ঢাকা: তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই রায় প্রদানকারী আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।
ওই রায়ের উপর ভিত্তি করে সংশোধিত সংবিধানের আলোকে অনুষ্ঠিত নির্বাচন প্রধান বিরোধী দল বয়কটের পর বুধবার এক সেমিনারে ওই রায় বিষয়ে কথা বলেন আলোচিত এই বিচারক।
বর্তমানে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে থাকা এই বিচারপতি বলেন, আমরা ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি। কারণ আমাদের সংবিধান ও আইন তিনমাসের জন্য জনগণের শাসন সমর্থন করে না।
“গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্থ করাতো নয়ই, প্রবাহমান রাখাই ছিলো এই রায়ের একমাত্র উদ্দেশ্য। রায়টি পড়লেই এটা বুঝতে পারবেন।
সংবিধানে বলা হয়েছে, জনগণই দেশের একমাত্র মালিক। জনগণের ইচ্ছা অনুসারে এই দেশ পরিচালিত হবে।”
তিনি বলেন, জনগণের সার্বভৌমত্ব চিরবহমান। এটা একদিনের জন্যও স্থগিত রাখা যায় না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জনএফ কেনেডিকে যখন হত্যা করা হয়, তখন ভাইস প্রেসিডেন্ট জনসন একটা প্লেনে ছিলেন। তাকে ওয়ারলেসে শপথ পড়ানো হয়। তাকে আধাঘণ্টাও সময় দেয়া হয় নাই।
আইন কমিশনের একটি সেমিনারের প্রশ্নোত্তর পর্বে খায়রুল হক এ সব কথা বলেন।
খায়রুল হক বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর যারা হামলা করছে, তারা দুষ্কৃতিকারী। তাদের কোন রাজনৈতিক পরিচয় আছে আমি স্বীকার করি না। তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত।
“সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসাবে, মুসলমান হিসাবে আমি লজ্জিত।”
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এবং পরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেভাবে নিগৃহিত ও নির্যাতিত হচ্ছে, তা খুবই দুঃখজনক। আমরা এমন একটি দেশে বাস করি, যেখানে আমাদের প্রতিবেশীর কোন সুরক্ষা নেই। দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসাবে আমি লজ্জিত।
সেমিনারে ‘বৈষম্য বিলোপ আইন-২০১৪’ নামে একটি খসড়া আইন উপস্থাপন করেন প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা ফওজুল আজিম। ওই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি খায়রুল হক। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানও বক্তব্য রাখেন।
শ্রেণীহীন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে বাধ্য হয়েছি: খায়রুল হক
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্বলিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই রায় প্রদানকারী আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক।





