সোমবার পঞ্চম দফায় ৩৫ জেলার ৭৩ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারও ভোটগ্রহণের সময় সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা করছেন সাধারণ ভোটাররা। নিরাপদ মনে না করলে ভোট দিতে যাবেন না বলেও জানান তারা।
তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়ে আশাবাদী কমিশন নির্বাচন। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং সোমবার ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পঞ্চম দফায় ১ হাজার ৬৩ প্রার্থী চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাচ্ছেন ১ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার ৬৬৩ জন ভোটার।
রোববার শেষ মুহূর্তের প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে টাঙ্গাইলের বাসাইল ও ঠাকুরগাও সদর উপজেলা নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
নিরাপত্তার অংশ হিসেবে সেনা, নৌ, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের মাঠে নামানো হয়েছে।
ভোট গ্রহণের সময় ক্ষমতাসীন সমর্থিত প্রার্থীদের কেন্দ্র দখল, ভোটারদের ভয় দেখানো, হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আসছে নির্বাচন কমিশনে। অভিযোগকারীরা সুষ্ঠু নির্বাচনে বাড়তি নিরাপত্তাও চেয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে কমিশন কর্মকর্তারা জানান, আগের নির্বাচনগুলোর মতোই এ নির্বাচনেও একই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩১ ধারা প্রয়োগের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এ ক্ষমতাবলে ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতেও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তারা অ্যাকশনে যেতে পারবেন।
পঞ্চম দফা নির্বাচনেও ভয়াবহ সহিংসতা হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলেছে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুরো নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি ও সহিংসতা রোধ করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। ৫ম দফা নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কার্যবিধি ১৩১ ধারা অনুসারে সেনাবাহিনীর দৃষ্টির মধ্যে কোনো সহিংস ঘটনা ঘটলে তাদের সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হবে। কিন্তু চতুর্থ পর্যায়ের নির্বাচনে সহিংসতা রোধে তারা নতুন কোন মাত্রা যোগ করতে পারেনি। সহিংসতা রোধে সেনাবাহিনী ভূমিকা রাখেনি।
উপজেলা নির্বাচনে সেনাবাহিনীর প্রয়োজন ছিল কি না সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। কি শর্তে সেনাবাহিনীকে নামানো হয়েছে, কি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাও জানি না। তবে আমরা ভেবেছিলাম সহিংসতা ঠেকাতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি।
এ পর্যন্ত চার দফায় উপজেলা নির্বাচন শেষ হয়েছে। কমিশন পাঁচ ধাপে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। পঞ্চম বা শেষ ধাপের নির্বাচন আগামীকাল হতে যাচ্ছে। চতুর্থ ধাপে স্থগিত হওয়া গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনও কাল। তবে তফসিল ঘোষণা সত্ত্বেও টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় আগামীকাল ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে না। অনিবার্য কারণ দেখিয়ে এ নির্বাচন স্থগিত করেছে কমিশন। আইনি জটিলতা থাকায় এ দফায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচন হচ্ছে না বলে শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ।
তবে কমিশন কর্মকর্তারা বলেছেন, আইনি বাধায় এ নির্বাচন স্থগিত হচ্ছে না। নির্বাচন নিয়ে দু'ধরণের রায় থাকায় ইসি এখানে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রশাসনকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, পঞ্চম এবং শেষ ধাপের এই নির্বাচনে ৭৪ উপজেলার মধ্যে ২৮ উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে।
[b]৫ম দফায় যে ৭৩ উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে :[/b]
কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম ও পাকুন্দিয়া, মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ী, সিরাজদিখান ও লৌহজং, গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ, নরসিংদী জেলার মনোহরদী, নরসিংদী সদর ও রায়পুরা, নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার,রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ।
দিনাজপুর জেলার বিরল, পার্বতীপুর ও হাকিমপুর,নীলফামারী জেলার ডোমার, লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ, গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ। বগুড়া জেলার বগুড়া সদর, রাজশাহী জেলার পবা, সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি ও শাহজাদপুর।
পাবনা সদর ও বেড়া, চূয়াডাঙ্গা জেলার সদর ও আলমডাঙ্গা, সাতক্ষীরা জেলার সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা ও তালা, বরগুনা জেলার বামনা, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর ও আমতলী, পটুয়াখালী জেলার দশমিনা ও কলাপাড়া, টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও গোপালপুর, জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ, ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও, ত্রিশাল ও নান্দাইল।
সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর, সিলেট জেলার বিয়ানিবাজার, মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী ও রাজনগর, হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা, আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ও চান্দিনা।
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়া, লক্ষীপুর জেলার রামগতি, লক্ষ্মীপুর সদর,রামগঞ্জ ও রায়পুর, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ,কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার সদর, টেকনাফ ও উখিয়া,খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা, রাঙ্গামাটি জেলার রাঙ্গামাটি সদর, লংগদু,রাজস্থলী ও বিলাইছড়ি এবং গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলা।
[b]ঢাকা, ৩০ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ // জেআই[/b]