জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান  বিচারকদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘বিবেককে জাগ্রত করে বিচারকাজ করতে হবে। দরিদ্র ও দুঃখী মানুষের কান্না যদি আদালতের দ্বারে না পৌঁছে, তাহলে বিচার ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে।
ড. মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার সকালে যশোরে একটি কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এ মন্তব্য করেন।
রাইটস যশোর নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন স্থানীয় একটি হোটেলে ‘রেসকিউইং দ্য ভিকটিমস অব টিআইপিস : চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড লেসনস লার্ন্ট’ শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করে।
ড. মিজান বলেন, দরিদ্রদের ওপর অন্যায়ের কশাঘাত চলছে। সেই দিন শেষ করতে হবে। কেউই যেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে, সে অবস্থা সৃষ্টি করতে হবে। না হলে ভঙ্গুর অবস্থা আরও ভঙ্গুর হবে।’
তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পর কারও মনে সন্দেহ থাকা উচিত হবে না যে, আইনকে নিজের মতো ব্যবহারের দিন শেষ। আইন নিজ গতিতে চলবে।’
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. মিজান ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনের উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘অন্যকে গালিগালাজ নয়, সুশাসনের দিকে নজর দিতে হবে। সুশাসনের অভাব হলেই মানবাধিকার হুমকিতে পড়ে। সুশাসন ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সবাইকে ভূমিকা পালন করতে হবে। কে সরকারি দল আর কে বিরোধী দল, তা বিবেচ্য হতে পারে না।’
উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. মিজান বলেন, ‘আইন অনুযায়ী ক্ষমতা প্রয়োগ করুন। কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বলুন। আমরা দেখব।’
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ ড. মো. গোলাম মোর্তজা মজুমদার। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুস সালাম, সিআইডি ঢাকার সিনিয়র এসপি মতিউর রহমান, যশোরের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।
[b]ঢাকা, ২৮ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]