গত ৪ মাসে ও উদ্ধার হয়নি রাজধানীর মিরপুর পল্লবী থেকে অপহৃত ব্যবসায়ী কুদ্দুসুর রহমান চৌধুরী। তিনি আদৌ  বেঁচে আছেন কি না তা নিয়ে শঙ্কিত  তার পরিবারের সদস্যরা।চরম উদ্ভেগ,উৎকন্ঠা আর আতংকে রয়েছেন কুদ্দুস চৌধুরীর স্বজনরা।
কুদ্দুস চৌধুরীকে উদ্ধারে জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী,আইজিপি,র্যা বের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
কুদ্দুস  চৌধুরীর স্ত্রী জোসনা বেগম  জানান, গত ১ জানুয়ারি ডিবি পুলিশের পরিচয়ে  পল্লবী থেকে ব্যবসায়ী কুদ্দুসুর রহমান চৌধুরীকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে তারা পল্লবী থানা পুলিশ, র্যা ব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থায়  যোগাযোগ করেন। কিন্তু কেউ ব্যবসায়ী কুদ্দুস  চৌধুরীর  সন্ধান দিতে পারেননি।
অপহরণের পরের দিন অপহৃতের স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।মামলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্ব শক্রতাবশত: তার স্বামীকে অপহরণের কথা উল্লেখ করেন। আসামিরা প্রভাবশালী বিধায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা।
তিনি বলেন, পল্লবী থানা পুলিশ তাদেরকে জানিয়ে ছিল পূর্ব পরিচিতরাই ব্যবসায়ী কুদ্দুস  চৌধুরীকে  তুলে নেয়ার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে  নিশ্চিত  হয়েছেন। এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মোহাম্মদ রাসেল তাদেরকে বলেছিলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের পাশাপাশি অপহরণের পেছনে অন্য  কোন কারণ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে  দেখা হচ্ছে।
মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১ জানুয়ারি রাত ৯টায় জমিজমার বিরোধ মীমাংসার কথা বলে কুদ্দুসকে মিরপুর বাংলা স্কুলের পাশে ডেকে  নেয়া হয়। তিনি ওই দিন মিরপুর ১১ নম্বর  সেকশনের এ ব্লকে বাঙলা স্কুলের দক্ষিণ পাশে জান্নাতুল মাওয়া কবরস্থানের সামনে পৌঁছা মাত্র ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন কুদ্দুস চৌধুরীকে জোর পূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর  থেকে কুদ্দুস চৌধুরীর আর কোন  খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
কুদ্দুস চৌধুরীর স্ত্রী জানান, এর আগে গত বছরের মে মাসে র্যা ব-৪ এর কার্যালয়ে কুদ্দুস চৌধুরী তার পুত্র সহিদুর রহমান চৌধুরী রনিকে ধরে নিয়ে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের পর ৩টি গাড়ি ,৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যাংকের চেক,নগদ ১লাখ ৮৯ হাজার টাকা ও জমির দলিলসহ আনুসঙ্গিক ডকুমেন্ট কেড়ে নেয়।
ওই ঘটনায় তারা গত বছর ২২ জুন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে র্যা বের নির্যাতনের শিকার কুদ্দুস চৌধুরী, ছেলে মো. সহিদুর রহমান, ছেলে মো. মাহবুবুর রহমান ,স্ত্রী  জোৎসনা  বেগম , মেয়ে ফারজানা আক্তার টুম্পা এবং ভাতিজা  মো. শাহজাহান ও তার গাড়ীর চালক সাদ্দাম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ।  এই বিষয়টি মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণা পায়।
পরে কুদ্দুস চৌধুরীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া টাকা, ব্যাংকের চেক,জমির দলিল এবং গাড়ি উদ্ধারের নির্দেশনা চেয়ে ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্র্যাট আদালতে ভিকটিমের  স্ত্রী জোৎসনা বেগমের এক পিটিশন মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং ২৯৭/২০১৩)। আদালত পল্লবী থানা পুলিশকে বাদীর মালা মাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন।
পিটিশন মামলায়  ব্যবসায়ী কুদ্দুসুর রহমান চৌধুরীকে ধরে নিয়ে মারধর ও  লাঞ্চিত করে ভয়ভীতি প্রদর্শনকারী হিসেবে সাবেক সেনা কর্মকর্তা (লে.ক) আরিফুল আজমকে  বিবাদী করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়,  নগদ ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা, ৩টি গাড়ি , ৯ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যাংকের চেক ও জমির দলিল হাতিয়ে  নেয় এবং জোড়পূর্বক খালি ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও দক্ষিনা রিয়েল এষ্টেটের এমডি আরিফুল আরিফুল আজম।
তারা অভিযোগ করে বলেন, র্যা ব তাদের অন্ধকার কক্ষে আটকে  রেখে ইলেকট্রিক শট  দেয় আর বলতে থাকে তাদের কথা মতো কাজ না করলে ব্যবসায়ী কুদ্দুস চৌধুরীকে ক্রস ফায়ারে দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা আরিফুল আজমের সঙ্গে ২০১০ সালে জমিজমা বিক্রি সংক্রান্ত একটি লেনদেন হয়। ওই জমিকে কেন্দ্র করে কিছু জটিলতা  তৈরী হয়।
গত বছর কুদ্দুস চৌধুরীর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এক নির্দেশনা জারি করেন, আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া কুদ্দুস  চৌধুরীকে কোন প্রকার হয়রানি কার যাবে না।
[b]ঢাকা,একে,৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]