দুর্নীতি দমন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, তাই মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মোহাম্মদ আবু হেনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি দমন করা তাই আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। তার চেয়েও বেশি কঠিন সুষ্ঠু নির্বাচন করা। সরকার জনমতকে ভয়পায় বলেই এই দেশে সত্যিকার গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না।
মঙ্গলবার দুপুরে দুদক কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ- ২০১৪ উপলক্ষে “রাজনৈতিক ঐক্য ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, দুর্নীতি দমন ও প্রতিরোধে প্রধান নিয়ামক” শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামনের সভাপতিত্বে এবং বৈশাখী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক মঞ্জুরুল আহাসান বুলবুলের পরিচালনায় এই সেমিনারে প্রবন্ধ উপন্থাপন করেন, সিপিডি.ফেলো. ড. রওনজ জাহান। আলোচনায় অংশ নেন, দুদক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কমিশনার ড. নাসির উদ্দীন আহমেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার,এনাম আহমেদ চৌধুরী, প্রধান তথ্য কমিশনার মো. ফারুক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আনিসুল হক, প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা ফেরদৌস আহমেদ, দৈনিক অর্থনীতির সম্পাদক জাহিদুজ্জামান ফারুক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ , জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবুল কাশেম, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ, নাট্যকার মামুনুর রশীদ,সিপিবি’র সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার প্রমুখ।
মোহাম্মদ আবু হেনা বলেন, ২০০৪ সালের তৈরি আইনের বলে এই প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনে রাজনীতিবিদরা পরাজয় মেনে নেয়ার মানসিকতা হারিয়ে ফেলেছে। এখন রাজনীতি ও নির্বাচনে অর্থায়ন সিস্টেমের ফলে সকলেই ক্ষমতায় টিকে থেকে অবৈবধ সম্পদের মালিক হতে চায়। আবার কেউ ক্ষমতায় গিয়ে রাতারাতি অনেক সম্পদের মালিক হবার জন্য পেশি মক্তি কাজে লাগায়।
প্রশাসনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার আগে সৎ ও যোগ্য লোকজনকে নিয়োগ দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবন্ধকার ড.রওনক জাহান বলেন, মাত্র ৮ পারসেন্ট মানুষ দুদকের কার্যক্রমের উপর আস্থা রেখেছে। ৯২ পারসেন্ট মানুষ দুদকের কার্যক্রমের নিরপেক্ষতা এবং ক্ষমতা সম্পর্কে সন্দিহান। দুদক বিরোধী দলকে ধমনে কাজ করে এমন অভিযোগ উঠেছে।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং ঐক্য ছাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রশাসন সম্পূর্ণরূপে দলীয়করণ হয়ে গেছে। নিয়োগ-বদলি-পদ্দোন্নতি-পদাবনতি এ সব প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়ম অনুসারে না হলে প্রশাসন কখনো দলীয়করণমুক্ত হতে পারবে না।’
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, ‘পত্রিকাতে ভুল সংবাদ ছাপা হলে অনেক সময় দেখা যায়, সরকার তার প্রতিবাদ জানায়। তবে বাকি সত্য সংবাদগুলোর জন্য সরকার তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। যারা রাজনীতি করেন, তারা না চাইলে কিছুই হবে না।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘সমাজে ন্যায় বিচার বলে কিছু নেই। কমিশনের শক্তিও সীমিত।’
সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের আগে এমপি প্রার্থীদের হলফনামায় দেয়া সম্পদের তথ্য উপাত্ত প্রকাশ করায় তারা সুজনের বিরুদ্ধে লেগেছে। শুধু সাবেক মন্ত্রী এমপিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে কেনো দুদকের উচিত আরও যারা আছে তাদের বিষয়ে তদন্ত করা। উপজেলা নির্বাচনে কি চিত্র আপনারা দেখতে পেয়েছেন। এসব বিষয়ে কথা বলা উচিত।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সমাজে অনুসরণ করার মত সৎ মানুষ কমে গেছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে বর্তমান সরকারকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। দুদককে শক্তিশালী করতে পারলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমবে।’
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। প্রতিটি মানুষের জন্য সু-শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।’
সিপিবি’র সভাপতি মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘বর্তমানে দুর্নীতি এমনভাবে ছড়িয়ে গেছে যে, সর্বাঙ্গে ব্যাথা ঔষধ দেবো কোথা?- এমন অবস্থা হয়েছে। আমাদের দেশের প্রধান ২ দলের মধ্যে আর কোন ঐক্য না থাকলেও একটি বিষয়ে ঐক্য আছে, তা হলো লুটপাটের ঐক্য। এর কারণ হলো, তারা দুর্নীতিবাজদের কাছে জিম্মী।
ঢাকা, একে ,১ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি .কম)//এসআর
শ্রেণীহীন
মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না দুদক: আবু হেনা
দুর্নীতি দমন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, তাই মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) মোহাম্মদ আবু হেনা। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি দমন করা তাই আগের চেয়ে অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।





