এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী ও সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান শনিবার এক যুক্ত বিজ্ঞপ্তিতে এদেশের রফতানি মুখীশিল্পের ওপর থেকে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা বলেন,দেশের রফতানিমুখী  শিল্প নানা প্রতিকুল অবস্থার সম্মুখীন। রফতানি শিল্প উদ্যোক্তাদের  দুর্দশার শেষ নেই। এছাড়া দফায় দফায় জ্বালানি তেল,বিদ্যুৎ,গ্যাস,ফ্যাক্টরী,স্থাপনা ভাড়া,উৎসে কর,আয়কর,আমদানি শুল্ক,ব্যাংকের সুদ হার বৃদ্ধিসহ কাচাঁমাল আমদানি ও রফতানি পণ্য পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত  ১ মার্চ  থেকে বিদ্যুতের মূল্য ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে প্রত্যক্ষভাবে ১ কোটির অধিক কর্মজীবী মানুষের কর্মসংস্থান মাধ্যম প্রায় ৫ কোটি ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা রয়েছে।  
তারা বলেন,২০১৩ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা,শ্রম অসন্তোষ,শিল্প-কারখানা ধ্বংসসহ রফতানিমুখী শিল্পখাতের জন্য একটি ঘটনা বহুল বছর। এছাড়া ইউরোপের প্রকট ঋণ-সংকট থাকা অবস্থায় শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সংকট “ফিসক্যাল ক্লিফ”,যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পোশাক রফতানি হ্রাস পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র একক বৃহত্তম পোশাকের বাজার হতে রফতানি আয় ক্রমাগতভাবে কমছে। এছাড়া রফতানিমুখী শিল্পে চরম বিশৃংখলার কারণে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়ও মন্দা শুরু হয়েছে।
ইএবি'র সভাপতি  ও সাধারণ সম্পাদক  বলেন, পোশাক ও বস্ত্র শিল্পখাতসহ রফতানিমুখী শিল্পের স্বাভাবিক ব্যবসা না করতে পারছে না।। এছাড়া দেশের ব্যাংকগুলোতে প্রায় ১ (এক) লক্ষ কোটি টাকা অলস অর্থ রয়েছে। যা ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক অবস্থা অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়।
ইএবি আরো জানায়,নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকার কারণে অঞ্চল ভিত্তিক ৩ ঘন্টা হতে ৫ ঘন্টার লোড শেডিং “বিদ্যুৎ বিরতি” থাকে। এ কারণে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওভার টাইম দ্বিগুণ হারে পিক আওয়ার রেটসহ মজুরী পরিশোধ করতে হচ্ছে। যেহেতু দেশের সর্ববৃহৎ কর্মসংস্থানকারী  সেক্টর,বার্ষিক প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার উপার্জনকারী,অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি,নারীর ক্ষমতায়নে এ সেক্টর সর্বোচ্চ অবদানকারী।
[b]ঢাকা, একে, ১৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]