পটুয়াখালী জুট মিলের নামে ১২০ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় জাতীয় সংসদের সরকারলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ভাই এবিএম রেজা ওরফে আবুল মকসুদ মো. ফরহাদ এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার সেগুনবাগিচায় সকাল ১০ থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত তাদেরকে দুদকের বরিশাল জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বাহাদুর শাহ (আলম) জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক কর্মকর্তা প্রথমে সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে চিপহুইপ আসম ফিরোজকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
জানা যায়, সরকারদলীয় চিফ হুইপের মালিকানাধীন পটুয়াখালী জুট মিলের নামে ১৯৮৫ সালে সকল নিয়ম নীতি লংঘন করে ঋণের পুনঃতফসিলের মাধ্যমে সেনালী ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে সাড়ে ১৩ কোটি টাকার বেশি সুদ মওকুফ করিয়ে নেন। এই ক্ষেত্রেও কোন নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক ইতোমধ্যেই কোম্পানির কাছ থেকে যে সুদ আয় মুনাফা হিসেবে দেখিয়েছে, তাও মওকুফ করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর ঋণটি পুনঃতফসিল করে। এই নিয়ে ঋণ আটবার পুনঃতফসিল হয়।
অারো জানা যায়, বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংকের (বর্তমানে বিডিবিএল) অর্থায়নে ১৯৮৫ সালে পটুয়াখালী জুট মিল স্থাপিত হয়। ১৯৮৯ সালে কোম্পানি মালিকেরা ১৭০ দশমিক ৮৭ শতাংশ জমি অতিরিক্ত সহায়ক জামানত হিসাবে শিল্প ব্যাংকের কাছে ওই পুরো প্রকল্প, জমি, নির্মাণাদি ও যন্ত্রপাতি বন্ধক রাখা হয়েছে এর আগেই। পরে আবার ওই জমি এবং যন্ত্রপাতির দেখিয়ে সোনালী ব্যাংক মোট ১২০ কোটি টাকার চলতি মূলধন ঋণ নেয়।
এরপর চলতি মূলধন ও মেয়াদী ঋণ বিতরণ বাড়তে থাকে। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হয় সোনালী ব্যাংকের সুদ মওকুফ ও পুনঃতফসিল। এর মধ্যে কয়েক দফা সরকারের নীতিমালার আলোকে সুদ মওকুফ ও সুদবিহীন ব্লক হিসাবের সুযোগও নিয়েছে পটুয়াখালী জুট মিলের মালিকপক্ষকে।
প্রসঙ্গত, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের আইনগত সুযোগ রয়েছে। প্রত্যেক দফা পুনঃতফসিলের আবেদনের সঙ্গে এককালীন জমা নগদে পরিশোধের বিধান দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ দফাতেও ঋণটি পুনঃতফসিলে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর বিধান মানা হয়নি। আইনে ৩ বারের বেশি কোনো ঋণ পুনঃতফসিলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বিধান মেনে এককালীন জমার টাকা নগদ নেওয়া হয়নি। তবে পর্ষদ নগদ জমার পরিমাণ নির্ধারণ করেছে মোট ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
কিন্তু নিয়ম অনুসারে, এককালীন জমা নিতে হবে ৫০ শতাংশ। সে ক্ষেত্রে নগদ জমা করার কথা ৪ কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার টাকা। ব্যাংকের শাখা পর্যায় থেকে পটুয়াখালী জুট মিলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। বর্তমানে মিলটি বন্ধ রয়েছে। কোম্পানিকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে কোনো মালামাল গুদামেও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
[b]ঢাকা, একে, ৭ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]
শ্রেণীহীন
প্রদীপ কুমার ও রেজাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
পটুয়াখালী জুট মিলের নামে ১২০ কোটি টাকা ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় জাতীয় সংসদের সরকারলীয় চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ভাই এবিএম রেজা ওরফে আবুল মকসুদ মো. ফরহাদ এবং সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)





