অনেক সমালোচনার পর অবশেষে সোনার বার চুরির দায়ে রামপুরা থানার তিন পুলিশসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা দায়ের করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। দায়ের করা মামলা নম্বর ৩। তবে গোয়েন্দা পুলিশ মামলা করলেও তদন্ত করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার দিনগত রাতে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রামপুরা থানায় মামলা দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপুরা থানার সেকেন্ড অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি টাইম নিউজবিডিকে জানান, গোয়েন্দা পুলিশ (পূর্ব জোন) পরিদর্শক ফজলুল হক বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিন পুলিশসহ দুই সোর্সকে করা হয়েছে আসামী।
মামলায় এক নম্বর আসামি থানার সাব ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুল আলম । অন্য আসামিরা হলেন থানার কনস্টেবল ওয়াদেুল ও কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী, সোর্স  রনি ও সজিব শিকদার। এদের মধ্যে পুলিশ সোর্স সজিব শিকদার পলাতক বাকিরা সবাই গ্রেফতার রয়েছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে রামপুরা থানা পুলিশের এসআই  মঞ্জুরুল আলম একটি প্রাইভেট কার ধাওয়া করেন। পরে গাড়িতে থাকা লোকজন পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যান। এরপর তিনি গাড়িটিকে থানায় নিয়ে আসেন।
১৭ মার্চ গাড়িতে সোনার বার রয়েছে এমন সংবাদে তল্লাশি চালিয়ে ৭০ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আটক করা হয় গাড়ির চালক সমির বিশ্বাস ও অপর যাত্রী মাহিনকে। জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায় ৭০ পিস নয় গাড়িতে ১৬৫ সোনার বার ছিল।
গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করণে অনুসন্ধান চালায়। গোয়েন্দা পুলিশ দায়িত্বপালনকারী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস আই ) মঞ্জুরুল আলম  কনস্টেবল আকাশ চৌধুরী, কনস্টেবল ওয়াহেদুল ইসলাম ও রনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা সবাই সোনার বার আত্মসাৎ করার বিষয়টি স্বীকার করে। এঘটনায় ১৬৫ পিসের মধ্যে ১৪৯ পিস সোনার উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে পুলিশ সোর্স সজিব শিকদার পলাতক।
গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার ইকবাল হোছাইন টাইম নিউজবিডিকে জানান, রামপুরা থানায় মামলা হয়েছে। আসামিরা সরকারি চাকুরি করায় দুদুকের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গোয়েন্দা পুলিশ মামলা দায়ের করলেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)মামলার তদন্ত করবেন বলেও জানান তিনি।
গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোনার বার আত্মসাতের ঘটনায় রামপুরা থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা ও ইন্সপেক্টর তদন্ত নাসিম আহমেদের নাম শোনা গেলেও তদন্তে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সোনার বার ও এতদ সংক্রান্ত আলামত গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তরে গড়িমসির করায় থানার সেকেন্ড অফিসার এসএম কামরুজ্জামানকে মতিঝিল থানায় বদলি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, গত ১৩ মার্চ রামপুরা ব্যাংক কলোনী বালুর মাঠ এলাকায় থানার সাব ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুল ইসলাম প্রাইভেট গাড়িকে দাড়াতে বলেন। এ সময় গাড়ির চালক ও আরও দু’জনসহ পালিয়ে যান। পরে তিনি গাড়ি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন।
১৬ মার্চ গাড়িতে সোনার বার থাকার বিষয়টি পুলিশ জানতে পারে। আর গাড়িটি ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে আসে গাড়ির ড্রাইভার সমির ও অপর যাত্রী মাহিন।
পরের দিন পুলিশের উপস্থিতিতে তারা ৭০ পিস সোনার বার ভর্তি কালোব্যাগ গাড়ির ভেতর থেকে বের করে দেন। এ সময় পুলিশ তাদের আটক করে। অভিযোগ উঠে ওই গাড়িতে ২৩৫ পিস সোনার বার ছিল। এ ঘটনায় ওসি কৃপা সিন্ধু বালা, ইন্সপেক্টর তদন্ত নাসিম আহমেদ এবং সাব ইন্সপেক্টর মঞ্জুরুলকে প্রত্যাহার করা হয়।
ঘটনার পর মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ন্যস্ত হয়। রিমান্ডে আনা হয় সমির ও মাহিনকে। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
এদিকে ঘটনার ১৮ দিন পর ৩১ মার্চ সোমবার সকালে আত্মসাতের ঘটনায় এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম, কনেস্টবল ওয়াহিদুল ও আকাশকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে আনার পরপরই চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার নাটকীয় মোড় নেয়। পুলিশের ওই তিন সদস্য ও সোর্স রনি সোনার বার আত্মসাতের ব্যাপারে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোর্স রনির গাজীপুরার সাতাইশ এলাকায় তার শ্বশুরের বাড়ি থেকে ১৪পিস সোনার বার উদ্ধার হয়। নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এসআইয়ের নিকটাত্মীয়ের বাসা থেকে ৫৮ পিস সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এরপর দুই কনস্টেবল আকাশ ওয়াহেদের গ্রামের বাড়ি গাজীপুর কালিয়াকৈর ও বগুড়ার সোনাতলা থেকে ১৪ ও ৬৩টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়।
[b]ঢাকা, জেইউ// ০৬ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]