[b]ঢাকা:[/b] মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ইসলামী অর্থায়ন শিল্প। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছর এ শিল্পের আকার ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। আলহুদা সেন্টার অব ইসলামিক ব্যাংকিং অ্যান্ড ফিন্যান্সের প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ জুবায়ের মুঘল এ তথ্য জানান।
গত বছর ইসলামী অর্থায়ন শিল্পের আকার ছিল ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার, যা চলতি বছর ২ ট্রিলিয়নে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত বছরের মতো চলতি বছরও ইসলামী অর্থায়নের সর্বোচ্চ ৭৮ শতাংশই থাকবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের আওতায়। এর পরই থাকবে সুকুক (১৬ শতাংশ), তাকাফুল (১ শতাংশ), ইসলামী ফান্ড (৪ শতাংশ) ও ইসলামী ক্ষুদ্রঋণ (১ শতাংশ)।
অন্যদিকে গালফ নিউজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসলামী অর্থায়নের কেন্দ্রস্থল হয়ে ওঠার জন্য চলতি বছর দুবাই ও লন্ডনের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এর পাশাপাশি কুয়ালালামপুরও চলতি বছর এ তালিকায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে উঠে আসবে।
ইসলামী অর্থায়ন চলতি বছর মুসলিম অধ্যুষিত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়া, লিবিয়া, মরক্কো, সেনেগাল ও মৌরিতানিয়া। এছাড়া মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর বাইরেও এ অর্থনীতি ছড়িয়ে পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে।
এর পাশাপাশি চলতি বছর চীন ও ভারতও এ অর্থনীতির মাধ্যমে তাদের লেনদেন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ দেশ দুটিতে সব মিলিয়ে প্রায় ২০ কোটির ওপর মুসলমান রয়েছে, যারা নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে মিল রেখে ইসলামী অর্থনীতির মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন অর্থনৈতিক লেনদেন পরিচালনা করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে এ শিল্প তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তবে আরব বসন্তের কারণে তা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরব বসন্তের সময় রাজনৈতিক অস্থিরতায় মেনা অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ইসলামী অর্থায়ন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চলতি বছর এ অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
এ প্রসঙ্গে মুঘল আরো জানান, চলতি বছর এ শিল্পের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করবে সুকুক। অন্যদিকে চলতি বছরও তাকাফুল ব্যবস্থা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে সমর্থ হবে না বলে মনে করেন তিনি। তবে ইসলামী ক্ষুদ্রঋণ চলতি বছর বেশ ভালো ফলাফল দেখাবে। এরই মধ্যে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) এটিকে দারিদ্র্য দূরীকরণের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার বলে উল্লেখ করেছে।
তবে রাজনৈতিক ও ধর্ম বিরোধের কারণে এ বছর কিছু দেশে ইসলামী অর্থায়ন ভালো করবে না। এসব দেশের কাতারে থাকবে ইন্দোনেশিয়া ও নাইজেরিয়া। এখানে ইসলামী অর্থায়ন শিল্পটি মন্দার মধ্যে পড়বে। অবশ্য লাতিন আমেরিকার দেশগুলোসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ইসলামী অর্থায়ন সম্প্রসারিত হবে, যা এ শিল্পের টেকসই যাত্রাকেই নির্দেশ করে বলে মনে করেন মুঘল। সূত্র : অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
[b]টাইমনিউজবিডি/এসএমআর[/b]