গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাচনে সরকার দলের প্রভাবে ফল জালিয়াতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। তাদের অভিযোগ সরকার দলীয় প্রার্থী সরওয়ার কবিরের (ঘোড়া মার্কা) বিরুদ্ধে। তিনি ও তাঁর কর্মী সমর্থক প্রচার করছেন দিন শেষে ভোটের বাক্স ছিনতাই করবেন অথবা ভোট গণনার সময় ফলাফলে প্রভাব খাটাবেন।
অন্যদিকে টাকা দিয়ে ভোট ক্রয় ও ভোটারদের প্রভাবিত করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে মোট ১১ জনকে জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। কমপক্ষে ৬ মাসের জেল ১০-১২ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে তাদের। জেল ও জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোপাল চন্দ্র।
সূত্রে জানা গেছে,সরকার দলীয় সমর্থক (ঘোরা মার্কা) সরওয়ার কবির ও জাতীয় পার্টির আব্দুর রশিদ সরকারের সমর্থকদের এই জরিমানা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তৃতীয় দফার উপজেলা নির্বাচনে গাইবান্ধা জেলায় মোট ২ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়েছে। জেলা সদরের ১৩ ইউনিয়নে এবার মোট ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ৪৬ জন ভোটারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
নির্বাচনকেন্দ্রীক জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সতর্কতামূলক নজরদারী লক্ষ্য করার মতো। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায় নি।
তবে দুপুরে জেলা শহরের ডেভিট কোম্পানীপাড়ায় একটি ভোট সেন্টারে ভোটারদের প্রভাবিত করার খবর পাওয়া গেছে। সরকার দল সমর্থিত প্রার্থী সরওয়ার কবিরের পক্ষের নেতাকর্মীরা ভোট সেন্টারে গিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করে।
সদর উপজেলার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল করিম (দোয়াত কলম মার্কা) এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়। এজন্য সরওয়ার কবিরের ৪ সমর্থককে ৬ মাস করে জেল ও অনাদায়ে ১০ হাজার করে টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
শহরের অপর একটি ভোট কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে আব্দুর রশিদ সরকারের ৩ সমর্থককে জেল-জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।
অন্যদিকে সরকার দল সমর্থক সরওয়ার আলম প্রভাব খাটিয়ে ভোটের ফলাফল জালিয়াতি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কয়েকজন প্রার্থী।
আব্দুর রশিদ সরকার টাইম নিউজবিডি’র কাছে অভিযোগ করে জানান,সরকারি প্রভাব খাটিয়ে সরওয়ার কবির প্রচারণা বন্ধ স্বত্ত্বেও গতকালও প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি টাকা দিয়ে সরাসরি ভোট কেন্দ্রে ভোট কেনার চেষ্টা করছেন। ভোটের সময় শেষে ভোট বাক্স ছিনতাই করতে পারে। অথবা ভোটের ফলাফলে গড়িমসি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল করিম (দোয়াত কলম মার্কা) টাইম নিউজবিডিকে জানিয়েছেন,এখন পর্যন্ত প্রশাসনিক তৎপরতা সন্তোষজনক। কোনো সমস্যা না হলে আমার বিজয় ইনশাল্লাহ নিশ্চিত। তবে সরকার দল সমর্থক প্রার্থী সরওয়ার আলমের লোকজন বলে বেড়াচ্ছেন যে,ভোটের বাক্স ছিনতাই করা হবে। নইলে ভোট গণনার সময় ভোট কমবেশি করে দেখিয়ে পাশ করানো হবে। এব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসনকে অবহিত করেছি। তারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এরকম কিছু ঘটবে না।
এব্যাপারে এএসপি (সদর থানা) মোশাররফ হোসেন জানান,সদরে ১৩ ইউনিয়নে মোট ১৯৭ টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সারাদিনে এখনো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। পুলিশের পাশাপাশি র্যা ব,বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে। ভোট জালিয়াতি কিংবা প্রভাবিত করার কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যেক ভোট কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী অফিসারগণ ভোট গণনা করে প্রত্যেক প্রার্থীর এজেন্টদের কাছে লিখিত ভোটের হিসাব জানিয়ে উপজেলা অফিসে আসবেন। সেখানে মোট ভোটের গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
[b]ঢাকা, জেইউ, ১৫ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ[/b]