[b]চট্টগ্রাম:[/b] চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব কম আহরণ হয়েছে এককভাবে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে। হরতাল, অবরোধসহ টানা রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এ সময়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি বলে জানা গেছে। এছাড়া নতুন বছরের শুরুতেই রাজনৈতিক কর্মসূচি আরম্ভ হওয়ায় চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়েও শঙ্কিত শুল্ক কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে (২০১৩-১৪) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ২৫ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১১ হাজার ৯৮২ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১০ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা।
শুল্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজস্ব আহরণে ধসের কারণ ও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আহরণ করার কৌশল নির্ধারণে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। রাজস্ব আহরণের বর্তমান অবস্থা উত্তরণের উপায় খোঁজা হচ্ছে। তবে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বরং বড় ধরনের ঘাটতি নিয়েই শেষ হবে চলতি অর্থবছর।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ চন্দ্র বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, অর্থবছরের প্রথমার্ধে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার রাজস্ব কম আহরণ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে শুল্ক বিভাগের কর্মকর্তারা সপ্তাহে সাত দিনই কাজ করছেন। এছাড়া নতুন নতুন কর্মপন্থাও ঠিক করা হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে।
ব্যবসায়ীরা জানান, টানা অবরোধ-হরতালের কারণে আমদানিকৃত পণ্য বন্দর থেকে কারখানায় আনা, কারখানা থেকে বাজারে সরবরাহ এবং বিপণনের পুরো সরবরাহ চ্যানেল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় পণ্য আমদানিতে ঝুঁকি নিতে চাইছে না আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। রাজস্ব আহরণে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে লক্ষ্য ছিল ২ হাজার ১৬৬ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আহরণ হয়েছে ২ হাজার ১২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগস্টে ১ হাজার ৯৪৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয় ১ হাজার ৬৫৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে ১ হাজার ৯৯৯ কোটি ৮৫ লাখের বিপরীতে ১ হাজার ৮৮৩ কোটি ৬২ লাখ, অক্টোবরে ২ হাজার ৬৭ কোটি ৯৬ লাখের বিপরীতে ১ হাজার ৭৫০ কোটি ৩৫ লাখ, নভেম্বরে ২ হাজার ১০ কোটি ৪০ লাখের বিপরীতে ১ হাজার ৭৫০ কোটি ৩৫ লাখ এবং গত মাসে ১ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব আহরণ হয় ১ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর [/b]