এক নম্বর নাহারপুঞ্জির (আসলমপুঞ্জি) সাথে দুই দিন বন্ধ রয়েছে শ্রীমঙ্গলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে করে খাসিয়াদের প্রধান বিক্রয়কৃত পণ্য পান এবং লেবুতে পচন ধরেছে। অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খাসিয়ারা। গভীর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে তারা।
শুক্রবার নাহার চা বাগানের শ্রমিকদের সাথে বসবাসরত খাসিয়াদের সংঘর্ষ বাঁধে। এরপর থেকে পুলিশের টহল বসানো হয়েছে। শনিবার আদিবাসী নেতারা নাহারপুঞ্জি পরিদর্শন করেছেন।  রবিবার দুপুর ১২টায় সরেজমিন দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চর নাহারপুঞ্জিতে গিয়ে দেখা গেল, খাসিয়া আদিবাসীদের আতংক কাটছে না। তাদের চোখে-মুখে গভীর উত্কণ্ঠার ছাপ। দুই দিন ধরে পান উত্তোলন ও বিক্রয় বন্ধ রয়েছে।
এতে করে খাসিয়া পানে পচন ধরেছে। পানের ডাটা এবং পাতা পঁচে যাচ্ছে। সবুজ লেবু বিবর্ণ রং ধারণ করে হলুদ হয়ে পড়ছে। খাসিয়ারাও রয়েছেন গভীর উত্কণ্ঠার মধ্যে।
জানা গেছে, নাহারপুঞ্জিতে ৩৪টি খাসিয়া পরিবারের বসবাস করছেন এবং জনসংখ্যা প্রায় তিনশত। নাহার চা বাগানের উত্তরে নিরালা পানপুঞ্জি, দক্ষিণে লাংলিয়াছড়া, পূর্বে ভারতীয় সীমানা এবং পশ্চিমে হরিণছড়া। প্রায় দু'শ একর জায়গা নিয়ে নাহার পুঞ্জি অবস্থিত।
নাহারপুঞ্জির সহকারি পুঞ্জিপ্রধান (হেডম্যান) ডিবারমিন পতাং বলেন, ঘটনার পর থেকে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের একমাত্র রাস্তাটি ব্যবহার করতে দিচ্ছে না। ফলে পান, লেবু আমাদের কাচামালগুলো পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা।
লুকস পলং জানান, দিনে ৭০/৮০ টুকরি পান শ্রীমঙ্গলে বাজানে নিয়ে আমার বিক্রি করে থাকি। দু'দিন ধরে তাও পারছি না। আমরা খাবো কি? পান আমাদের প্রধান আয়ের উত্স।
বাঙলোতে পুলিশদের বিশ্রামযাপনের বিষয়টি জানতে চাইলে নাহার চা বাগানের ব্যবস্থাপক পীষুষ কান্তি ভট্টাচার্য বলেন, পুলিশ তো আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। উনারা আমাদের বাঙলোতে থাকছেন। তিনি আরো বলেন, নাহার চা বাগানের মোট আয়তন আট শত ৬৪ দশমিক ৮৫ একর। ২০১০ সালে খাসিয়াদের এই জাগয়া তাদের পুঞ্জিপ্রধান জাবেদা ইসলাম নাহার চা বাগান-কে ফেরত দিয়েছেন। খাসিয়ারা যে জায়গা দখল করে আছে সেটি বাগানের জায়গা।
[b]ঢাকা, ২ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]