নিজের ব্যবহৃত ব্যাগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের একটি হোটেলে। আবার লাশ উদ্ধার হয়েছে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে। যে কোচিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার কিংবা জীবন কোনোটিই সম্পৃক্ত নয়। মৃত্যুর বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার বিষয়টি জোড়ালোভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু কেউই নিজেদের নাম কিংবা পরিচয় জানাতে চাইছেন না। এমতাবস্থায় আত্মহত্যা না হত্যা তা নিয়ে ব্যাপক রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর ইসিসিপি নামে একটি কোচিং সেন্টারে ঝুলন্ত অবস্থায় আইরিন আক্তার (২০) নামে এক ডেন্টাল কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
আইরিন মালিবাগের সাফেনা উইমেন্স ডেন্টাল কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আইরিন ফার্মগেটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক সাইফুল ইসলামের মেয়ে। বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে কি কারণে ও কিভাবে ওই মেয়ে মারা গেলেন, আদৌ আত্মহত্যা কিনা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন আইরিন আক্তার। এসএসসি ও এইচএসসি’তে পেয়েছেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। এমন ফলাফলে পরিবারের ইচ্ছানুযায়ী সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির চেষ্টা শুরু করেছিল আইরিন।
কিন্তু ভালো ফলাফল স্বত্ত্বেও সরকারি মেডিকেলে চান্স না পেয়ে শেষে ভর্তি হন একটি বেসরকারি ডেন্টাল মেডিকেল কলেজে। জানা গেছে, সরকারি মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় পরিবারের কাছ থেকে অপমান আর কটু কথা সহ্য করতে হয়েছে।
নিহত আইরিনের পরিবার ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার মায়ের সঙ্গে কথায় বনিবনা না হওয়ায় সকালে বাসা থেকে বেড়িয়ে যায় আইরিন। তিন দিন নিখোজ থাকার পর অবেশেষে রাজধানীর একটি কোচিং সেন্টার থেকে আইরিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ব্যাপারে আইরিনের মামা নাহিদ টাইমনিউজবিডিকে জানান, আইরিন খুবই মেধাবী। সে ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন ৫ পায়। কিন্তু চান্স না পেয়ে ভর্তি হয় সাফিনা ওমেন্স ডেন্টাল কলেজে।
মামা নাহিদ জানান, মাঝেমধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে ঝগড়া হতো। কিন্তু কখনো বাসা থেকে কিছু না বলে বেড়োয় নি। সর্বশেষ গত শনিবার বাসা থেকে নিখোঁজ হয় আইরিন। প্রথমদিন বাসায় না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে নিকট আত্নীয় ও বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কেউ আইরিনের খোঁজ দিতে পারলো না। পরে দুলাভাই ডা. সাইফুল ইসলাম (আইরিনের বাবা) রমনা থানায় একটি সাধারণ ডাইরি(জিডি) লেখেন।
তিনি আরও জানান, আইরিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে পরিবারের কারো সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ রাখেনি।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় জেনে কল কেটে দেন। পরে কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও ফোন ধরেননি তিনি।
অপরদিকে যোগাযোগ করা হলে রমনা থানা পুলিশও নিশ্চিত করতে পারেনি আইরিন আত্নহত্যা করেছে, নাকি কেউ তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। সে বিষয়ে অস্পষ্টতায় রয়ে গেছে পুলিশ। তবে পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে, পরিবার ও কোচিং সেন্টারের মালিকের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যু কারণ জানার চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রমনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মসিউর রহমান বলেন, ইসিসিপি নামক ওই কোচিং সেন্টারটি মূলত কোচিং সেন্টারে ভিকারুননিসা নুন স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়ানো হয়। ওই কোচিং সেন্টারটি যেখানে-সে ভবনটির মালিক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খানের আত্নীয় লুৎফর রহমান। তার ভাতিজি ইরা রহমান কোচিংটি পরিচালনা করেন। এ ঘটনায় কোচিংটির দারোয়ান মুজিবুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।
মেয়ে নিখোঁজ উল্লেখ করে পিতার লেখা সাধারণ ডাইরির পর তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে মেয়েটি গত এক বছরে তিনদিন ডেন্টাল কলেজে ক্লাস করেছে। সরকারি মেডিকেল ভর্তির সুযোগ না পেয়ে তার মন খারাপ থাকতো।
কোচিং সেন্টারের কক্ষ থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনা শোনার পর কোচিংটির মালিক অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান বলেও উল্লেখ করেন ওসি মশিউর।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রমনা থানা পুলিশের ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সেলিম মিয়া টাইমনিউজকে বলেন, বেশ কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় রমনা থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু)মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আইরিনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে হত্যা নাকি আত্মহত্যা সে সম্পর্কে জানা যাবে।
[b]ঢাকা, জেইউ, ২২ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এনএস[/b]
শ্রেণীহীন
যেভাবে ঝরে গেল এক ডেন্টাল ছাত্রী
নিজের ব্যবহৃত ব্যাগ পাওয়া গেছে কক্সবাজারের একটি হোটেলে। আবার লাশ উদ্ধার হয়েছে ঢাকার একটি কোচিং সেন্টারে। যে কোচিংয়ে নিজের ক্যারিয়ার কিংবা জীবন কোনোটিই সম্পৃক্ত নয়। মৃত্যুর বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার বিষয়টি জোড়ালোভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কিন্তু কেউই নিজেদের নাম কিংবা পরিচয়





