দুই পাশে জড়ো হয়েছে অনেক মানুষ। মাঝখানে কাঁটাতারের বেড়া। তাঁরা সবাই একে অন্যের স্বজন। কিন্তু থাকেন দুই দেশে। বেড়ার একপাশে ভারত, অন্যপাশে বাংলাদেশ। কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে কেউ কেউ আঙুল দিয়ে ছুঁয়ে দেখছেন স্বজনদের। কেউবা একে অপরের দিকে ছুড়ে মারছেন খাবারের প্যাকেট। পরিচিতজনদের দেখে কেউ হাসছেন, কেউবা কাঁদছেন আনন্দে।
সোমবার এভাবেই পঞ্চগড়ের অমরখানা সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছে এপার বাংলা-ওপার বাংলার মানুষদের মধ্যে আয়োজন করা হয় মিলনমেলার। মিলনমেলা চলে বেলা ১১টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এই  মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।
জানা যায়, দুই দেশের সাধারণ লোকজন যাঁরা অর্থাভাবে পাসপোর্ট-ভিসা করতে পারেন না, তাঁরা এই দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। বাংলা নববর্ষে তাঁরা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করেন।
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর তাঁদের অনেক আত্মীয়স্বজন ভারতীয় অংশে পড়েন। এতে তাঁদের নিয়মিত দেখা হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে তাঁরা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অলিখিত সম্মতিতে প্রতিবছর বাংলা নববর্ষে সীমান্তবর্তী এলাকায় এসে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান।
ভারতের শিলিগুড়িতে থাকা আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসা পঞ্চগড়ের আইয়ূব আলী জানান, ‘প্রতিবছর বাংলা নববর্ষে ওপার বাংলায় থাকা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করি, তাঁদের খোঁজ খবর নিই।’
স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে আসা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এই দিনে আমরা সীমান্তের জিরো লাইনে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করি। টাকার অভাবে পাসপোর্ট-ভিসা করতে না পেরে এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করি। দেশ বিভক্তির পর অনেক আত্মীয়স্বজন ভারতের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এলাকায় পড়ে যাওয়ায় এই দিনে আমরা তাঁদের খোঁজখবর নিই।’
মিলনমেলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির গোমস্তাপুর থেকে এসেছেন সইমউদ্দিন (৬০), আর তেঁতুলিয়ার কলিমজোত থেকে এসেছেন ইছাহাক আলী। তাঁরা দুজনই ভাই। আজ ৪২ বছর পর তাঁদের দেখা হলো। তাঁরা জানান, ‘পাসপোর্ট ভিসা করিবার পাইসা নাই। বছরে অন্তত একটা দিন এ রকম কইরলে ভালো হয়।’
তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার জানান, ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির কারণে অনেকেরই আত্মীয়স্বজন দুই দেশে থেকে গেছেন। তিনি প্রতিবছর পয়লা বৈশাখে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ অব্যাহত রাখার জন্য বিএসএফ ও বিডিআরের প্রতি আহ্বান  জানান।
ভারতের খালাপাড়া ক্যাম্পের (কোম্পানি কমান্ডার) এ এস সিখাওয়াত বলেন, ‘আমরা স্থানীয় মানুষের অনুরোধে বিজিবির সঙ্গে আলোচনা করে এ উদ্যোগ নিয়েছি।’
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তা (অপস অফিসার) মেজর এ টি এম নাজমুল হুদা জানান, স্থানীয় মানুষের অনুরোধে ও বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা করে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে জিরো লাইনে স্বল্প সময়ের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া  হয়েছে।’
[b]ঢাকা, ১৪ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]