ঢাকা: ১৮ দলীয় জোট ঘোষিত মার্চ ফর ডেমোক্রেসি কর্মসূচি ঠেকাতে সরকারের টানা অবরোধের কারণে অস্থিতরা বেড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। সরকারের এ ধরণের কর্মকান্ডে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে সাধারণ ক্রেতা সাধারণের মধ্যে। তারা আক্ষেপ করে বলেছেন, বিশ্বের কোথাও এমন সরকার নেই যে, ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগনকে জিম্মি করে রাখে।
আজ সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের অবরোধের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে শীতকালীন সব্জীর দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। বেড়েছে চাল ও ডিমের দামও।
সোমবার রাজধানীর শান্তিনগর, মালিবাগ, ফকিরাপুল, কারওয়ান বাজার, রামপুরা, গুলশানসহ বেশ কিছু এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
প্রতি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বেগুন ও মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০টাকায়। ১০ টাকা বেড়ে প্রতিটি ফুল কপি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা ও বাধা কপি ৩০টাকা। সিমের দামও বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১০টাকা।
টমেটোর দাম বেড়েছে কেজিতে ৫টাকা। প্রতি কেজি টমেটোর দাম ৩৫ টাকা। ৫টাকা দাম বেড়ে প্রতি কেজি ঢেঁড়শের দাম ৫৫ টাকা। তবে আগের মূল্যে বহাল আছে গাজর, পেঁপে ও কাঁচামরিচ।
এদিকে দাম বেড়েছে ডিম ও চালের। প্রতি হালিতে ২টাকা বেড়ে ডিমের দাম ৩০ টাকা। প্রতি কেজি মিনিকেট চালের দর ৬টাকা বেড়ে ৫২ টাকা। ৩ টাকা দাম বেড়ে আঠাশ চালের দাম ৪৩টাকা। মোটা চালের দাম ৪টাকা বেড়ে ৩৬ টাকা হয়েছে। স্বর্ণার মূল্য বেড়েছে ৬ টাকা। প্রতি কেজি স্বর্ণা চালের মূল্য ৩৬ টাকা। ৮ টাকা দাম বেড়ে নাজিরসাইর চালের দাম প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা হয়েছে। জিরা নাজিরেরও দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ৮টাকা। প্রতিকেজি জিরা নাজির চালের মূল্য ৫৪ টাকা।
শান্তিনগরের কাঁচাবাজারের বিক্রেতা জামিল হোসেন টাইম নিউজকে বলেন, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকার বাইরে থেকে কাঁচামাল আসতে পারছে না। পাইকারি বিক্রেতারা বেশি দামে বিক্রি করছে, তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
চাল ব্যবসায়ী মো. আলামিন টাইম নিউজ বলেন, মোকামে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের এখানে চালের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, এক মাস আগেও এ চালের দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।
চালের বাজারে প্রতিকেজি নাজিরশাইল ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, লতা আটাশ ৩৮ থেকে ৪০ টাকা, মোটা চাল ৪২ টাকায়, জিরা নাজির ৫৫ টাকা, আটাশ ৪২ টাকা, পাইজাম ৪০ টাকা, চিনি গুড়া ১১০ টাকা, পারিজা ৩৮ টাকা, বিআর-২৮ ৪৩ টাকা, বিআর-২৯ ৪৩ টাকা, হাসকি ৪২ টাকা, স্বর্ণা ৩৬ টাকা থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
রাজধানীর বাজারে চালের দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এবার নতুন করে বেড়েছে আটা ও ময়দার দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আটার দাম তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে ময়দার দাম বেড়েছে কেজিতে দুই টাকা। টানা মূল্যহ্রাসের পর এবার ব্রয়লার মুগরির দামও বাড়ছে।
বেড়েছে ইলিশ, চিংড়ি ও গুঁড়া মাছের
৮০০ গ্রাম ওজনের জোড়া ইলিশ এদিন বিক্রি হয় ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকায়, যা গত সপ্তাহের চেয়ে ১০০ টাকা বেশি। এছাড়া চিংড়ি মাছের দাম ছিল ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি। অন্যদিকে ছোট মাছ রকমভেদে বিক্রি হয় আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০-১০০ টাকা বেশি দামে। আজ বাজারে বড় রুই ২০০-৩০০, পাঙ্গাশ ১২০-১৫০, তেলাপিয়া ১২০-১৫০, সিলভার কার্প ১২০-১৫০, কাতল ১৫০-২৫০, স্বরপুঁটি ১২০-১৬০, মৃগেল ১৪০-২০০, বোয়াল ৩০০-৪৫০, নলা ১৪০-১৫০, চাষের কই ১৫০-২০০, শিং ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।
তবে মাংসের দাম রয়েছে আগের সপ্তাহের মতোই। গতকাল ব্রয়লার ও দেশী মুরগির দাম ছিল যথাক্রমে ১২৫-১৩৫ ও ২৪০-২৮০ টাকা। এছাড়া ২২০-২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয় পাকিস্তানি মুরগি। গতকাল মহিষ ও গরুর মাংস যথাক্রমে ২৬০ ও ২৮০ এবং খাসির মাংস বিক্রি হয় ৪৫০-৪৮০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে ফার্মের মুরগির ডিম হালিপ্রতি ২৬-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও হাঁস ও দেশী মুরগির ডিমের দাম ছিল ৩৫-৪০ টাকা।
একই সঙ্গে বাড়ছে খাসির মাংসের দাম।
হরতাল-অবরোধ না থাকলেও, এখনও সরকারের অবরোধে স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি রাজধানীর পাইকারি বাজার। ভোগ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি অব্যহত রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখনও নাশকতার আশঙ্কা থাকায় ও সরকারের অবরোধের আতঙ্ক আরো বেড়েছে, তাই কমেনি ট্রাক ভাড়াও। তবে নাগালের মধ্যে নেমে এসেছে পেঁয়াজের বাজার দর।
গত কয়েকমাস ধরে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ ছিল পেঁয়াজের দাম। তবে ভারত দাম কমানোর প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এদিকে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২ টাকা বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১০২ টাকায়। পাম ৭৮, সুপার পাম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
পাইকাররা বলছেন, হরতাল অবরোধ কালীন, পণ্যের দাম যে হারে বেড়েছে, বর্তমানে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারনে তা উস্কে দিয়েছে, এখনও আশঙ্কা থাকায় দাম কমেনি।





