[b]ওয়াশিংটন:[/b] আমেরিকা ত্যাগের অনুমতি পেয়েছেন ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানী খোবরাগাড়ে। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন এক টুইটার বার্তায় জানান, দেবযানীকে পূর্ণ কূটনৈতিক দায়মুক্তির মর্যাদায় জি-ওয়ান ভিসা দেয়া হয়েছে এবং তিনি দেশের উদ্দেশে যাত্রা করছেন।
এরআগে বৃহস্পতিবার আদালতের শুনানির পর খোবরাগাড়ের আইনজীবী ড্যানিয়েল আরশাক জানান, তার মক্কেল ‘মাথা উঁচু’ করে দেশে ফিরছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা বলছেন, ৩৯ বছর বয়সী দেবযানী খোবড়াগাড়েকে কূটনৈতিক রেহাইয়ের সুবিধা দেয়া হয়েছে। অভিযোগ গঠনের আগে বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র দফতর থেকে খোবরাগাড়েকে আমেরিকা ছাড়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
ভুল তথ্য দিয়ে কাজের মেয়ের জন্য ভিসা নেয়ার অভিযোগে বৃহস্পতিবার আমেরিকান আদালতে দেবযানীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। একই সঙ্গে ৩৯ বছর বয়সী এ ভারতীয় কূটনীতিককে দায়মুক্তি দেয়া হয়। ফলে তার আমেরিকা ছেড়ে যাওয়ার পথ সুগম হয়।
ভিসা দুর্নীতির পাশাপাশি কাজের মেয়ে সঙ্গীতা রিচার্ডকে প্রতিশ্রুতির চেয়ে অনেক কম পারিশ্রমিক দেয়ার অভিযোগ গত মাসে খোবরাগাড়েকে আটক করে আমেরিকান নিরাপত্তা বাহিনী। তারা বিবস্ত্র করে দেবযানীর দেহ তল্লাশি করে।
এ ঘটনায় ভারত চরম ক্ষুব্ধ হয় এবং ওয়াশিংটনকে নয়াদিল্লির কাছে ক্ষমা চাইতে বলে। কিন্তু মার্কিন সরকার ওই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করে।
সঙ্গীতার পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তার বিরুদ্ধে চুরি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ আনেন খোবরাগাড়ে।
ভারতীয় নারী কূটনীতিককে আটকের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ভারত সরকার তার দেশে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা শিথিল করে এবং দেশটিতে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। শেষ পর্যন্ত নয়াদিল্লির চাপের মুখে নতি স্বীকার করে ওয়াশিংটন দেবযানী খোবরাগাড়েকে দেশে ফেরার অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, রয়টার্স, বিবিসি।