস্থা করার।
আর এই প্রেক্ষাপটে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বাতিলের জন্য বিতর্ক হলো বিশ্বের সর্ববৃহৎ ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট এবং ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউস অব কমেন্সে। তবে, আওয়ামী লীগ সরকার আগামী ৫ বছরই ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে দৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করেছে এরই মধ্যে। এমনই বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার বিষয়।
দ্রুত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, সমঝোতার তাগিদ ইইউ পার্লামেন্ট ও হাউস অব কমেন্সের
ঢাকা: প্রধান বিরোধী জোটের বর্জন এবং ভোটার উপস্থিতির গরীবী হালের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হওয়া ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ব্রিটেনের পার্লামেন্ট হাউস অব কমেন্সে বিতর্ক হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বির্তকে দ্রুত সবার কাছে গ্রহণযোগ্য আরেকটি নির্বাচনের জন্য সর্ব সম্মতিক্রমে বিল পাশ হয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলন মোকাবিলায় অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার সিদ্ধান্ত সরকারের
পোশাক শ্রমিকদের টানা কয়েক দিনের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠনের পর প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
‘শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার জন্য সরকারের অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকারের অপরিকল্পিত ও অপরিপক্ব সিদ্ধান্ত দায়ী। শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সংকট সমাধান করুন।
শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে: রিজভী
শ্রমিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেন, পরাজিত শক্তি শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। তবে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করতে সরকার কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শ্রমিকদের বিক্ষোভে কিছু শিল্পমালিক,সাবেক এমপি-মন্ত্রীরাও জড়িত
পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভকে ঘিরে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিল্পমালিকের বিরুদ্ধে। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা রয়েছেন। এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীরাও এতে জড়িত বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আমুসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) দাখিল করা হয়েছে।
















