প্রধানমন্ত্রী শেখ ‍হাসিনা বলেছেন, 'আমাদেরই দলের নেতা খন্দকার  মোশতাক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। তার সঙ্গে জড়িত ছিলেন খুনি কর্নেল ফারুক। বিবিসিতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন- বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে, কে এই হত্যার বিচার করবে? তার সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন যে বঙ্গবন্ধু হত্যায় মেজর জিয়ারও সায় ছিলো।'
মঙ্গলবার শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের উপর আনীত শোক প্রস্তাবের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নাসিম যে আত্মত্যাগ করেছেন তা চিরদিন স্মরণ করবো। তার অবদানের প্রতিদান কখনো শোধ করা যাবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করতে এসে অপরাধ করেনি এমন লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। কিন্তু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে এই অপরাধকে অনেক বড় করে লেখা হয়। অথচ একই ধরনের অপরাধ করলেও অনেকের বিরুদ্ধে কিছুই লেখা হয় না।
তিনি বলেন, এই পরিবারটি (ওসমান পরিবার) বারবার আক্রমণের শিকার হয়েছে। একাত্তর, পঁচাত্তর এবং তার আগে ইয়াহিয়া খান ও আইয়ুব খানের আমলেও তারা হামলার শিকার হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবারের বিরুদ্ধে অনেকেই সমালোচনা করেন। তাদের বিরুদ্ধে সামান্য অপরাধগুলোকেও বড় করে দেখেন। অথচ একই ধরনের অপরাধ অন্যরা করলে সেটিকে ততটা বড় করে দেখা হয় না। এই পরিবারের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। রাজনৈতিকভাবে আমরা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলাম। কারণ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠায় এই পরিবারের অবদান ছিল অনেক বেশি।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৬ ডিসেম্বর যখন হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করে নাসিম ওসমানের বাবা জোহা কাকা সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডির ১৮ নং বাড়িতে চলে এসেছিলেন। যে বাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে আটকে রেখেছিল পাক হানাদার বাহিনী। জোহা কাকা কয়েকজনকে নিয়ে ওই বাড়ির সামনে যান। সেখানেও যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকবাহিনীর লোকেরা তার ওপর গুলি চালায়। তিনি আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু একাত্তরে নয়, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে হত্যার পর আমরা যখন অসহায় অবস্থায় ছিলাম। তখনও এই পরিবার আমাদের পাশে ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর আমরা ভারতে এসেছিলাম।  আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় ছিল না। কিন্তু জোহা কাকা আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন তখন। ১৫ আগস্ট যেদিন জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়। তার আগের দিন নাসিমের বিয়ে ছিল। কামালসহ আমাদের পরিবারের সদস্যরা ওই বিয়েতে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পরদিন যখন বঙ্গবন্ধুসহ পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা করা হয় ওইদিন নাসিম নববধূকে ফেলে রেখে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ নিতে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিল।
এসময় প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজনে নাসিম ওসমানের ছেলেমেয়েদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেবেন বলে জানান। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে বেহেস্ত নসিব করুক। এই দোয়া করি।
[b]ঢাকা, ৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ[/b]