[b]ঢাকা: [/b]জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমিয়ে দিচ্ছে মধ্যবিত্ত মালয়েশীয়রা। ফলে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দেশটিকে আবারো রফতানির ওপর বেশি জোর দিতে হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
২০০৮ সালের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধির ফলে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকটা বেড়ে গেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনীতি মালয়েশিয়ায়। বর্ধিত ব্যয়ের চাপ সামলাতে গিয়ে ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে দেশটির কয়েক কোটি মধ্যবিত্ত ভোক্তা।
মে মাসে নির্বাচনে জেতার পর থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও ঋণ নিয়ন্ত্রণে দফায় দফায় বিভিন্ন খাতে ব্যয় কমাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নাজিব তুন রাজাকের সরকার। অবশ্য ঋণমান ধরে রাখা ও দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির জন্য এমন কিছুই প্রয়োজন ছিল তাদের।
মালয়েশিয়ান রেটিং করপোরেশন ও অ্যালায়েন্স ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপের তথ্য, ভর্তুকি কমিয়ে দেয়ায় অক্টোবরে চিনিতে ১৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসে ১১ এবং চলতি মাসে বিদ্যুতে ১৫-১৬ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে মালয়েশিয়ায়। বর্ধিত ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করতে গিয়ে সার্বিকভাবে ভোগ কমছে মধ্যবিত্তদের। অ্যালায়েন্সের বিশ্লেষণ ২০১৪ সালে ভোগ কমবে দশমিক ৯ শতাংশ।
দেশটির এক প্রকৌশলী ওয়েই কিয়ং এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অবশ্যই কঠিন সময় যাচ্ছে আমাদের।’ দুই সন্তানের জনক কিয়ং বলেন, ‘কুয়ালালামপুরে আবাসন ব্যয়ও বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের আর্থিক অবস্থা যেমন এতে ছোটদের জন্য কোনো খেলনা কেনা যাবে না, চালানো যাবে না নিজস্ব গাড়ি। যেকোনো ভোগ ব্যয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হচ্ছে আমাদের মতো পরিবারগুলোকে।’
নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিক থেকে অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় মালয়েশিয়ায় একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত ভোক্তাশ্রেণী গড়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি বড় অংশ আবর্তিত হচ্ছে তাদের ঘিরে। সরকারের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে বড় প্রভাবটি পড়ছে তাদের জীবনমানে। বর্ধিত ব্যয়ের সমানুপাতে বাড়েনি তাদের বেতনভাতা।
দুই বছর ধরে রফতানি অস্থিতিশীল ছিল মালয়েশিয়ার। এ সময় একটি বড় অভ্যন্তরীণ উত্স হিসেবে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে এ ভোক্তারা। কিন্তু সম্প্রতি আবশ্যক ব্যয়গুলো বেড়ে যাওয়ায় তাদের আত্মবিশ্বাস কমছে।
মালয়েশিয়ান ইনস্টিটিউট অব ইকোনমিক রিসার্চের তথ্য, তৃতীয় প্রান্তিকে ভোক্তাদের আস্থা ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও কুয়ালালামপুরের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকটি বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অথচ ভোগ্যপণ্য কোম্পানিগুলোর উপসূচকটি বেড়েছে মাত্র দশমিক শূন্য ২ শতাংশ।
সিটিগ্রুপের এক প্রতিবেদনে ২০১৪ সালে মালয়েশিয়ায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়ানোর প্রতিকূলতাগুলো মালয়েশিয়ার রফতানি নির্ভরতা আবারো বাড়িয়ে তুলবে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, জ্বালানির দাম আরো বাড়ানো হলে মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের প্রকৃত আয় ২ বিলিয়ন রিঙ্গিতের মতো কমে যাবে, যা জিডিপির দশমিক ২ শতাংশের সমান।
কুয়ালালামপুরভিত্তিক থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্সের প্রধান নির্বাহী ওয়ান সাইফুল বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের আয় বৃদ্ধি মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের তুলনায় বেশি সঙ্গতিপূর্ণ। সরকারের বর্তমান পদক্ষেপগুলোয় আয়ের ভিত্তিতে শীর্ষে থাকা ৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে তুলনামূলক কম কর দিয়ে। সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা ৪০ শতাংশ লাভবান হচ্ছে আয় বাড়ায়। বিকাশমান একটি দেশে এটিই স্বাভাবিক।
সরকারের বর্তমান নীতিতে মধ্যবিত্তদের জন্য ভালো খবর তেমন নেই। অথচ অনেক ধরনে ব্যয় থেকে সরে থাকতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি মালয়েশিয়ায় মূল্যস্ফীতি চলতি বছর ২ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। ভোগের ওপর বাড়তি কর আরোপ করা হলে ২০১৫ সালে তা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
ব্যবসায়ে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বেতনভাতা ও বোনাস প্রবৃদ্ধি অন্যান্য বছরের তুলনায় কমে যেতে পারে বলে মনে করছে মালয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন।
মে ব্যাংকের বিশ্লেষক সুহাইমি বলেন, আয় কম বেড়ে মূল্যস্ফীতি বেশি বাড়ার কারণে মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধিতে হুমকির বড় অংশ আসছে ভোক্তাদের কাছ থেকে। এজন্য প্রবৃদ্ধির জন্য রফতানি আয়ের ওপর নির্ভরতা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চে উন্নীত হতে পারে বলে মনে করছেন তার মতো অনেকেই।
২০০৯ সালের বৈশ্বিক মন্দার আরো আগে থেকেই অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর নির্ভরতা বাড়াতে শুরু করে মালয়েশিয়া। এবার হয়তো ছেদ পড়তে যাচ্ছে এর ধারাবাহিকতায়। সূত্র: ব্লুমবার্গ
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]