[b]ঢাকা:[/b] বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২৩ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। প্রায় দুই যুগে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দু’বার বিরোধী নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ৯ জানুয়ারি বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা শপথ নেয়ায় এবং শনিবার সরকারি গেজেটে দশম জাতীয় সংসদে (এরশাদের জাপা) রওশন এরশাদ বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এখন আর বিরোধীদলীয় নেতা নন।
১৯৯১ সাল থেকে তিনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকলেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভোটার ও প্রার্থীবিহীন একদলীয় প্রহসনের নির্বাচনে সেই ক্ষমতা চলে গেল। আর এখন থেকে খালেদা জিয়া সরকার বিরোধী জোটের প্রধান নেতা থাকলেও তিনি আর রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন না।
১৯৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়া সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘সংবিধান রক্ষার’ নির্বাচনেও সমসংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।
১৯৯৬ সালের জুনে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে সমসংখ্যক আসনে বিজয়ী হয়ে খালেদা জিয়া হন বিরোধীদলীয় নেতা। এরপর ২০০১ সালের ১ অক্টোবরের ভোট বিপ্লবের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে তার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় ঐক্যজোট।
কিন্তু দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের ৯ম সংসদ নির্বাচনে তার দল পরাজিত হলেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনেই বিজয়ী হন। নবম সংসদে তিনি হন বিরোধীদলীয় নেতা।
সর্বশেষ নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবীতে ৫ জানুয়ারির ১০ম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট।
দীর্ঘ ২৩ বছর রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার বাইরে ১৫ দিন নিজ বাসায় অবরুদ্ধ থাকার পর শনিবার পতাকা বিহীন নিজস্ব গাড়ি করে কার্যালয়ে আসলেন বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। ফিরোজা রঙের শাড়ি, সাথে একই রঙের শাল পড়ে তিনি কার্যালয়ে আসেন।
শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিএনপির চেয়ারপার্সন তার নিজ বাসভবন থেকে গুলশান কার্যালয়ে আসেন।
শনিবার রাতে তার গাড়িটি যখন গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাড়ি ফিরোজা ভবন থেকে বের হন, তখন তাতে জাতীয় পতাকা দেখা যায়নি। ছিলো শুধু দলীয় পতাকা।
এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আগমনে কার্যালয়ের সামনে সন্ধ্যা থেকেই জড়ো হতে থাকে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। এর আগে কার্যালয়ের প্রবেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, সাবেক বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও রিয়াজ রহমান, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, মহিলা দলের সভাপতি নুরে আরা সাফা ও মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, সাবেক সাংসদ রাশেদা বেগম হীরা ও নিলোফার চৌধুরী মনি প্রমুখ।
কার্যালয়ে ঢুকেই চীনের রাষ্ট্রদূত লি জুনের সাথে বৈঠকে বসেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। ৪৫ মিনিটের বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিহ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্টদূত লি জুনের সাথে বৈঠকের পর রাত পৌনে ৯টায় বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকে বসেন সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ বিশিষ্ট জনের একটি প্রতিনিধি দল।
এ বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুবুল্লাহ, অধ্যাপক ড. পিয়াস করীম, বিএফইউজের মহাসচিব শওকত মাহমুদ ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার।
উল্লেখ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আসেন। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে তিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ছিলেন। গাড়ি-বাড়ি, অফিস ও নিরাপত্তা ছিল সরকারিভাবেই। বৃহস্পতিবার ভোটার ও প্রার্থী বিহীন বিতর্কিত ১০ম জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর থেকে খালেদা জিয়া আর বিরোধীদলীয় নেতা নন। এ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদ।
প্রসঙ্গত, এ বিষয়ে ৯ জানুয়ারি ১০ম সংসদের সদস্যদের শপথের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার থেকে আর বিরোধীদলীয় নেতা নন। দশম জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের লবিতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ এ মন্তব্য করেছিলেন। তিনি আরো বলেছিলেন, আজকে (বৃহস্পতিবার) যারা শপথ নিয়েছেন তারাই সংসদ সদস্য। আর কোনো সংসদ সদস্য নেই। নবম সংসদ আর নেই। খালেদা জিয়াও সংসদ সদস্য নন, সুতরাং অবশ্যই খালেদা জিয়া আর বিরোধীদলীয় নেতা নন।
২৩ বছর পর রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার বাইরে খালেদা জিয়া
ঢাকা: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২৩ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। প্রায় দুই যুগে তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী ও দু’বার বিরোধী নেতার দায়িত্ব পালন করেন। ৯ জানুয়ারি বিতর্কিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী সদস্যরা শপথ নেয়ায় এবং শনিবার সরকারি গেজেটে দশম জাতীয় সংসদে (এরশাদের জাপা) রওশন এরশাদ বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত হওয়ায় তিনি এখন আর বিরোধীদলীয় নেতা নন।
এসডিজি অর্জনে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও যৌথ দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্বনেতাদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
র্যাব বিলুপ্তি চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া, সংস্কার নয়: জামায়াত এমপি
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া র্যাবকে ‘কিলিং স্কোয়াড’ আখ্যা দিয়ে বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি জানিয়েছিলেন বলে সংসদে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিরোধীদের আশ্রয়ে পাটোয়ারী-সিফাতরা জিয়া পরিবারকে গালিগালাজ করছে
বিরোধী দলের আশ্রয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী-সিফাতরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জিয়া পরিবারকে লক্ষ্য করে অশালীন উক্তি ও বিবেক-নীতিবর্জিত গালিগালাজ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। এ ধরনের বক্তব্য ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।
জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারেক রহমানের পাশেও ঢাকাবাসী: আবদুস সালাম
ঢাকা শহর অতীতে যেভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাশে ছিল, একইভাবে বর্তমানেও ঢাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম।
















