[b]ঢাকা:[/b]  গেলো ৫ জানুয়ারির একতরফা ভোটারবিহীন নির্বাচনে প্রার্থীদের দেয়া বার্ষিক আয় ও সম্পদের বিবরণী নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে কমিশনের গঠিত একটি কমিটি প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে। খবর বিবিসির।
কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন,সম্পদের বিবরণীর বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের সম্পর্কে যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে তদন্তের সময় সেগুলো গুরুত্ব পাবে।
আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি গড়ে তাদের আয় ৫৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের আয় বেড়েছে ৮৪২২ শতাংশ,পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের ৮০০৭ শতাংশ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ২০৩৬ শতাংশ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফছারুল আমিনের ২৪৮০ শতাংশ"
সংস্থাটির কমিশনার মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেছেন, যারা হলফনামা আকারে তথ্য দিয়েছেন তাদের মধ্যে থেকে বাছাই করে তারা তদন্ত করে দেখবেন তাদের আয় ও সম্পদের উৎস বৈধ কি-না।
তিনি বলেন,নবম সংসদের সদস্যদের নিয়ে পত্রিকায় যা এসেছে সেগুলো একটি কমিটি যাচাই বাছাই করছে। একটি তদন্ত করার জন্য কমিশন নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন,আমরা দেখবো হলফনামায় দেয়া সম্পদ জ্ঞাত আয় কি-না। দুর্নীতির ব্যাপারে জনগণের ধারণা যাদের বিরুদ্ধে বেশি তাদের নিয়েই প্রাথমিক ভাবে কাজ শুরু করবো।
শাহাবুদ্দিন আরও বলেন,হলফনামা যারা দিয়েছেন তাদের বাইরেও কিছু রাজনীতিক,ব্যবসায়ী ও আমলার বিষয়েও একই ধরনের তদন্ত করবে কমিশন।”
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201401/1389749206.jpg[/img]
এমপি প্রার্থী হওয়ার সময় হলফনামায় দেওয়া সম্পদের বিবরণ প্রকাশিত হলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে এমন একটি সংগঠন সুজনের একজন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার সরকার বলছেন,তারা গত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৪৮ জন যারা এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাদের ২০০৮ ও এবারের নির্বাচনের সময় দেয়া হলফনামা পর্যালোচনা করেছেন।
তিনি বলেন,সুজনের পক্ষ থেকে আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি গড়ে তাদের আয় ৫৮২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের আয় বেড়েছে ৮৪২২ শতাংশ, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের ৮০০৭ শতাংশ, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ২০৩৬ শতাংশ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আফছারুল আমিনের ২৪৮০ শতাংশ।”
আমরা দেখবো হলফনামায় দেয়া সম্পদ জ্ঞাত আয় কি-না। দুর্নীতির ব্যাপারে জনগণের ধারণা যাদের বিরুদ্ধে বেশি তাদের নিয়েই প্রাথমিক ভাবে কাজ শুরু করবো।
সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এসব ব্যক্তিদের দেয়া তথ্য পর্যালোচনা ও তদন্ত করে অবৈধ আয়ের সন্ধান পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া জরুরী বলে মনে করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন,আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিচারের কাঠগড়ায় আনা দরকার। দুর্নীতি দমন কমিশন সেটা পারে যদি কারো আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়। এর বাইরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডেরও এখতিয়ার রয়েছে এবং কেউ তদন্তে দোষী হলে নির্বাচন কমিশনও ব্যবস্থা নিতে পারে।”
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের মন্ত্রীসভার অন্তত ৩৫ জন ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত নতুন মন্ত্রীসভায় স্থান পাননি।
যাদের অনেকেরই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় হলফনামায় দেওয়া সম্পদ এবং আয়ের বিবরণী নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিলো।
যদিও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা এ দুটি বিষয়ে মধ্যে কোন যোগসূত্র রয়েছে এটি স্বীকার করতে রাজী হননি।