টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, জেলা পরিষদ মূলত: অকার্যকর। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালীকরণ এবং ক্ষমতার সুষ্ঠু বন্টনের স্বার্থে জেলা পরিষদের নির্বাচন জরুরী। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছার অভাবে এবং আইন ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে জেলা পরিষদ নির্বাচন হচ্ছে না।
বুধবার সকাল ১১টায় রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন-এর মাল্টিপারপাস হলে টিআইবি প্রণীত ‌"স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় জেলা পরিষদ: সুশাসনের সমস্যা ও উত্তরণের উপায়" শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের এসব কথা বলেন তিনি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্যই মূলত: জেলা পরিষদ নির্বাচন দেয়া হচ্ছে না। একারণে জেলা পরিষদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্য থেকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার ফলে এটা রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হয়ে এখন ‘ঠুঁটো জগন্নাথ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় শাসন কুক্ষিগত করার কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হচ্ছে না। সংসদ সদস্যরা মনে করেন উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ শক্তিশালী হলে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হবে। তাদের ক্ষমতা কমে যাবে। এধারণা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বদ্ধমূল হওয়ায় জেলা পরিষদ নির্বাচন দিতে এতো অনীহা। কিন্তু গণতন্ত্র ও সুশাসন নিশ্চিত করণে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ দরকার। এক্ষেত্রে জেলা পরিষদ নির্বাচন অত্যাবশ্যক ভূমিকা পালন করতে পারে।
তিনি বলেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের যে চেতনা সে সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরিষ্কার ধারণা নেই। সে কারণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে সদিচ্ছার অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা পরিষদের মতো উপজেলা পরিষদে একই চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ইউএনও ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ত্রিমুখী এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিরসণে জেলা পরিষদ নির্বাচনের বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে সংসদ সদস্যরা পরামর্শকের ভূমিকা পালন করতে পারেন বিধায়ক হিসেবে নয়।
বর্তমানে পরোক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়োগের কথা থাকলেও তা কার্যকর নয়। ক্ষমতা দলীয়করণের জন্য জেলা পরিষদেরও একজন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
তিনি বলেন, জেলা পরিষদ শক্তিশালী হলে ক্ষমতা প্রয়োগের সমন্বয়হীনতার অবসান ঘটবে। ক্ষমতার সুষ্ঠু বণ্টনের পাশাপাশি বিকেন্দ্রীকরণ হবে। তাহলে স্থানীয় প্রশাসনও শক্তিশালী হবে।
গবেষনার মূল প্রতিবেদনের সারাংশ উপস্থাপন করেন টিআইবি’র গবেষণা ও পলিসি বিভাগের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাহিদ শারমীন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান, উপ নির্বাহী পরিচালক ড. সুমাইয়া খায়ের ও গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক রফিকুল হাসান।
[b]ঢাকা,জেইউ, ৯ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]