নবম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ শুক্রবার। নবম জাতীয় সংসদ বহাল নাকি এর মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে এমনই এক বিতর্কের মধ্য দিয়ে শুক্রবার সাংবিধানিকভাবে শেষ হচ্ছে জাতীয় সংসদের মেয়াদ। একই সঙ্গে শতাধিক আসনে দু’জন করে এমপি থাকার জটিলতাও কেটে যাচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য মতে,বিভিন্ন দাবিতে প্রধান বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ৩৪২ কার্যদিবস সংসদের বাইরে ছিলেন। বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া অনুপস্থিত ছিলেন ৪০৮ দিন। যে ১০ দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন তখন মোট ৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট বক্তব্য রাখেন।
সর্বোচ্চ কার্যদিবসের মাইলফলক স্পর্শ করার পাশাপাশি সংসদে প্রথমবারের মতো স্পিকার পদে ‘একজন নারীকে’ নির্বাচিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সংসদ উপনেতা ও হুইপ পদেও দু’জন নারীকে মনোনীত করা হয়। সংরক্ষিত আসনের সদস্য সংখ্যা ৪৫ থেকে উন্নীত করে ৫০ জন করা হয়েছে। ২৭১টি আইন পাস করে অতীতের রেকর্ড অতিক্রম করেছে;এর মধ্যে বেসরকারি তিনটি বিল ছিল।
নবম জাতীয় সংসদেই সংশোধন করা হয় সংবিধানের বহুল আলোচিত পঞ্চদশ সংশোধনী। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি। এছাড়া মাত্র চার মিনিটে চারশ’ বছরের পুরনো ঢাকা সিটি করপোরেশন বিভক্তি,দুদক বিল,সন্ত্রাস দমন বিল,গ্রামীণ ব্যাংক বিল,আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অ্যামেডমেন্ট অ্যাক্ট,শ্রম আইন,পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ বিল,তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিল,ডিমিউচুয়ালাইজেশন বিল,আরপিও সংশোধন,রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল দায়মুক্তি বিল,মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) বিল,কোম্পানি আইন,তথ্য অধিকার আইন,নিরাপদ খাদ্য বিল,অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়।
নবম জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি,যা শেষ হয় গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর ১৯তম অধিবেশনের মধ্য দিয়ে।
এদিকে নবম জাতীয় সংসদের যেসব সংসদ সদস্য দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হতে পারেননি তাদের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ সদস্য ভবন (ন্যাম ফ্ল্যাট) ছেড়ে দিতে বলেছে সংসদ সচিবালয়।

[b]ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি(টাইমনিউজবিডি)// জে আই[/b]