বিচক্ষণতার সাথে এইচআইভি সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নতুন প্রজন্ম রক্ষায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবার দৃঢ় সংকল্পের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট তারকা ও 'থিঙ্ক ওয়াইজ' ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র সাকিব আল হাসান।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর হোট্লে সোনারগাঁয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অঙ্গিকারের কথা জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই ক্যাম্পেইনের মূল উদ্দেশ্য হলো এইচআইভি ও এইডস সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যা সারাবিশ্বের কিশোর ও তরুনদের জীবনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং নতুন করে এইচআইভি সংক্রমণ রোধে সহায়তা করা।
সাকিব আল হাসান বলেন, "আমি 'থিঙ্ক ওয়াইজ ক্যাম্পেইনে অংশ নিতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। আমি জানি একজন খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে, এইচআইভি ও এইডস- এর মত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আমরা কতটা সুদূর-প্রসারী প্রভাব ফেলতে পারি।"
তিনি আরও বলেন, অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলানায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অসচেতনতা ও সাধারণ অজ্ঞতার কারণে অনেক বেশি এইচআইভি ও এইডস-এর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
"অমরা জানি যে, সারা বিশ্বজুড়ে এইচআইভি ও এইডস-এর সংক্রমণ রয়েছে এবং এক্ষেত্রে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এমন সব সামাজিক কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও অসমতার বিরুদ্ধে ক্রিকেট একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে। এইচআইভি সংক্রান্ত ব্যক্তিরা সাধারণত উৎপাদনক্ষম তরুণ শ্রেণীভুক্ত।"
সাকিব বলেন, " আজ আমি এখানে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছি যে, সমগ্র ক্রিকেট বিশ্বকে সাথে নিয়ে, সুবিবেচিত চিন্তায় উৎসাহিত করার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম রক্ষায় আমি আমার কাজ চালিয়ে যাব।"
সংবাদ সম্মেলন চলাকালে ইউনিসেফ প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ বলেন, "এ কার্যক্রমটি সারাবিশ্বে সাকিবের মত প্রসিদ্ধ ক্রিকেটারদের সহায়তাপুষ্ট। এই কার্যক্রম মানুষকে-বিশেষত কিশোর-কিশোরী ও যুবকদেরকে নিজেদের সুরক্ষায় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং সাহায্য ও পরামর্শ চাইতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এইচআইভি প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত ভাল কাজ করে যাচ্ছে।"
'থিঙ্ক ওয়াইজ' কার্যক্রমটি আইসিসি, ইউএনএইডস এবং ইউনিসেফ-এর দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতাপূর্ণ অংশগ্রহণে গড়ে উঠেছে যা ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্রিকেট সমাজকে সাথে নিয়ে বিশ্বব্যাপী এইডস সংকট মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছে।
ইউএনএইডস-এর কান্ট্রি ডিরেক্টও লিও কেনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য সাকিব একজন বড় অনুপ্রেরণা। তিনি বাংলাদেশ সরকারসহ বিশ্বের অন্য দেশগুলোর প্রত্যয়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন-যার মাধ্যমে -নতুন এইসআইভি সংক্রমণ ও এইডসে মৃত্যুর হার শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০১৪ এদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের কাছে 'থিঙ্ক ওয়াইজ' এর বার্তাগুলো পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ উপায়। আগামী ১৬ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের খেলাগুলো ঢাকা চট্টগ্রাম এবং সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে।
এই সহযোগিতার মাধ্যমে সকল খেলোয়াড়, কোচ, ধারাভাষ্যকার, প্রচারক, স্বেচ্ছাসেবক ও দর্শকদের এইডসের মহামারী বিশেষত, এর প্রতিরোধ ও কুসংস্কার সম্পর্কিত বিষয়গুলো জানাতে চায়।  বিশেষ করে টেস্ট-খেলুড়ে দেশগুলো যেখানে প্রায় এক কোটি লোক এইচআইভি-তে আক্রান্ত, তাদেরকে সচেতন করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংবাদ সম্মেলনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী পৃথিবীর মোট এইচআইভি আক্রান্তদের এক চতুর্থাংশই টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোতে বসবাস করছেন। এদের একটি বড় অংশেরই বাস দক্ষিণ এশিয়ায়।
ক্রিকেট শক্তিকে কাজে লাগিয়ে, সারাবিশ্বের তরুণ জনগোষ্ঠীর জীবন ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এবং নতুন এইচআইভি সংক্রমন প্রতিরোধ, অন্যান্য 'থিঙ্ক ওয়াইজ'-এর মুখপাত্ররা হলেন-ড্যারেন স্যামি-ওয়েস্ট ইন্ডজ, কুমার সাঙ্গাকারা-শ্রীলঙ্কা, রিকি পন্টিং-অস্ট্রলিয়া এবং বীরেন্দ্র শেবাগ-ভারত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), ইউএনএইডস এবং ইউনিসেফ-এর কর্মকর্তারা।
[b]ঢাকা,কেএইচ, ১১ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// কেবি [/b]