নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের মালিকানাধীন পরিবহনের বাস থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার দিনগত রাত পৌনে একটায় সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল টেকপাড়া এলাকাতে থাকা নূর হোসেনের মালিকানাধীন এবিএস পরিবহনে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এসময় সেখান থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ তিনটি রিভলবার, শটগানের পাঁচ রাউন্ড কার্তুজ ও কিছু দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সিদ্ধরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন এ বিষয় জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযানে অনেক বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এর মধ্যে একটি বাসের চালকের পাশের সিটের নিচ থেকে এ সব অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সাত হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল থেকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত চলাচল করা নূর হোসেনের মালিকানাধীন এবিএস পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পরে বাসগুলো শিমরাইলের টেকপাড়া এলাকাতে হোসেনের বাড়ির পাশের একটি বালুর মাঠে রাখা হয়।
এর আগে গত ১৫ মে আদালতের নির্দেশে সিদ্ধিরগঞ্জে নূর হোসেনের বাড়ি থেকে অস্থাবর সম্পত্তি থেকে মালামাল ক্রোকের সময়ে আট রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, শটগানের আট রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছিল। এরও আগে উদ্ধার করা হয়েছিল বিপুল সংখ্যক ফেনসিডিল।
গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থেকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-২ নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, নজরুলের গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহৃত হন।
পরদিন ২৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী। কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান করে মামলায় আসামি করা হয় মোট ১২ জনকে। গত ৩০ এপ্রিল বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১ মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সবারই হাত-পা বাঁধা ছিল। পেটে ছিল আঘাতের চিহ্ন। প্রতিটি লাশ ইটভর্তি দুটি করে বস্তা বেঁধে ডুবিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে নূর হোসেন পলাতক রয়েছেন।
ইতোমধ্যে, সাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় র্যারবের চাকুরিচ্যুত তিনজন কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঢাকা, ২৭মে (টাইমনিউজবিডি) //জেডআই