নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারসহ সাত খুনের ঘটনার গণশুনানীর দ্বিতীয় দিনে সাক্ষ্য দিতে এসে নিহতের পরিবারের সদস্যরা আসামী গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এসময় নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা প্রকাশ করেন। র্যাব তাকে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, নূর হোসেনের ক্যাডাররা এখনও আছে। এখনও তাদের অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা হতে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সার্কিট হাউজে জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি গণশুনানীন শুরু করে। স্বাক্ষ্য দিতে সকাল থেকে লোকজন ভীড় করেছে। হাইকোর্টের নির্দেশে সরকার এ তদন্ত কমিটি গঠন করে। এর আগে ১২ মে গণশুনানীর প্রথম দিনে ৬জন সাক্ষ্য দিয়েছিলন।
শহীদুলের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট আনোয়ার লতিফ খান বলেন, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে র্যাবের নামে কেউ যদি এই ধরনের হুমকি দিয়ে থাকে, তা আমরা তদন্ত করে দেখব।
গত ২৭ এপ্রিল অপহৃত নজরুলসহ সাতজনের লাশ উদ্ধারের পর শহীদুল দাবি করেন, কাউন্সিলর নূর হোসেন ৬ কোটি টাকা দিয়ে র্যাবের মাধ্যমে এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে।
নূর হোসেন ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান জানানোর পর শহীদুল আবার অভিযোগ করেন, র্যাবের সহায়তায় পালিয়েছেন এই হত্যাকান্ডের প্রধান আসামি।
র্যাব তার বাহিনীর তিন কর্মকর্তা এবং নূর হোসেনকে বাঁচানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে শহীদুল অভিযোগ করে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খুনিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেয়ায় তাদের ওপর ভরসা রাখছেন শহীদুল। তবে দুই-এক দিনের মধ্যে গ্রেফতার না হলে আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যান।
এই হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠার পর র্যাব-১১ এর অধিনায়কসহ তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে আনার পর সামরিক বাহিনী থেকে তাদের অবসরে পাঠানো হয়। তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ রয়েছে হাইকোর্টের।
এদিকে, গণশুনানী চলাকালে নিহত নজরুল ইসলামের ভাই আবদুস সালাম তদন্ত কমিটিকে বলেছেন, এভাবে ডিসি অফিসের সার্কিট হাউজে এসে লোকজন সাক্ষ্য দিতে ভয় পায়। কারণ নূর হোসেনের ক্যাডাররা এলাকায় এখনো রয়েছে। তারা আশপাশে নজর রাখছে। অনেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলেও ভয়ে আসছেনা। তাই তদন্ত কমিটির উচিত ঘটনাস্থলসহ সিদ্ধিরগঞ্জে গিয়ে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা। একই দাবি জানিয়েছেন নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম।
নজরুলের ভাই আবদুস সালাম আরও জানান, র্যাবের সাবেক তিন কর্তাকে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গ্রেফতার না করা আদালত অবমাননার শামিল। আইনের সুস্পষ্ট লংঘন। আসামিদের গ্রেফতার করা না হলে কঠোর আন্দোলনসহ হরতাল ও অবরোধ দেওয়া হবে। এমনকি পূর্বাঞ্চল অচল করে দেয়া হবে।
অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ বিষয়ে গত ৫ মে হাইকোর্ট আদেশ দেন। সে অনুযায়ী ৭ মে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ শাহজাহান আলী মোল্লার নেতৃত্বে ৭ সদস্যের ওই কমিটির অপর সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব আবদুল কাইয়ুম সরকার ও আবুল কাশেম মো: মহিউদ্দিন, আইন ও বিচার বিভাগ ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মোস্তাফিজুর রহমান ও মিজানুর রহমান খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের উপসচিব শফিকুর রহমান ও সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার।
কমিটির কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, কমিটি গণতদন্তের মাধ্যমে অপহরণের পর হত্যার সঙ্গে প্রশাসনের কোন সদস্য বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা উদঘাটন করবে। অপহরণের খবর পাওয়ার সাথে সাথে অপহৃতদের জীবিত উদ্ধারে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোন অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ছিল কিনা তা নির্ণয় করবে।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন। পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। গত ৩০ এপ্রিল বিকালে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। গত ৩ মে নূর হোসেনের সিদ্ধিরগঞ্জের বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৬ জনকে গ্রেফতার এবং রক্তমাখা মাইক্রোবাস জব্দ করে।
[b]ঢাকা, এএইচ, ১৫ মে (টাউইমনিউজবিডি.কম)//কেবি [/b]
শ্রেণীহীন
‘আমি জীবন নিয়ে শঙ্কিত’
নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের ঘটনায় দ্বিতীয় দিনের গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছে সার্কিট হাউজে তদন্ত কমিটি গণশুনানি শুরু করে। শুনানিতে নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলামসহ নিহতদের আত্মীয়-স্বজনরা





