বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের ৭ খুনের ঘটনার সাথে অভিযুক্ত র‌্যাব-১১ এর সাবেক দুই কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর আরিফ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঢাকা গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র এ গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জের গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম রাত ২টার দিকে ঢাকা সেনানিবাসের লগ এরিয়া থেকে মিলিটারি পুলিশের মাধ্যমে ঐ দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে তাদের হেফাজতে নেন। এরপরই তাদেরকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ ওঠা নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও র্যাবের নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এম এম রানাকে পাওয়া যায়নি।
র্যাব-১১-এর সাবেক তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠার পর এই তিন কর্মকর্তাকে অবসর দেওয়া হয়। ৬ মে সেনাবাহিনীর দুজনকে অকালীন ও নৌবাহিনীর একজনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। ১১ মে এই তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট৷
ওই নির্দেশের পর পর ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মতামত চেয়ে প্রতিরক্ষাসচিবকে চিঠি পাঠায়। ১৫ মে সেনা সদরের জিএজি বিভাগ থেকে ওই চিঠির জবাব দেওয়া হয়৷ এতে বলা হয়, ‘আপনাদের সদয় অবগতির জন্য উল্লেখ করা যাচ্ছে যে হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদ্বয় সর্ম্পকে দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী কার্যক্রম গ্রহণ করা যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন।এর তিনদিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং পরদিন আরও একজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ভেসে ওঠে৷ এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করে নজরুলের পরিবার৷ ৪ মে নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ছয় কোটি টাকার বিনিময়ে র্যাবের তিন কর্মকর্তা ওই সাতজনকে অপহরণ ও খুন করেছেন।
[b]ঢাকা, ১৭ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ
[/b]