[b]ঢাকা: [/b]স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে বিরোধীদল বিহীন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একদিকে যেমন চরম বিতর্কের জম্ন দিয়েছে অন্যদিকে একের পর এক কালো রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে ইতোমধ্যে ১৯ জনের মৃত্যের সংবাদ পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের কোন সংসদ নির্বাচনে এত সংখ্যাক বিরোধীদলের নেতা-কর্মী মারা যায়নি। এছাড়া এর আগে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যা বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছে। অন্যদিকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে ১৭ জেলায় ৩২১ টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আগুনে কেন্দ্র পুড়ে যাওয়া ও হামলার ঘটনায় এসব কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে বলে ইসি সূত্র জানায়।
সারাদেশ থেকে আসা রোববার দুপুর ৩টা পর্যন্ত যেসব কেন্দ্রের তথ্য জানা গেছে, সেগুলো হলো: ঠাকুরগাঁওয়ে-৭০, দিনাজপুরে-৫২, নীলফামারিতে-৯, লালমনিরহাটে-১, রংপুরে-৪৪, গাইবান্ধায়-৪৩, হবিগঞ্জে-২, ফেনীতে-১, কুমিল্লায়-৬, লক্ষ্মীপুরে-১৩, চট্টগ্রামে-২, বগুড়ায়-৫০, শেরপুরে-১০, যশোরে-১৬, সুনামগঞ্জে-৫ এবং ঝিনাইদহে ৯টি কেন্দ্র ।
আবার ভোটের দিনও ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ছিনাতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যে কারনে ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে গেছে। এরমধ্যে ঠাকুরগাও জেলায় ভোটগ্রহণ বন্ধ হয়ে গেছে। রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় দুপুর ১ টা পর্যন্ত ৪০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। আতঙ্ক আর সহিংসতার বয়ে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। যশোরের মনিরামপুরে ৫০টি ভোট কেন্দ্রে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৭জন আহত হয়েছে। গাইবান্ধার ৪৮টি কেন্দ্রে বেলা ১২ পর্যন্ত ব্যালট পেপার পৌছায়নি। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, স্থগিত কেন্দ্রগুলোর নির্বাচন ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। [i]বাংলাদেশে এর আগে এ ধরণের রেকর্ড আর নেই। [/i]সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিনব এক নির্বাচন। খুব সম্ভবত বাংলাদেশের মানুষ এমন নির্বাচন আগে কখনও দেখেনি। ’৮৮ অথবা ’৯৬ সালেও এমন দৃশ্যপটের দেখা মেলেনি।
সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সহিংসতায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দিনাজপুরে ৩, রংপুরে ২, নীলফামারীতে ২, ফেনীতে ২, লক্ষ্মীপুরে ১, নওগাঁয় ১, ঠাকুরগাঁও ৩, গাইবান্ধা ১, চট্টগ্রামে ১, যশোরে ২ এবং লালমনিরহাটে ১ জন মারা যান।
শনিবার গভীর রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন প্রতিরোধের চেষ্টা চালালে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।
[i]আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো খবর:[/i]
[b]দিনাজপুর :[/b] জেলায় পৃথক সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- বিএনপি নেতা বাবুল হোসেন, জাগপাকর্মী রায়হান মাসুদ এবং আনসার সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ।
জানা যায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সালন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের নেত্রাকর্মীরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে গেলে আওয়ামী লীগ ও যৌবাহিনীর সঙ্গে ত্রিমুখি সংঘষের্র ঘটনা ঘটে। এ সময় আনসার সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তিনি মারা যান।
দুপুর ১২টার দিকে একই উপজেলার গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে মিছিল করার সময় যৌথবাহিনীর গুলিতে জাগপাকর্মী রায়হান মাসুদ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং ৫ জন গুলিবিদ্ধ হন।
এদিকে জেলার সদর উপজেলার নশিপুর ভোটকেন্দ্রে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নির্বাচনী সরঞ্জামাদী ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের গুলিতে বাবুল হোসেন (৪৫) নামে এক বিএনপি নেতা প্রাণ হারিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত দেড়টার দিকে নশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে হামলা চালান ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। এ সময়ে তারা ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী সরঞ্জাম ছিনতাই ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে বাবুল হোসেন মরা যান। নিহত বাবুল সদর উপজেলার ১নং চেহেলগাজী ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ছিলেন।
দিনাজপুর সদর সার্কেল এএসপি আবু তারেক জানান, ওই সংঘষের্র সময় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ২ পুলিশ সদস্য ও কয়েকজন আনসার সদস্য আহত হন। তাদের দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
[b]রংপুর :[/b] জেলার পীরগাছা দেওতি মেকুরা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাঙ ছিনতাইকালে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘষের্র ঘটনায় গুলিতে ২ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতরা জামায়াত ও শিবিরের কর্মী ছিলেন।
রবিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত পীরগাছা উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শিবিরের হামলায় প্রিসাইডং অফিসার আসাদ ও আনসার সদস্য রফিকুল ইসলাম আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
[b]নীলফামারী :[/b] জেলার ২ উপজেলায় যৌথবাহিনীর গুলিতে ২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জেলার জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকার হাচি মামুদের ছেলে জামায়াতকর্মী মমতাজ আলী (৫৫) এবং ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নের ইছামুদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩০)।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে ১৮ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা জলঢাকা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল ভোটকেন্দ্রের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলে জামায়াতকর্মী মমতাজ মারা যান এবং ১০ কর্মী আহত হন।
এদিকে শনিবার রাতে জেলার ডিমলা উপজেলার খালিশা চাপানী ইউনিয়নে যৌথবাহিনীর গুলিতে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, ওই এলাকার খালিশা চাপানী ব্যাপারীটোলা আলিম মাদ্রাসায় রাতে হামলা চালিয়ে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা জামায়াতকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
[b]ফেনী : [/b]জেলার সোনাগাজী উপজেলায় ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবদলকর্মী জামশেদ আলম (২৫) এবং ছাত্রদলকর্মী মোঃ শহিদুল্লাহ (২২) নিহত হয়েছেন।
রবিবার সকাল ১০টার দিকে ফেনী-৩ আসনের সোনাগাজীতে উত্তর চরচান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। পরে এই ঘটনায় কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়।
জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে নির্বাচনবিরোধীরা কেন্দ্রে এসে ভোটগ্রহণে বাধা এবং ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়ার সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জামশেদ এবং সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে শহীদুল্লাহ মারা যান।
পরে নিহত যুবদল কর্মী জামশেদ আলম ও মোঃ শহীদুল্লাহর লাশ ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়েছে এবং আহতদের ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে ভোরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমর্থকরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ায় এই আসনের অপর আরেকটি কেন্দ্র উত্তর-পশ্চিম চরদরবেশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
[b]লক্ষ্মীপুর :[/b] জেলার রামগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম রুবেল। তিনি ছাত্রশিবিরকর্মী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আরিফ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার লামচর ইউনিয়নের মাসুমপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, নির্বাচনবিরোধীরা ভোটকেন্দ্রে হামলা চালালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় পুলিশের গুলিতে রুবেল মারা যান এবং আরিফ গুলিবিদ্ধ হন।
[b]নওগাঁ :[/b] নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকদেবীরাম গ্রামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বাবুল হোসেন (৩৫) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র্যাব ও পুলিশের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘষের্র সময় এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া আরও ৮জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছে।
আহতরা হলো- বাবুল হোসেন (৩৫), রহিদুল ইসলাম (৩৮), রাজু আহম্মেদ (১৭), উজ্জল হোসেন (২২), ভুট্টু কারিগর (২৬), রাকিব আহম্মেদ (২৭), জুয়েল রানা (৩২) ও গোলাম রব্বানী (৩০)। ঘটনার পর আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এদের সকলেই ওই গ্রামের বাসিন্দা।
মান্দা থানার ওসি আবদুল্লাহেল বাকি বিএনপি কর্মী নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মকলেছুর রহমান জানান, দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনকালে র্যাব ও পুলিশ তাদের নেতাকর্মীদের উপর গুলি চালায়। এতে গুরুত্বর আহত ৮জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বিকাল ৩টার দিকে বাবুল হোসেন মারা যায়।
এ ব্যাপারে জেলা রিটানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. এনামুল হক জানান, ঘটনার পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে।
[b]ঠাকুরগাঁও:[/b] রাত এগারটার দিকে অজ্ঞাতরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সদর উপজেলার মোলানী ছেপড়িকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে হামলা চালায়। হামলায় সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার জোবায়দুল হক, গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম ও দুই পুলিশ কনস্টেবল আহত হন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জোবায়দুল হককে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি সদর উপজেলার সালন্দর ডিগ্রি মহাবিদ্যালয়ের পরিদর্শক।
রবিবার দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার বাসুদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপি-জামায়াত কর্মীরা হামলা চালালে কর্তব্যরত পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। এতে হারুণ (৪০) ও একই গ্রামের জয়নাল (৩০) নামের দুজন নিহত হন।
[b]গাইবান্ধা: [/b]রবিবার বিকাল ৩টার দিকে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মম্মথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অজ্ঞাতরা হামলা চালায়। এ সময় তারা বিদ্যালয়ের দরজা জানালা ভাঙচুর করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীরা বাধা দিতে এলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বাধে। এতে শাহাবুল (৩৫) নামে জামায়াতের এক কর্মী নিহত হন। আহত হয় ১৫ জন।
[b]চট্টগ্রাম:[/b] চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার ভবানিপুরে ভোটকেন্দ্রে ব্যালট ছিনতাইয়ের সময় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে জামায়াত কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এসময় আহত ১ জামায়াতকর্মীর মৃত্যু হয়।
[b]যশোর: [/b]যশোরের মণিরামপুরে পুলিশের গুলিতে মতিয়ার রহমান নামে এক জামায়াত কর্মী নিহত হয়েছেন। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে হরতালকারীদের ধাওয়ায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেয়। এতে মো. সাইফুল ইসলাম (৩০) ঘটনাস্থলে মারা যান। আহত হয় ২ জন।
[b]লালমনিরহাট:[/b] লালমনিরহাটে পাটগ্রামে গতরাতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ফারুক রবিবার ভোরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। এদিকে লালমর্নিহাটের পাটগ্রামের বালাপাড়া ভান্ডারদা ও বালাকুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ২টি ভোট কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বক্স লুট হয়েছে। এঘটনায় পিজাইডিং অফিসার আহত হন।
[b]৯ নির্বাচন : পেছনে ফিরে দেখা : প্রধান বিরোধী দলহীন নির্বাচন[/b]
[i]১৯৮৮ সালে ৪র্থ সংসদ, ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ সংসদ, আজ দশম সংসদ ২০১৪[/i]
স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে এ যাবৎ নয়টি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দশম সংসদ নির্বাচন। বিগত নয়টি নির্বাচনে সবচেয়ে কম ভোটার উপস্থিতি ছিল ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঐ নির্বাচনে মাত্র ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছিল। বিতর্কিত ঐ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন ৪৯ জন প্রার্থী। ষষ্ঠ সংসদের স্থায়িত্ব ছিল ১১ দিন। এর আগে ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচন বয়কট করেছিল আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ বড় সবগুলো দল। তবে ছোটখাট ৮টি দল ঐ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ভোট দিয়েছিল ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ। '৯০ এর গণআন্দোলনে ভেঙ্গে যায় ঐ সংসদ। এদিকে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি ছিল নবম সংসদ নির্বাচনে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ঐ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। দেশের সর্বশেষ ওই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে ৫৯৩ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসেন। এছাড়া, স্থানীয় ৭৫টি প্রতিষ্ঠানের ১৫৯১১৩ জন পর্যবেক্ষক ছিলেন ওই নির্বাচনে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রথম থেকে নবম সংসদ নির্বাচন হয়েছে যথাক্রমে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ, ১৯৭৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৬ সালের ৭ মে, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ, ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ সালের ১২ জুন, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর।
১৯৭৩ সালে প্রথম সংসদ নির্বাচনে ১৮টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১২০৯ জন প্রার্থী অংশগ্রহণ করে। ওই নির্বাচনে শতকরা ৫৫ দশমিক ৬১ ভাগ ভোটার ভোট দিয়েছিল। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল ২৯টি দল। স্বতন্ত্রসহ প্রার্থী সংখ্যা ছিল ২৫৪৭ জন। ভোট দিয়েছিল ৫১ দশমিক ২৯ শতাংশ ভোটার।
১৯৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮ দল এবং স্বতন্ত্রসহ মোট ১৯৮০ জন প্রার্থী অংশ নেয়। সে বছর মোট ভোট দিয়েছিল ৬৬ দশমিক ৩১ শতাংশ ভোটার। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে ৮টি দল এবং স্বতন্ত্র মিলে প্রার্থী সংখ্যা ছিল ১১৯২ জন। ভোট দিয়েছিল ৫১ দশমিক ৮১ শতাংশ।
১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে ৭৫টি দলের অংশগ্রহণে স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৭৮৭ জন। ভোট দিয়েছিল ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে ৪১টি দলের অংশগ্রহণে স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১৪৫০ জন। ভোট দিয়েছিল ২৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভোটার। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে ৮১টি দলের অংশগ্রহণে স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ২৫৭৪ জন। ভোট দিয়েছিল ৭৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোটার।
২০০১ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৫৪টি দলের অংশগ্রহণে স্বতন্ত্রসহ ১৯৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ভোট দিয়েছিল ৭৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার। সর্বশেষ ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে ৩৮টি দলের অংশগ্রহণে স্বতন্ত্রসহ ১৫৬৭ জন প্রার্থী অংশ নেয়। ভোট দিয়েছিল ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।
উল্লেখ্য, দশম সংসদ নির্বাচনে ইতোমধ্যে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনে ১২টি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্রসহ ৩৯০ জন প্রাথী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী। ৩০০ আসনে মোট ভোটার ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ৯৭৭। তবে নির্বাচনে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন চার কোটি ৩৯ লাখ ৩৮ হাজার ৯৩৮ জন ভোটার।
অন্য নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠালেও এবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কমনওয়েলথ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা ও দেশ এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে না বলে ইসিকে জানিয়ে দিয়েছে। তবে কমিশনের অনুরোধে সার্কভুক্ত দুটি দেশের চারজন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে এসেছেন। এছাড়া দেশীয় ২২টি পর্যবেক্ষক সংস্থার ১০ হাজার স্থানীয় পর্যবেক্ষক এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে বলে জানিয়েছে ইসি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন নিয়ে এ ধরনের রেকর্ড এটাই প্রথম। বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে অতীতের সব রেকর্ডভঙ্গ এ নির্বচন কালো অধ্যায় হিসেবে শুধু এদেশের ইতিহাসে নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও থাকবে।
[b][font=Vrinda]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/font][/b]





