সারা দেশে ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কে জানানোর মাসব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ।
শনিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠক শেষে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার
আগামী ২৭মে থেকে ২৭জুন পর্যন্ত ‘গণজাগরণ ঘরে ঘরে’ নামের মাসব্যপী এই কর্মসূচি পালন করবেন মঞ্চের নেতাকর্মীরা।
ইমরান বলেন, “মূলত গণজাগরণ মঞ্চ ঘোষিত ছয় দফা দাবির জন্য জনমত তৈরি করতে এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার ব্যবস্থা জাতির সামনে তুলে ধরতেই এ কর্মসূচি। পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের ‍তাণ্ডব মোকাবেলার জন্য জনগণকে সচেতন করা হবে।”
এর আগে মঞ্চের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা হয়।
সেখানে ইমরান বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চ সম্পর্কে নানাভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সুপরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে গণজাগরণ মঞ্চ তার ছয় দফা দাবি থেকে সরে এসেছে কি না।
“তাদের বলতে চাই গণজাগরণ মঞ্চ যেদিন ছয় দফা থেকে পিছিয়ে আসবে সেদিন আমি আর গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র থাকবো কি না ভেবে দেখবো।”
মানবাধিকার কর্মী খুশী কবীর বলেন, “অনেকে প্রশ্ন করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান থাকবেন কি না। আমি তাদের প্রশ্ন করতে চাই, ইমরান থাকবেন না কেন? ইমরান গণজাগরণ মঞ্চের একটা ফেইস। সে থাকবে।”
শিক্ষাবিদ অজয় রায় বলেন, “মঞ্চকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। কারণ গণজাগরণ মঞ্চ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৈরি হয়েছিল।”
ইমরানকে উদ্দেশ করে তিনি  বলেন, “আপনারা অনেকেই একসঙ্গে কাজ করেছেন। ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতেই পারে। যারা পুরনো সহকর্মী আছেন, তাদের আবার নিয়ে আসুন।”
সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, “যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে ক্ষীণ রাজনৈতিক স্বার্থের হীনখেলা বন্ধ করতে হবে। একজন চিকন আলীকে ফাঁসি দিয়ে অন্য মোটা আলীদের বিচার নিয়ে টালবাহানা ঠিক না। জামায়াতের সঙ্গে ইঁদুর বিড়াল খেলা করা যাবে না।
“বিএনপিকে জামায়াতের হাত ছাড়তে হবে। আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকেও ওয়াদা করতে হবে যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সঙ্গে কোনো আপোস নয়।”
আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জোরালো হয়েছে। এখন গণজাগরণ মঞ্চের দাবি বাস্তবায়ন করতে এটিকে প্রতিষ্ঠানিকভাবে রূপ দিতে হবে।
[b]ঢাকা,২৫ শে মে (টাইম নিউজবিডি.কম)/কেএ[/b]