[b]ঢাকা:[/b] বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের চলমান হরতালের সময় আরো ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। টানা ৬০ ঘণ্টার এ হরতাল চলবে আগামী বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
একইসাথে আগামী ১০ জানুয়ারি শুক্রবার নিহতদের স্মরণে মসজিদে দোয়া, মন্দির ও গির্জায় প্রার্থনা এবং ১১ তারিখ শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘সরকারকে বলবো এখনও সময় আছে প্রহসনের নির্বাচন বাতিল করে নিদর্লীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন’।
সেলিমা রহমান বলেন, ‘বিতর্কিত প্রহসনের নির্বাচন প্রত্যাখান করায় বিএনপির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের দিন আওয়ামী ক্যাডার ও যৌথবাহিনী বিএনপি তথা ১৮ দলের ২৪ জন নেতাকর্মীকে  হত্যা করেছে। যৌথবাহিনীর ভূমিকা দেখে মনে হয়, তারা কী এই দেশের নাকি ভিন্ন কোন গ্রহের’।
জাল ভোট ও পেশী শক্তির উত্থান দেখে নির্বাচনের দিন ২৪জন স্বতন্ত্রপ্রার্থী নির্বাচন বয়কট করেছে’ বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও কোন আসনের ভোট হয়নি। প্রায় অভিন্ন চিত্র সারাদেশে। ভোটের দিন সকালে গণমাধ্যম বলেছে ভোট কাষ্ট হয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। কিন্তু বিকেলে তা বেড়ে যায়। যদিও কোন ভোটার ছিলো না। পরবর্তীতে ইসি থেকে বলা হয় ৪০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট কাষ্ট হয়েছে। এ যেন আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো।    
সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বিএনপির এই সহ-সভাপতি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে  তামাশা করা হয়েছে। সরকার বলছে সন্তুষ্টিজনক নাকি হয়েছে ভোটার উপস্থিতি অথচ সারাদেশে ভোটার উপস্থিতি  ছিল না বললেই চলে। ভোট পড়েছে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ’।
সেলিমা রহমান বলেন, ‘গণভবনে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জাতি হতাশ। তিনি সন্ত্রাস দমনের নামে  বিরোধীদলের ন্যায আন্দোলনকে দমন করার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে  তুলবে। সরকার দলীয় মন্ত্রীদের সম্পদ বাড়ানো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে শুধু জনগণ বিস্মিত   হয়নি। এতে করে তিনি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছেন।  
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সাধারণনত সংখ্যালঘুদের ওপর আওয়ামী লীগের লোকজন হামলা চালায়। খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে ১৮ দলের সকল নেতাকর্মীদেরকে  সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকা  ভিত্তিক পাহারার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন তিনি।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেলিমা রহমান বলেন, ‘সারাদেশে দেশবাসীর স্বতঃপূর্তভাবে ১৮ দলের  কর্মসূচী পালন করলেও ঢাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া উপস্থিতি থাকায় কিছু কিছু জায়গায় গাড়ী চলছে’।  
বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়তে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘উনার সাথে রাজাকার  গেল মুক্তিযুদ্ধা হয়ে যায়। তার সঙ্গে যারা গেছে, তারা দেশপ্রেমিক। কিন্তু দেশবাসী ভোট না  দেওয়া এখনও সবাই   রাজাকার হয়ে গেছে’।
এই সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম।
এর আগে রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনের ফলাফল বাতিল, যৌথবাহিনীর হামলায় দলীয় নেতাকর্মী নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ও অবৈধ সরকারের পতনে দাবীতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের পাশাপাশি সোমবার ভোর ৬টা থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসুচি ঘোষনা করেন।