বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, স্বাধীনতা ও মহান বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে এসেও আমাদের প্রাপ্তির ফিরিস্তি খুব একটা সমৃদ্ধ হয়নি। সাম্যের পরিবর্তে বৈষম্য, ন্যায়বিচারের পরিবর্তে অবিচার, আইনের শাসনের পরিবর্তে জুলুমবাজী আর গণন্ত্রের পরিবর্তে স্বেচ্ছাতন্ত্র জাতির ঘাড়ে চেপে বসেছে। কেড়ে নেয়া হয়েছে গণমানুষের ভোটাধিকার।
তিনি বলেন, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও উদার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই আমরা সর্বাত্মক মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে মহান বিজয় অর্জন করেছি। এমতাবস্থায় দেশ ও জাতিতে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত করতে হলে দলমত নির্বিবেশে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং বীর শহীদদের স্বপ্নবাস্তবায়নে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
তিনি বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লার পরিচালনায় আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের কর্মপরিষদ সদস্য জামাল উদ্দীন প্রমুখ।
সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার দেশ পরিচালনায় সার্বিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। আমনের ভরা মওসুমে চালের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। পিঁয়াজের বাজারে কোন স্থিতিশীলতা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে অস্থির ও দুর্বিসহ করে তোলা হয়েছে। রাষ্ট্রাচারের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাট এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে চলেছে। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখন রাষ্ট্রীয় তহবিল তসরূপের অন্যতম অনুসঙ্গ। তাই দেশ ও জাতিকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সুস্থ, ইতিবাচক ও গণতান্ত্রিক রাজনীতি চর্চার পথ উন্মুক্ত করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না।
ইয়ুথ সোসাইটি, ঢাকা
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইয়ুথ সোসাইটি ঢাকার উদ্যোগে নগরীতে ফুটবল টুর্নামেন্ট ও পুরস্কার বিতরণী-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়। সোইটির সভাপতি ফজলে আহমদ ফজলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এবং পুরস্কার বিতরণ করেন বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রেটারি নামিজ উদ্দীন মোল্লা, ভিপি শাহাবুদ্দীন, জামায়াত নেতা আবুল আলা রিয়াদ ও আবুল আ’লা রিয়াদ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মহানগরী আমীর বলেন, ক্রীড়া-সংস্কৃতিচর্চা স্বাস্থ্যবান ও মননশীল জাতি গঠন এবং নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হয়। মূলত যুবসমাজকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত করতে হলে সুস্থ্যধারার ক্রীড়া-সংস্কৃতি চর্চাকে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। তাই প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ সৃষ্টিতে সরকার, ক্রীড়া সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, চ্যারিটি সংস্থা সহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ, শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
তিনি বলেন, আজকের দিনের যুবসমাজই আগামী দিনের জাতির ভবিষ্যৎ। ইসলামের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবসমাজই অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামসহ জাতির যেকোন ক্রান্তিকালে যুবসমাজ থেকেছে আপোষহীন। তাই ন্যায় ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজকে নেতৃত্বের জন্য যোগ্যতর করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি মহান বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আর্ত-মানবতার কল্যাণে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানান।
রামপুরা থানা উত্তর
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রামপুরা থানা উত্তরের উদ্যোগে এক বিজয় র্যালী অনুষ্ঠিত। র্যালিপূর্ব এক সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। র্যালিটি ফরাসী হাসপাতাল থেকে হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে রামপুরা ব্রিজে গিয়ে শেষ হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, থানা আমীর ফজলে আহমদ ফজলু, থানা সেক্রেটারি রাজিফুল হাসান বাপ্পী, জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমান, আবুল হাসনাত পাটোয়ারি, জহিরুল আলম স্বাধীন ও আবুল খায়ের প্রমূখ।
র্যালিপূর্ব সমাবেশের বক্তব্যে মহানগরী আমির বলেন, একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত সমাজই ছিল স্বাধীনতা ও মহান বিজয়ের ইপ্সিত লক্ষ্য। কিন্তু সে প্রত্যাশা আজও অনেকটা অধরাই রয়ে গেছে। আমাদের অনেক পরে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গপুরের মত এশিয়ার বিভিন্ন দেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও দেশগুলো অনেকদূর এগিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা কতখানি এগিয়েছি এখন সে হিসাব মেলানোর সময় এসেছে। আর জাতিকে এগিয়ে নিতে আগামী ৫০ বছর কী ধরনের কর্মপন্থা গ্রহণ করতে হবে এখনই তা নির্ধারণের সময়।
তিনি বলেন, মূলত, দেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচ্যুতির কারণেই আইনের শাসন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পায়নি। সংবিধানে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর আস্থা কথা বলা হলেও রাষ্ট্রাচারের কোন ক্ষেত্রেই সে প্রতিফলন নেই। মূলত, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধই হচ্ছে আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষাকবজ। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন তন্ত্রমন্ত্রের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জাতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কথিত উন্নয়নের ঢাকঢোল পিটিয়ে গণমানুষের ভোটের অধিকারকে পাশকাটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই দেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হলে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। তিনি ন্যায়-ইনসাফের ভিত্তিতে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
এমআর





