ভোটার তালিকা হালনাগাদের প্রথম দফায় দেশের ১৮১ টি উপজেলায়  কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা কমপ্লেক্সে সকাল  ১১ টায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের    উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ।
এসময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিব উদ্দিন আহমদ বলেন, যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে বা তার আগে এবং যারা ইতোপূর্বে ভোটার হতে পারেননি তাদের এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য প্রতিটি এলাকায় নিবন্ধন কেন্দ্র থাকবে। তথ্য সংগ্রহকারীরা এ সময়ে প্রত্যেকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার হওয়ার যোগ্যদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। আর ভোটার হওয়ার যোগ্য কেউ বাদ পড়লে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত হতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা পরিপত্র অনুযায়ী,    ভোটার তালিকা হালনাগাদের পাশাপাশি একই সঙ্গে তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটার তালিকা হতে মৃতদের নাম বাদ দেয়ার জন্য বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করবে। সুপারভাইজাররা এ তথ্য যাচাই বাছাই করবেন।
এদিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে ভোটার হওয়ার যোগ্য কেউ বাদ পড়লে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার নিবন্ধন কেন্দ্রে গিয়েও ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারবেন। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৬ মে থেকে ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রত্যেক কেন্দ্রে গড়ে ১০ দিন ভোটার নিবন্ধন করা হবে।
সারাদেশে ৪ হাজার ৫৮৩ ইউনিয়ন পরিষদসহ পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড ও সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এর মধ্যে প্রতি ইউনিয়ন ও ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় ১টি করে, প্রতি পৌরসভায় ১ থেকে ২টি, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি ওয়ার্ডে ১টি কেন্দ্র স্থাপনসহ প্রথম পর্যায়ে সারাদেশে ১ হাজার ৮শ’ কেন্দ্রে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে ৮৫০ জন নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি ধরে প্রথম দফায় ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হবে শুধু তারাই নতুন ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত হবেন। অর্থাৎ যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ সালে বা তার আগে এবং যাঁরা ইতোপূর্বে ভোটার হতে পারেননি তাঁদেরই এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর আগে যাঁরা ভোটার হয়েছেন অথবা ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাঁদের নতুন করে ভোটার হওয়ার প্রয়োজন নেই। অথবা যাদের পরিচয়পত্র হারিয়ে গেছে তাদের হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটার হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই।
ভোটার হওয়ার জন্য বয়স প্রমাণে জন্ম নিবন্ধন বা পরীক্ষার সনদপত্র বিবেচিত হবে। তবে কমিশন থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে ১৮ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত কেউ যদি বয়স বাড়িয়ে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন তাহলেও জাতীয় পরিচয়পত্রেও ভুল জন্ম তারিখ থাকবে। পরীক্ষার সনদপত্র, পার্সপোর্ট ইত্যাদির সঙ্গে জন্ম তারিখের গরমিলের কারণে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।
প্রথম দফায় ১৮১টি উপজেলায় বহস্পতিবার ( ১৫ মে) শুরু হয়ে আগামী ২৪ মে পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় দফায় ১৭১টি ও তৃতীয় দফায় ১৯৪টি এলাকায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে।  
[b]ঢাকা, এএম, ১৫ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)//এসএইচ[/b]